সরকার
গঠন করলে জামায়াত চাঁদাবাজ ও দুর্নীতবাজদের প্রশ্রয় দেবে না বলে জামায়াত আমির
শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘চাঁদাবাজি আমরা করি না। চাঁদাবাজি আমরা কাউকে করতে দেব না।
দুর্নীতি আমরা পছন্দ করি না। বগলের নিচে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেব না। ব্যাংক
ডাকাতি আমরা করি না। কোনো ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে আমাদের আপসরফা হবে না। মামলাবাজি
আমাদের খাসলত নয়। মামলা–বাণিজ্য যারা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে’।
আজ
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে নির্বাচনী জনসভায়
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন
শফিকুর রহমান।
সব
ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর
আমির বলেন, ‘কোনো পরিস্থিতি হলেই যাঁরা মুসলমান নন, তাঁরা ভয়ের সংস্কৃতিতে থাকবেন
কেন? সেই ভয়ের সংস্কৃতিকে আমরা গুঁড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। সেই পরিবেশ আমরা রাখব
না। এ দেশ আমাদের সবার। সবাইকে নিয়েই আমরা চলব। এই বাংলাদেশে যাঁরা মাইনোরিটি
অধিকার নিয়ে বেশি হাল্লাচিল্লা করতেন, সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকার আপনাদের পাশে
সাঁওতালপল্লিতে (গাইবান্দার সাহেবগঞ্জ) কী করেছে, আপনারা কি দেখেননি? তাঁরা কি
আমাদের ভাইবোন নন? তাঁরা কি এ দেশের নাগরিক নন? আমরা তাঁদের কথা দিচ্ছি, আমরা
সবাইকে বুকে ধারণ করে সামনে এগোব। আমরা সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করব’।
নারীদের ঘরে ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার
অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মায়েদের জন্য ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে, সব
জায়গায় মর্যাদা আর নিরাপত্তা—এ দুটি জিনিস নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে
না নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে তাকানোর। সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে। এ অবস্থা
দেখে অনেকে বেসামাল। ভাই, মাঘ মাসে মাথা গরম করবেন, চৈত্র মাস সামনে! এখনই যদি
মাথা গরম করেন, চৈত্র মাসে কী করবেন! মাথা ঠান্ডা রাখেন। মানুষ কী ভাবছে, কান পেতে
শোনেন। দেশ বাঁচলে আপনিও বাঁচবেন। এই ভোটটা আগামী দিনে হবে ইনশা আল্লাহ ইনসাফের
প্রতীক’।
তিনি আরও বলেন, ‘নারীদের হুমকি, গায়ে হাত—এগুলো যদি
বন্ধ না রাখেন, তাঁদের মনে করিয়ে দিতে চাই, জুলাইয়ের ১৫ তারিখে মেয়েদের গায়ে হাত
দেওয়ার জন্য যেভাবে যুবক ভাইয়েরা গর্জে উঠেছিল, আবার বিস্ফোরিত হবে, গর্জে উঠবে।
মায়ের অপমান সহ্য করবে না’।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘শুধু রাজার ছেলে রাজা নয়,
বংশপরম্পরায় নেতা নয়; বরং আজ যিনি কঠোর পরিশ্রম করে রিকশা চালান, নুন আনতে পান্তা
ফুরায়, তাঁরও ছেলের যে মেধা আছে, সেই মেধাকে বিকশিত করে আগামীর প্রধানমন্ত্রী যেন
বের হয়ে আসে। তাহলে ওরা বুঝবে, দুঃখী মানুষ ক্যামনে বুঝবে। এভাবেই জমিদারি প্রথার
রাজনীতি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা
নিজেদের পকেট পুরেছে। ব্যাংক–বিমা লুট করেছে। বড় বড় মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি
করেছে। দুর্নীতির টাকা দেশে রাখতে পারেনি। সেই টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতায়
এলে এই চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে নিয়ে আসা হবে’।
নওগাঁকে উত্তরবঙ্গের কৃষির রাজধানী উল্লেখ করে তিনি
বলেন, ‘সারা দেশের মধ্যে নওগাঁ জেলায় ১০ ভাগের ১ ভাগ ফসল উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু
এই জেলা তার ন্যায্য পাওনা পায়নি। নওগাঁ শহরের ভেতর দিয়ে চলা প্রধান সড়কটি চার লেন
হওয়া দরকার। জামায়াত ক্ষমতায় এলে সড়কটি চার লেন করা হবে। এই জেলায় ব্যাপক পরিমাণে
ধান ও অন্যান্য ফল উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু কৃষকেরা তাঁদের ফসলের ন্যায্য মূল্য
পান না। উৎপাদিত ফল সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে। ফল প্রসেসিং
ইন্ডাস্ট্রি করা হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে পর্যটনশিল্পকে আরও
বিকশিত করা হবে’।
নওগাঁ
জেলায় অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪
আসনের মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রাকিব। সভায় বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও
আগামী নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ
অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম সায়েম
(নওগাঁ-৫ আসন)। এছাড়াও জেলা জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য
রাখেন মাহবুবুল আলম (নওগাঁ-১), এনামুল হক (নওগাঁ-২), মাহফুজুর রহমান (নওগাঁ-৩) এবং
খবিরুল ইসলাম (নওগাঁ-৬)। জনসভায় নওগাঁর প্রতিটি সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত
প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন ও সাংগঠনিক সংহতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ
করেন। তৃণমূল পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সভাটি এক বিশাল সমাবেশে
পরিণত হয়।
বিষয় : জামায়াত জামায়াত আমির দুর্নীতিবাজ
.png)
বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সরকার
গঠন করলে জামায়াত চাঁদাবাজ ও দুর্নীতবাজদের প্রশ্রয় দেবে না বলে জামায়াত আমির
শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘চাঁদাবাজি আমরা করি না। চাঁদাবাজি আমরা কাউকে করতে দেব না।
দুর্নীতি আমরা পছন্দ করি না। বগলের নিচে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেব না। ব্যাংক
ডাকাতি আমরা করি না। কোনো ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে আমাদের আপসরফা হবে না। মামলাবাজি
আমাদের খাসলত নয়। মামলা–বাণিজ্য যারা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে’।
আজ
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে নির্বাচনী জনসভায়
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন
শফিকুর রহমান।
সব
ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর
আমির বলেন, ‘কোনো পরিস্থিতি হলেই যাঁরা মুসলমান নন, তাঁরা ভয়ের সংস্কৃতিতে থাকবেন
কেন? সেই ভয়ের সংস্কৃতিকে আমরা গুঁড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। সেই পরিবেশ আমরা রাখব
না। এ দেশ আমাদের সবার। সবাইকে নিয়েই আমরা চলব। এই বাংলাদেশে যাঁরা মাইনোরিটি
অধিকার নিয়ে বেশি হাল্লাচিল্লা করতেন, সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকার আপনাদের পাশে
সাঁওতালপল্লিতে (গাইবান্দার সাহেবগঞ্জ) কী করেছে, আপনারা কি দেখেননি? তাঁরা কি
আমাদের ভাইবোন নন? তাঁরা কি এ দেশের নাগরিক নন? আমরা তাঁদের কথা দিচ্ছি, আমরা
সবাইকে বুকে ধারণ করে সামনে এগোব। আমরা সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করব’।
নারীদের ঘরে ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার
অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মায়েদের জন্য ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে, সব
জায়গায় মর্যাদা আর নিরাপত্তা—এ দুটি জিনিস নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে
না নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে তাকানোর। সেই পরিবেশ তৈরি করা হবে। এ অবস্থা
দেখে অনেকে বেসামাল। ভাই, মাঘ মাসে মাথা গরম করবেন, চৈত্র মাস সামনে! এখনই যদি
মাথা গরম করেন, চৈত্র মাসে কী করবেন! মাথা ঠান্ডা রাখেন। মানুষ কী ভাবছে, কান পেতে
শোনেন। দেশ বাঁচলে আপনিও বাঁচবেন। এই ভোটটা আগামী দিনে হবে ইনশা আল্লাহ ইনসাফের
প্রতীক’।
তিনি আরও বলেন, ‘নারীদের হুমকি, গায়ে হাত—এগুলো যদি
বন্ধ না রাখেন, তাঁদের মনে করিয়ে দিতে চাই, জুলাইয়ের ১৫ তারিখে মেয়েদের গায়ে হাত
দেওয়ার জন্য যেভাবে যুবক ভাইয়েরা গর্জে উঠেছিল, আবার বিস্ফোরিত হবে, গর্জে উঠবে।
মায়ের অপমান সহ্য করবে না’।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘শুধু রাজার ছেলে রাজা নয়,
বংশপরম্পরায় নেতা নয়; বরং আজ যিনি কঠোর পরিশ্রম করে রিকশা চালান, নুন আনতে পান্তা
ফুরায়, তাঁরও ছেলের যে মেধা আছে, সেই মেধাকে বিকশিত করে আগামীর প্রধানমন্ত্রী যেন
বের হয়ে আসে। তাহলে ওরা বুঝবে, দুঃখী মানুষ ক্যামনে বুঝবে। এভাবেই জমিদারি প্রথার
রাজনীতি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা
নিজেদের পকেট পুরেছে। ব্যাংক–বিমা লুট করেছে। বড় বড় মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি
করেছে। দুর্নীতির টাকা দেশে রাখতে পারেনি। সেই টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতায়
এলে এই চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে নিয়ে আসা হবে’।
নওগাঁকে উত্তরবঙ্গের কৃষির রাজধানী উল্লেখ করে তিনি
বলেন, ‘সারা দেশের মধ্যে নওগাঁ জেলায় ১০ ভাগের ১ ভাগ ফসল উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু
এই জেলা তার ন্যায্য পাওনা পায়নি। নওগাঁ শহরের ভেতর দিয়ে চলা প্রধান সড়কটি চার লেন
হওয়া দরকার। জামায়াত ক্ষমতায় এলে সড়কটি চার লেন করা হবে। এই জেলায় ব্যাপক পরিমাণে
ধান ও অন্যান্য ফল উৎপন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু কৃষকেরা তাঁদের ফসলের ন্যায্য মূল্য
পান না। উৎপাদিত ফল সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে। ফল প্রসেসিং
ইন্ডাস্ট্রি করা হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে পর্যটনশিল্পকে আরও
বিকশিত করা হবে’।
নওগাঁ
জেলায় অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪
আসনের মনোনীত প্রার্থী আব্দুর রাকিব। সভায় বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও
আগামী নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ
অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম সায়েম
(নওগাঁ-৫ আসন)। এছাড়াও জেলা জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য
রাখেন মাহবুবুল আলম (নওগাঁ-১), এনামুল হক (নওগাঁ-২), মাহফুজুর রহমান (নওগাঁ-৩) এবং
খবিরুল ইসলাম (নওগাঁ-৬)। জনসভায় নওগাঁর প্রতিটি সংসদীয় আসনের জামায়াত মনোনীত
প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন ও সাংগঠনিক সংহতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ
করেন। তৃণমূল পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সভাটি এক বিশাল সমাবেশে
পরিণত হয়।
.png)
আপনার মতামত লিখুন