ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন'স ডে মূলত খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে রোমান যাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগের স্মরণে ১৪ ফেব্রুয়ারি উদযাপিত হয়।
প্রাচীন রোম সাম্রাজ্যে ক্লডিয়াস নামে এক সম্রাট ছিলেন। তিনি ছিলেন অনেল কঠোর ব্যক্তি। তিনি মনে করতেন, বিয়ে করলে পুরুষরা সাহসী যোদ্ধা হতে পারে না। তাই তিনি তার রাজ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ করেন। তবে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে এক দয়ালু যাজক ছিলেন মানুষের বন্ধু। তিনি সম্রাটের আদেশ অমান্য করে গোপনে প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিয়ে দিতেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সম্রাট তাঁকে বন্দী করেন এবং ৪৭৩ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সেই থেকেই তাঁর ত্যাগের স্মরণে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
এই সপ্তাহটি এতো জনপ্রিয় হওয়ার কারন ভালোবাসা কেবল একটি দিনের নয়, বরং এটি একটি অনুভূতি নাম। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যার সাথে সময় কাটাতে এই মন কাদে। সময়ের সাথে সাথে এই দিনটি একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে শুধু ১৪ ফেব্রুয়ারি নয়, তার আগের ৭টি দিনকেও আলাদা আলাদা নামে পালন করা হয়, যাকে বলা হয় ‘ভ্যালেন্টাইনস উইক’। আজকের এই প্রতিবেদনে জেনে নিই এই সাত দিনের রোমাঞ্চকর গল্প।
৭ ফেব্রুয়ারি: রোজ ডে
ভালোবাসার শুরুটা হয় সুগন্ধ আর সৌন্দর্য দিয়ে। তাই এই সপ্তাহের প্রথম দিনটি হলো ‘রোজ ডে’। এই দিনটাতে মানুষ তার প্রিয়তমাকে উপহার হিসেবে গোলাপ দেয়। একেক রঙের গোলাপের একেক মানে। লাল গোলাপ মানে গভীর ভালোবাসা, আর হলুদ গোলাপ মানে বন্ধুত্ব। সাদা গোলাপ দিয়ে মানুষ শান্তি আর পবিত্রতার বার্তা দেয়।
৮ ফেব্রুয়ারি: প্রপোজ ডে
রোজ ডে এর পরের দিনেই আসে প্রস্তাবের দিন। মানুষের মনে অনেক কথা জমে থাকে না? সেই কথাগুলো প্রিয় মানুষকে জানানোর জন্য এই দিনটি বরাদ্দ। এই দিনে সাহসের সাথে নিজের মনের জানালা খুলে দেওয়া হয়। ছোট বাচ্চারাও তাদের প্রিয় বন্ধুর হাতে একটি কার্ড দিয়ে বলতে পারে, “তুমি আমার সেরা বন্ধু।” বড়রা জীবনের নতুন পথ শুরু করার প্রস্তাব দেন এই দিনেই।
৯ ফেব্রুয়ারি: চকোলেট ডে
তৃতীয় দিনটি হলো চকোলেট দিবস। মিষ্টির যেমন কোনো বয়স নেই, চকোলেটেরও কোন বয়স নেই। এক টুকরো চকোলেট যেমন রাগ ভাঙাতে পারে, তেমনি মুখে হাসিও ফোটাতে পারে। তাই এই দিনে সব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে চকোলেট উপহার দিয়ে সম্পর্কের মিষ্টতা বাড়ানো হয়।
১০ ফেব্রুয়ারি: টেডি ডে
ছোটবেলায় সবাই নরম খেলনা বা টেডি বিয়ার নিয়ে ঘুমাতে পছন্দ করে। ১০ ফেব্রুয়ারি সেই দিন যখন মানুষ একে অপরকে নরম তুলতুলে টেডি বিয়ার উপহার দেয়। এটি মূলত নির্ভরতা আর আদরের প্রতীক। একটি টেডি মানে হলো, “আমি যখন কাছে থাকব না, তখন এটি তোমাকে আগলে রাখবে।”
১১ ফেব্রুয়ারি: প্রমিজ ডে
ভালোবাসা মানে শুধু সুন্দর উপহার নয়, বরং একে অপরের পাশে থাকার বিশ্বাস। ১১ ফেব্রুয়ারি হলো সেই শপথ নেওয়ার দিন। “আমি তোমার বিপদে পাশে থাকব,” বা “আমি সবসময় সত্য বলব”—এমন ছোট ছোট অঙ্গীকার সম্পর্কের ভিত শক্ত করে। এটি কেবল প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য নয়, বাবা-মায়ের সাথেও এমন সুন্দর প্রতিজ্ঞা করা যায়।
১২ ফেব্রুয়ারি: হাগ ডে
কখনো খুব খারাপ লাগলে কেউ যদি শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, তখন মুহূর্তেই সব মন খারাপ ভালো হয়ে যায় না? ১২ ফেব্রুয়ারি হলো সেই উষ্ণ ভালোবাসার দিন। একটি আন্তরিক আলিঙ্গন হাজারো না বলা কথা বুঝিয়ে দেয়। এটি মানসিক শান্তি দেয় এবং একে অপরের প্রতি বিশ্বাস বাড়ায়।
১৩ ফেব্রুয়ারি: কিস ডে
এটি যেন স্নেহের একটি বিশেষ ভঙ্গি। কপালে একটি চুমু মানে হলো অপর মানুষটির প্রতি অপরিসীম যত্ন আর সম্মান। ভালোবাসার গভীরতা মাপার জন্য কোনো স্কেল নেই, কিন্তু এমন ছোট ছোট স্নেহের পরশ বুঝিয়ে দেয় মানুষটি আপনার জন্য কতটা স্পেশাল।
১৪ ফেব্রুয়ারি: ভালোবাসা দিবস
অবশেষে আসে সেই পরম কাঙ্ক্ষিত দিন। এটি হলো পুরো সপ্তাহের আনন্দকে উদযাপন করার দিন। এই দিনে মানুষ লাল পোশাক পরে, ঘুরে বেড়ায় এবং প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটায়। এই দিনে শুধু যে রোমান্টিক ভালোবাসার কথা বলে মানুষ তা নয়, বন্ধু-পরিবার বা অসহায় মানুষের প্রতিও ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়া হয়।
২০২৬ সালে ভালোবাসা ও নির্বাচন
২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারি মাসটি আমাদের কাছে একটু ভিন্ন। একদিকে যেমন নির্বাচনের হাওয়া বইছে, অন্যদিকে ভালোবাসার সপ্তাহ ঘনিয়ে আসছে। রাজনীতির মাঠে যেমন ভোট চেয়ে জনমত গঠন করা হয়, ভালোবাসার মাঠেও তেমনি একে অপরের মনের ‘ভোট’ পেতে মানুষ ব্যাকুল থাকে। ভোটের ব্যালট বক্স আর ভালোবাসার উপহারের বাক্স যেন এবার একই ছন্দে মিশে গেছে। রাজনৈতিক নেতার ইশতেহারের মতো আমরাও আমাদের প্রিয়জনকে একগুচ্ছ ইশতেহার দেই—ভালো রাখার ইশতেহার।
ব্যক্তি নয়, দেশ গড়ার নির্বাচন চাই
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। গণতন্ত্রের শাসন বলতে জনগণের শাসনকে বুঝানো হয়, যেখানে জনগণের মতামত ও ভোটাধিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত দেশে ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বিগত প্রতিটি নির্বাচনে দেখেছি ভিন্ন ভিন্ন প্রহসন। প্রতিটি প্রহসনের ফলে দেশ ও জাতি অনেক পিছিয়ে পড়েছে। ১১ ডিসেম্বর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দীর্ঘদিন পরে এমন একটা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে একঝাঁক আবাবিল দেশপ্রেমিক ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেশ গড়ার লক্ষে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। আমরা সর্বপ্রথম নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা চাই, প্রতিটি ভোটারের নিরাপত্তা চাই। আমরা চাই নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যক্তি, নির্বাচন পরিচালনাকারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সকলেই থাকবে নিরপেক্ষ। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতার নির্বাচনে থাকবে না উৎকণ্ঠা, ভয়, প্রলোভন বা রাজনৈতিক চাপ । কোনো ব্যক্তি, কিংবা গোষ্ঠী নয়, দেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা চাই একটি সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক নির্বাচন।
মো. জাকির আলম
শিক্ষার্থী, পাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
জনকল্যাণমুখী উদ্দেশ্য সফল হোক
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রশ্নে একটি বড় পরীক্ষা। নির্বাচনকে ঘিরে একজন নাগরিক হিসেবে আমার প্রত্যাশা স্পষ্ট- ভোট যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ হয়। সংবিধান অনুযায়ী, জনগণের ভোটই সরকার গঠনের বৈধ মাধ্যম। কিন্তু, বিগত কয়েকটি নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সেই আস্থা নষ্ট হয়েছে। তাই, আসন্ন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ও কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষ ও স্বতস্ফূর্তভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, সেটিও গণমানুষ প্রাণের দাবি। রাজনৈতিক দলগুলোও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে সহিংসতা ও বিভাজন কমে আসবে। গণমাধ্যম ও দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হতে হবে এমন যে, সাধারণ জনগণ যেন তাদের অধিকার ও দাবির কথা ভয়হীনভাবে তার কাছে বলতে পারে। এছাড়া, সৎ, ন্যায়পরায়ণ, নেতৃত্বের সঠিক গুণাবলীসম্পন্ন, আধুনিক জ্ঞানসমৃদ্ধ জনপ্রতিনিধি বর্তমানে আমাদের কাম্য। সর্বোপরি, আমার প্রত্যাশা- আসন্ন জাতীয় নির্বাচন জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে এবং দেশের স্থিতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী সরকার গঠনে সহায়ক হবে।
তানিয়া রহমান
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় জনমনে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে, এই নির্বাচনের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। বিগত কয়েক বছরে নির্বাচন ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার কারণে সাধারণ মানুষ ভোটদানে আগ্রহ হারিয়েছে। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কাই এখন ভোটার উপস্থিতির সবচেয়ে বড় বাধা। এমতাবস্থায় সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কঠোর ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা। বিশেষত, প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসী চক্রের অপতৎপরতা চিহ্নিত করে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যেই সন্ত্রাসী হামলায় ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদিকে হত্যা করা হলেও প্রশাসন এখনো তার খুনীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি, যা জনগণের সামনে আইনের বর্থ্যতা প্রকাশ করেছে। একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে আইনের নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই। ভোটাররা নিরাপদ বোধ করলেই কেবল ভোটাধিকার প্রয়োগে এগিয়ে আসবে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হবে।
মো. আসিফ খান
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
সুষ্ঠু নির্বাচন : আগামীর বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন হলো জনমতের প্রতিফলন ঘটানোর শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রধান প্রত্যাশা হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ, যেখানে প্রতিটি নাগরিক ভয়হীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। দীর্ঘ আঠারো বছর পর আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যা দেশি-বিদেশি সব মহলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। ?আমার ভাবনায়, এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের এক বড় সুযোগ। তরুণ প্রজন্মের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি চাই এমন নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক, যারা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন এবং মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আপসহীন থাকবেন। পেশিশক্তি বা অর্থের প্রভাবমুক্ত একটি নির্বাচনই পারে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে। পরিশেষে, দল-মত নির্বিশেষে একটি শান্তিপূর্ণ উৎসবমুখর নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক- এটাই সকল নাগরিকের ঐকান্তিক চাওয়া।
মো. ইমরান
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন'স ডে মূলত খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দীতে রোমান যাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগের স্মরণে ১৪ ফেব্রুয়ারি উদযাপিত হয়।
প্রাচীন রোম সাম্রাজ্যে ক্লডিয়াস নামে এক সম্রাট ছিলেন। তিনি ছিলেন অনেল কঠোর ব্যক্তি। তিনি মনে করতেন, বিয়ে করলে পুরুষরা সাহসী যোদ্ধা হতে পারে না। তাই তিনি তার রাজ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ করেন। তবে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামে এক দয়ালু যাজক ছিলেন মানুষের বন্ধু। তিনি সম্রাটের আদেশ অমান্য করে গোপনে প্রেমিক-প্রেমিকাদের বিয়ে দিতেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সম্রাট তাঁকে বন্দী করেন এবং ৪৭৩ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সেই থেকেই তাঁর ত্যাগের স্মরণে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
এই সপ্তাহটি এতো জনপ্রিয় হওয়ার কারন ভালোবাসা কেবল একটি দিনের নয়, বরং এটি একটি অনুভূতি নাম। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যার সাথে সময় কাটাতে এই মন কাদে। সময়ের সাথে সাথে এই দিনটি একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে শুধু ১৪ ফেব্রুয়ারি নয়, তার আগের ৭টি দিনকেও আলাদা আলাদা নামে পালন করা হয়, যাকে বলা হয় ‘ভ্যালেন্টাইনস উইক’। আজকের এই প্রতিবেদনে জেনে নিই এই সাত দিনের রোমাঞ্চকর গল্প।
৭ ফেব্রুয়ারি: রোজ ডে
ভালোবাসার শুরুটা হয় সুগন্ধ আর সৌন্দর্য দিয়ে। তাই এই সপ্তাহের প্রথম দিনটি হলো ‘রোজ ডে’। এই দিনটাতে মানুষ তার প্রিয়তমাকে উপহার হিসেবে গোলাপ দেয়। একেক রঙের গোলাপের একেক মানে। লাল গোলাপ মানে গভীর ভালোবাসা, আর হলুদ গোলাপ মানে বন্ধুত্ব। সাদা গোলাপ দিয়ে মানুষ শান্তি আর পবিত্রতার বার্তা দেয়।
৮ ফেব্রুয়ারি: প্রপোজ ডে
রোজ ডে এর পরের দিনেই আসে প্রস্তাবের দিন। মানুষের মনে অনেক কথা জমে থাকে না? সেই কথাগুলো প্রিয় মানুষকে জানানোর জন্য এই দিনটি বরাদ্দ। এই দিনে সাহসের সাথে নিজের মনের জানালা খুলে দেওয়া হয়। ছোট বাচ্চারাও তাদের প্রিয় বন্ধুর হাতে একটি কার্ড দিয়ে বলতে পারে, “তুমি আমার সেরা বন্ধু।” বড়রা জীবনের নতুন পথ শুরু করার প্রস্তাব দেন এই দিনেই।
৯ ফেব্রুয়ারি: চকোলেট ডে
তৃতীয় দিনটি হলো চকোলেট দিবস। মিষ্টির যেমন কোনো বয়স নেই, চকোলেটেরও কোন বয়স নেই। এক টুকরো চকোলেট যেমন রাগ ভাঙাতে পারে, তেমনি মুখে হাসিও ফোটাতে পারে। তাই এই দিনে সব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে চকোলেট উপহার দিয়ে সম্পর্কের মিষ্টতা বাড়ানো হয়।
১০ ফেব্রুয়ারি: টেডি ডে
ছোটবেলায় সবাই নরম খেলনা বা টেডি বিয়ার নিয়ে ঘুমাতে পছন্দ করে। ১০ ফেব্রুয়ারি সেই দিন যখন মানুষ একে অপরকে নরম তুলতুলে টেডি বিয়ার উপহার দেয়। এটি মূলত নির্ভরতা আর আদরের প্রতীক। একটি টেডি মানে হলো, “আমি যখন কাছে থাকব না, তখন এটি তোমাকে আগলে রাখবে।”
১১ ফেব্রুয়ারি: প্রমিজ ডে
ভালোবাসা মানে শুধু সুন্দর উপহার নয়, বরং একে অপরের পাশে থাকার বিশ্বাস। ১১ ফেব্রুয়ারি হলো সেই শপথ নেওয়ার দিন। “আমি তোমার বিপদে পাশে থাকব,” বা “আমি সবসময় সত্য বলব”—এমন ছোট ছোট অঙ্গীকার সম্পর্কের ভিত শক্ত করে। এটি কেবল প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য নয়, বাবা-মায়ের সাথেও এমন সুন্দর প্রতিজ্ঞা করা যায়।
১২ ফেব্রুয়ারি: হাগ ডে
কখনো খুব খারাপ লাগলে কেউ যদি শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, তখন মুহূর্তেই সব মন খারাপ ভালো হয়ে যায় না? ১২ ফেব্রুয়ারি হলো সেই উষ্ণ ভালোবাসার দিন। একটি আন্তরিক আলিঙ্গন হাজারো না বলা কথা বুঝিয়ে দেয়। এটি মানসিক শান্তি দেয় এবং একে অপরের প্রতি বিশ্বাস বাড়ায়।
১৩ ফেব্রুয়ারি: কিস ডে
এটি যেন স্নেহের একটি বিশেষ ভঙ্গি। কপালে একটি চুমু মানে হলো অপর মানুষটির প্রতি অপরিসীম যত্ন আর সম্মান। ভালোবাসার গভীরতা মাপার জন্য কোনো স্কেল নেই, কিন্তু এমন ছোট ছোট স্নেহের পরশ বুঝিয়ে দেয় মানুষটি আপনার জন্য কতটা স্পেশাল।
১৪ ফেব্রুয়ারি: ভালোবাসা দিবস
অবশেষে আসে সেই পরম কাঙ্ক্ষিত দিন। এটি হলো পুরো সপ্তাহের আনন্দকে উদযাপন করার দিন। এই দিনে মানুষ লাল পোশাক পরে, ঘুরে বেড়ায় এবং প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটায়। এই দিনে শুধু যে রোমান্টিক ভালোবাসার কথা বলে মানুষ তা নয়, বন্ধু-পরিবার বা অসহায় মানুষের প্রতিও ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়া হয়।
২০২৬ সালে ভালোবাসা ও নির্বাচন
২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারি মাসটি আমাদের কাছে একটু ভিন্ন। একদিকে যেমন নির্বাচনের হাওয়া বইছে, অন্যদিকে ভালোবাসার সপ্তাহ ঘনিয়ে আসছে। রাজনীতির মাঠে যেমন ভোট চেয়ে জনমত গঠন করা হয়, ভালোবাসার মাঠেও তেমনি একে অপরের মনের ‘ভোট’ পেতে মানুষ ব্যাকুল থাকে। ভোটের ব্যালট বক্স আর ভালোবাসার উপহারের বাক্স যেন এবার একই ছন্দে মিশে গেছে। রাজনৈতিক নেতার ইশতেহারের মতো আমরাও আমাদের প্রিয়জনকে একগুচ্ছ ইশতেহার দেই—ভালো রাখার ইশতেহার।
ব্যক্তি নয়, দেশ গড়ার নির্বাচন চাই
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। গণতন্ত্রের শাসন বলতে জনগণের শাসনকে বুঝানো হয়, যেখানে জনগণের মতামত ও ভোটাধিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত দেশে ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা ব্যর্থ হয়েছে। আমরা বিগত প্রতিটি নির্বাচনে দেখেছি ভিন্ন ভিন্ন প্রহসন। প্রতিটি প্রহসনের ফলে দেশ ও জাতি অনেক পিছিয়ে পড়েছে। ১১ ডিসেম্বর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দীর্ঘদিন পরে এমন একটা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে একঝাঁক আবাবিল দেশপ্রেমিক ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেশ গড়ার লক্ষে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। আমরা সর্বপ্রথম নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা চাই, প্রতিটি ভোটারের নিরাপত্তা চাই। আমরা চাই নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যক্তি, নির্বাচন পরিচালনাকারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সকলেই থাকবে নিরপেক্ষ। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতার নির্বাচনে থাকবে না উৎকণ্ঠা, ভয়, প্রলোভন বা রাজনৈতিক চাপ । কোনো ব্যক্তি, কিংবা গোষ্ঠী নয়, দেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা চাই একটি সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক নির্বাচন।
মো. জাকির আলম
শিক্ষার্থী, পাবনা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
জনকল্যাণমুখী উদ্দেশ্য সফল হোক
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রশ্নে একটি বড় পরীক্ষা। নির্বাচনকে ঘিরে একজন নাগরিক হিসেবে আমার প্রত্যাশা স্পষ্ট- ভোট যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ হয়। সংবিধান অনুযায়ী, জনগণের ভোটই সরকার গঠনের বৈধ মাধ্যম। কিন্তু, বিগত কয়েকটি নির্বাচনে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সেই আস্থা নষ্ট হয়েছে। তাই, আসন্ন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ও কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষ ও স্বতস্ফূর্তভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, সেটিও গণমানুষ প্রাণের দাবি। রাজনৈতিক দলগুলোও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে সহিংসতা ও বিভাজন কমে আসবে। গণমাধ্যম ও দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হতে হবে এমন যে, সাধারণ জনগণ যেন তাদের অধিকার ও দাবির কথা ভয়হীনভাবে তার কাছে বলতে পারে। এছাড়া, সৎ, ন্যায়পরায়ণ, নেতৃত্বের সঠিক গুণাবলীসম্পন্ন, আধুনিক জ্ঞানসমৃদ্ধ জনপ্রতিনিধি বর্তমানে আমাদের কাম্য। সর্বোপরি, আমার প্রত্যাশা- আসন্ন জাতীয় নির্বাচন জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবে এবং দেশের স্থিতিশীল, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী সরকার গঠনে সহায়ক হবে।
তানিয়া রহমান
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় জনমনে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে, এই নির্বাচনের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। বিগত কয়েক বছরে নির্বাচন ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার কারণে সাধারণ মানুষ ভোটদানে আগ্রহ হারিয়েছে। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কাই এখন ভোটার উপস্থিতির সবচেয়ে বড় বাধা। এমতাবস্থায় সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কঠোর ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা। বিশেষত, প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসী চক্রের অপতৎপরতা চিহ্নিত করে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যেই সন্ত্রাসী হামলায় ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদিকে হত্যা করা হলেও প্রশাসন এখনো তার খুনীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি, যা জনগণের সামনে আইনের বর্থ্যতা প্রকাশ করেছে। একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে আইনের নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই। ভোটাররা নিরাপদ বোধ করলেই কেবল ভোটাধিকার প্রয়োগে এগিয়ে আসবে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হবে।
মো. আসিফ খান
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
সুষ্ঠু নির্বাচন : আগামীর বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন হলো জনমতের প্রতিফলন ঘটানোর শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রধান প্রত্যাশা হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ, যেখানে প্রতিটি নাগরিক ভয়হীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। দীর্ঘ আঠারো বছর পর আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যা দেশি-বিদেশি সব মহলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। ?আমার ভাবনায়, এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের এক বড় সুযোগ। তরুণ প্রজন্মের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি চাই এমন নেতৃত্ব নির্বাচিত হোক, যারা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন এবং মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আপসহীন থাকবেন। পেশিশক্তি বা অর্থের প্রভাবমুক্ত একটি নির্বাচনই পারে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে। পরিশেষে, দল-মত নির্বিশেষে একটি শান্তিপূর্ণ উৎসবমুখর নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক- এটাই সকল নাগরিকের ঐকান্তিক চাওয়া।
মো. ইমরান
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন