ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

হোটেল রুমে কেন থাকে না ঘড়ি? কারণ জানলে অবাক হবেন



হোটেল রুমে কেন থাকে না ঘড়ি? কারণ জানলে অবাক হবেন
ছবি : সংগৃহীত

হোটেল রুমে ঢুকে অনেকেই প্রথমে চারদিকে তাকান। বিছানা, জানালা, টেবিল, বাতি সবই আছে কিন্তু দেয়ালে বা বেডসাইড টেবিলে একটা জিনিস খুঁজে পাওয়া যায় না আর তা হলো ঘড়ি। প্রথমে বিষয়টা একটু অদ্ভুতই লাগে। সময় না জানলে যেন অস্বস্তি হয়। তবে এই ঘড়ির অনুপস্থিতি কোনো ভুল নয়। হোটেল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করেই রুমে ঘড়ি রাখে না। এর পেছনে মূল ভাবনা একটাই, অতিথিকে একটু স্বস্তি দেওয়া।

আমাদের দৈনন্দিন জীবন ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে বাঁধা। কখন উঠব, কখন বের হব, কখন মিটিং, সবই সময়ের হিসাব। ঘড়ির দিকে তাকালেই মাথার ভেতর চাপ তৈরি হয়। হোটেলে এসে সেই চাপটা কমাতে চায় কর্তৃপক্ষ। তারা চায়, অতিথি যেন কিছু সময়ের জন্য সময়ের হিসাব ভুলে থাকতে পারেন।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বারবার সময় দেখলে দুশ্চিন্তা বাড়ে। বিশেষ করে বিশ্রামের সময় ঘড়ির দিকে তাকানো মানসিক চাপ তৈরি করে। তাই হোটেল রুমে নরম আলো, হালকা রঙ, কম শব্দ, সব মিলিয়ে একটা শান্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়। সেখানে দেয়ালে ঝুলে থাকা বা টিকটিক শব্দ করা একটি ঘড়ি পুরো পরিবেশটাই ব্যাহত করতে পারে।

আরেকটি বাস্তব কারণও আছে। এখন আর আলাদা করে ঘড়ির প্রয়োজন পড়ে না। প্রায় সবার হাতেই স্মার্টফোন আছে। ফোনেই সময়, অ্যালার্ম, ক্যালেন্ডার, সবকিছু পাওয়া যায়। কেউ কেউ স্মার্টওয়াচও ব্যবহার করেন। তাই হোটেল রুমে আলাদা ঘড়ি রাখা এখন অনেকটাই অপ্রয়োজনীয়। বরং আগে হোটেল ঘড়ি নিয়ে অনেক অভিযোগ ছিল। অনেক সময় ঘড়িতে ভুল সময় দেখাত, হঠাৎ অ্যালার্ম বেজে উঠত, রাতে আলো জ্বলে ঘুম নষ্ট করত। বিশেষ করে হালকা ঘুমের মানুষদের জন্য এই ঘড়ি বিরক্তির কারণ হতো। এসব ঝামেলা এড়াতেই অনেক হোটেল ধীরে ধীরে ঘড়ি সরিয়ে দিয়েছে। ভালো ঘুম এখন হোটেল ব্যবসার বড় অগ্রাধিকার। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর সময় ঘড়ির দিকে তাকালে অনিদ্রা বাড়ে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সময় দেখলে মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়ে, ‘এতক্ষণেও ঘুম আসছে না ঘড়ি না থাকলে এই চাপটা কমে। তাই আজকাল ভালো হোটেলগুলো কালো পর্দা, শব্দরোধী জানালা, আরামদায়ক বিছানায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ঘড়ি না রাখাও সেই চিন্তারই অংশ।

ঘড়ি না থাকার আরেকটি প্রভাব আছে। সময়ের হিসাব না থাকলে মানুষ ধীরে চলে। সকালের নাশতা একটু লম্বা হয়, লবিতে বসে থাকা বাড়ে, ছুটির অনুভূতিটা গভীর হয়। তখন হোটেল আর শুধু থাকার জায়গা থাকে না, একটা বিশ্রামের জায়গা হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে হোটেল রুমে ঘড়ি না থাকা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। এটা এক ধরনের নীরব বার্তা। যেখানে এসে সময়ের তাড়া নয়, আপনার স্বস্তিটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : জীবন যাপন কারণ জানলে অবাক হবেন

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬


হোটেল রুমে কেন থাকে না ঘড়ি? কারণ জানলে অবাক হবেন

প্রকাশের তারিখ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

হোটেল রুমে ঢুকে অনেকেই প্রথমে চারদিকে তাকান। বিছানা, জানালা, টেবিল, বাতি সবই আছে কিন্তু দেয়ালে বা বেডসাইড টেবিলে একটা জিনিস খুঁজে পাওয়া যায় না আর তা হলো ঘড়ি। প্রথমে বিষয়টা একটু অদ্ভুতই লাগে। সময় না জানলে যেন অস্বস্তি হয়। তবে এই ঘড়ির অনুপস্থিতি কোনো ভুল নয়। হোটেল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করেই রুমে ঘড়ি রাখে না। এর পেছনে মূল ভাবনা একটাই, অতিথিকে একটু স্বস্তি দেওয়া।

আমাদের দৈনন্দিন জীবন ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে বাঁধা। কখন উঠব, কখন বের হব, কখন মিটিং, সবই সময়ের হিসাব। ঘড়ির দিকে তাকালেই মাথার ভেতর চাপ তৈরি হয়। হোটেলে এসে সেই চাপটা কমাতে চায় কর্তৃপক্ষ। তারা চায়, অতিথি যেন কিছু সময়ের জন্য সময়ের হিসাব ভুলে থাকতে পারেন।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বারবার সময় দেখলে দুশ্চিন্তা বাড়ে। বিশেষ করে বিশ্রামের সময় ঘড়ির দিকে তাকানো মানসিক চাপ তৈরি করে। তাই হোটেল রুমে নরম আলো, হালকা রঙ, কম শব্দ, সব মিলিয়ে একটা শান্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়। সেখানে দেয়ালে ঝুলে থাকা বা টিকটিক শব্দ করা একটি ঘড়ি পুরো পরিবেশটাই ব্যাহত করতে পারে।

আরেকটি বাস্তব কারণও আছে। এখন আর আলাদা করে ঘড়ির প্রয়োজন পড়ে না। প্রায় সবার হাতেই স্মার্টফোন আছে। ফোনেই সময়, অ্যালার্ম, ক্যালেন্ডার, সবকিছু পাওয়া যায়। কেউ কেউ স্মার্টওয়াচও ব্যবহার করেন। তাই হোটেল রুমে আলাদা ঘড়ি রাখা এখন অনেকটাই অপ্রয়োজনীয়। বরং আগে হোটেল ঘড়ি নিয়ে অনেক অভিযোগ ছিল। অনেক সময় ঘড়িতে ভুল সময় দেখাত, হঠাৎ অ্যালার্ম বেজে উঠত, রাতে আলো জ্বলে ঘুম নষ্ট করত। বিশেষ করে হালকা ঘুমের মানুষদের জন্য এই ঘড়ি বিরক্তির কারণ হতো। এসব ঝামেলা এড়াতেই অনেক হোটেল ধীরে ধীরে ঘড়ি সরিয়ে দিয়েছে। ভালো ঘুম এখন হোটেল ব্যবসার বড় অগ্রাধিকার। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর সময় ঘড়ির দিকে তাকালে অনিদ্রা বাড়ে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সময় দেখলে মানুষের দুশ্চিন্তা বাড়ে, ‘এতক্ষণেও ঘুম আসছে না ঘড়ি না থাকলে এই চাপটা কমে। তাই আজকাল ভালো হোটেলগুলো কালো পর্দা, শব্দরোধী জানালা, আরামদায়ক বিছানায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ঘড়ি না রাখাও সেই চিন্তারই অংশ।

ঘড়ি না থাকার আরেকটি প্রভাব আছে। সময়ের হিসাব না থাকলে মানুষ ধীরে চলে। সকালের নাশতা একটু লম্বা হয়, লবিতে বসে থাকা বাড়ে, ছুটির অনুভূতিটা গভীর হয়। তখন হোটেল আর শুধু থাকার জায়গা থাকে না, একটা বিশ্রামের জায়গা হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে হোটেল রুমে ঘড়ি না থাকা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। এটা এক ধরনের নীরব বার্তা। যেখানে এসে সময়ের তাড়া নয়, আপনার স্বস্তিটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত