আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি)
দুপুরে চাঁদপুর শহরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ
বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অপর এক বিশাল সমাবেশে যোগ দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট
শাহজাহান মিয়ার সমর্থনে এই জনসভার
আয়োজন করা হয়। এই নির্বাচনী সমাবেশে এই
কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা
যাঁরা আল্লাহকে ভয় করি, তাঁরা আমাদের মাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। আমাদের
মায়ের গায়ে হাত তুললে সেই হাত সুস্থভাবে ফিরিয়ে দেব না। আর একটিবার যেন আমার মায়ের
গায়ে হাত না তোলা হয়।’
চৌদ্দগ্রামের
জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে বেলা ১১টার দিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায়
আয়োজিত চাঁদপুর-৪ আসনের (ফরিদগঞ্জ) নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য
রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। উক্ত আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর সমর্থনে
আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গোলাম পরওয়ার তাঁর বক্তব্যে
গত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কঠোর বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, "বাংলাদেশের
মানুষ বারবার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখলেও প্রকৃত মুক্তি আসেনি। বিগত কয়েক দশকে
প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দল পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় আসীন হয়েছে, কিন্তু জনগণের ভাগ্যের
চেয়ে নিজেদের উন্নয়ন আর দুর্নীতিতেই তারা মগ্ন ছিল।" তিনি আরও যোগ করেন যে,
ক্ষমতার পালাবদল হলেও শাসন ব্যবস্থার যে গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল, তা করতে
পূর্ববর্তী সরকারগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য
নেতৃত্বকে বিজয়ী করে সত্যিকারের একটি মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান
তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি
জেনারেল বলেন, ‘বাংলাদেশের পরে অনেক দেশ স্বাধীন হয়ে উন্নতি করেছে। তাঁরা প্রশ্ন
করেন, দেশের এই অবস্থা কেন? কারণ, ওই তিনটি দল সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ ও দুর্নীতির
আশ্রয় নিয়েছে। বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপসহ সবকিছুতেই দলীয়করণ করা হয়েছে।
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে। দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে
তারা নির্মম ও ঘৃণ্যভাবে নিজেদের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।‘
গোলাম
পরওয়ার আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যাঁরা এ দেশের মানুষকে হত্যা, নির্যাতন ও
অত্যাচার করছে, তাঁদের এখনই রুখে দিতে হবে। আর কত মানুষ জীবন দেবে? ছয় বছরের শিশু
থেকে বৃদ্ধ—অনেকেই দেশের পরিবর্তনের জন্য জীবন দিয়েছেন। আর জীবন নয়। আসন্ন জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিজয়ী করতে
হবে।‘
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী জনসভাটি মাওলানা
বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর সভাপতিত্বে এক অনন্য রূপ লাভ করে। সভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়
ছাত্র নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। প্রধান বক্তাদের পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস মো. মাজহারুল ইসলাম তাঁদের
বক্তব্যে তারুণ্যের শক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল স্থানীয়
স্তরে ভোট রক্ষার শপথ পাঠ করান। মেধাবী ছাত্রনেতাদের এই অংশগ্রহণ ফরিদগঞ্জের রাজনৈতিক
মাঠে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
বিষয় : ক্ষমতা বাংলাদেশ গোলাম পরওয়ার
.png)
বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি)
দুপুরে চাঁদপুর শহরের হাসান আলী সরকারি উচ্চ
বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অপর এক বিশাল সমাবেশে যোগ দেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।
চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট
শাহজাহান মিয়ার সমর্থনে এই জনসভার
আয়োজন করা হয়। এই নির্বাচনী সমাবেশে এই
কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা
যাঁরা আল্লাহকে ভয় করি, তাঁরা আমাদের মাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। আমাদের
মায়ের গায়ে হাত তুললে সেই হাত সুস্থভাবে ফিরিয়ে দেব না। আর একটিবার যেন আমার মায়ের
গায়ে হাত না তোলা হয়।’
চৌদ্দগ্রামের
জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে বেলা ১১টার দিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায়
আয়োজিত চাঁদপুর-৪ আসনের (ফরিদগঞ্জ) নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য
রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। উক্ত আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর সমর্থনে
আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গোলাম পরওয়ার তাঁর বক্তব্যে
গত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কঠোর বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলেন, "বাংলাদেশের
মানুষ বারবার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখলেও প্রকৃত মুক্তি আসেনি। বিগত কয়েক দশকে
প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দল পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় আসীন হয়েছে, কিন্তু জনগণের ভাগ্যের
চেয়ে নিজেদের উন্নয়ন আর দুর্নীতিতেই তারা মগ্ন ছিল।" তিনি আরও যোগ করেন যে,
ক্ষমতার পালাবদল হলেও শাসন ব্যবস্থার যে গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল, তা করতে
পূর্ববর্তী সরকারগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য
নেতৃত্বকে বিজয়ী করে সত্যিকারের একটি মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান
তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি
জেনারেল বলেন, ‘বাংলাদেশের পরে অনেক দেশ স্বাধীন হয়ে উন্নতি করেছে। তাঁরা প্রশ্ন
করেন, দেশের এই অবস্থা কেন? কারণ, ওই তিনটি দল সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ ও দুর্নীতির
আশ্রয় নিয়েছে। বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপসহ সবকিছুতেই দলীয়করণ করা হয়েছে।
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে। দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে
তারা নির্মম ও ঘৃণ্যভাবে নিজেদের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।‘
গোলাম
পরওয়ার আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যাঁরা এ দেশের মানুষকে হত্যা, নির্যাতন ও
অত্যাচার করছে, তাঁদের এখনই রুখে দিতে হবে। আর কত মানুষ জীবন দেবে? ছয় বছরের শিশু
থেকে বৃদ্ধ—অনেকেই দেশের পরিবর্তনের জন্য জীবন দিয়েছেন। আর জীবন নয়। আসন্ন জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিজয়ী করতে
হবে।‘
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের নির্বাচনী জনসভাটি মাওলানা
বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর সভাপতিত্বে এক অনন্য রূপ লাভ করে। সভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়
ছাত্র নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। প্রধান বক্তাদের পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস মো. মাজহারুল ইসলাম তাঁদের
বক্তব্যে তারুণ্যের শক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল স্থানীয়
স্তরে ভোট রক্ষার শপথ পাঠ করান। মেধাবী ছাত্রনেতাদের এই অংশগ্রহণ ফরিদগঞ্জের রাজনৈতিক
মাঠে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন