জন্মগত যাদের হাড়ের গঠনে সমস্যা, বিভিন্ন সংক্রমণ ব্যথা বা
আর্থ্রাইটিস ও কার্টিলেজে আঘাতের ফলে হাঁটুতে অসহ্য ব্যথা
হতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে টিউমারের
মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে হাঁটুর বাত বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা বেশ
দীর্ঘমেয়াদী এবং কষ্টসাধ্য হয়ে থাকে। সাধারণ ক্ষেত্রে ওষুধে কাজ না হলে অনেক
ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়, যা রোগীদের জন্য এটি বেশ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রথম থেকেই জরুরি হচ্ছে সঠিক
পরামর্শ নেওয়া।
তবে অস্ত্রোপচারের ঝামেলা এড়াতে এখন
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি নতুন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে,
যার নাম 'পিআরপি' বা প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা থেরাপি। যারা হাঁটুর বাতের ব্যথায় ভুগছেন,
তাদের জন্য এটি বেশ কার্যকর ও নিরাপদ। এতে রোগীর নিজের রক্ত থেকেই প্লাজমা সংগ্রহ
করে আক্রান্ত স্থানে ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর ফলে হাঁটুর ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুগুলো
দ্রুত সেরে ওঠে। বড় কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কমানোর এটি একটি
চমৎকার সমাধান।
হাঁটুর ব্যথায় আধুনিক
সমাধান: কী এই প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা থেরাপি
মানবদেহে
রক্ত মূলত লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা এবং রক্তরস বা প্লাজমা এই
তিনটি উপাদান দিয়ে
তৈরি। এই প্লাজমার মধ্যেই
থাকে আরও দুইটি
উপাদান অণুচক্রিকা বা
প্লাটিলেট। প্লাটিলেটের মধ্যেই থাকে বিশেষ কিছু প্রোটিন, যা শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে বা আঘাত পেলে তা দ্রুত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। এটি ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করে এবং নতুন কোষ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা
করে। মূলত শরীরের এই প্রাকৃতিক নিরাময় ক্ষমতাকেই কাজে লাগানো হয় আধুনিক পিআরপি থেরাপিতে।
একটি বিশেষ
প্রক্রিয়ার সাহায্যে
রক্ত থেকে অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট আলাদা করে নেওয়া হয়। পরে এই অংশটি সরাসরি হাঁটুর ব্যথার জায়গায় ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুগুলো দ্রুত সেরে উঠতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই আধুনিক পদ্ধতিটিই মূলত ‘পিআরপি থেরাপি’ নামে
পরিচিত।
এতে বাড়তি কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার না করে শরীরের নিজস্ব শক্তি দিয়েই ব্যথা কমানো সম্ভব। এটি অনেকটা
নিরাপদ এবং
শরীরের স্বাভাবিক নিরাময় ক্ষমতাকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ থেকে প্রকাশিত গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, হাঁটুর ব্যথা ও অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় পিআরপি থেরাপি কার্যকর হতে পারে। অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ সুব্রত গড়াই জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে প্রথমে রোগীর শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়।
প্রথমে মানব দেহের শরীর থেকে
রক্ত নিয়ে একটি বিশেষ যন্ত্রে খুব দ্রুত
গতিতে ঘোরানো হয়। এর ফলে রক্তের
উপাদানগুলো আলাদা হয়ে যায় এবং সেখান থেকে প্লাটিলেটসমৃদ্ধ অংশ বা পিআরপি সংগ্রহ
করা হয়। এরপর ইনজেকশনের মাধ্যমে সেই অংশটি আঘাতপ্রাপ্ত জায়গায় প্রয়োগ করা হয়। দুই সপ্তাহ অন্তর তিন বার এই ইনজেকশন দিতে হয়। নিয়ম মেনে এই থেরাপি নিলে কোনো ধরনের
অপারেশন ছাড়াই হাঁটুর ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে
ওঠেন।
যাদের
জন্য এই থেরাপি কার্যকর
যাদের বাতের হাঁটুর সমস্যা
প্রাথমিক বা মাঝারি পর্যায়ে আছে, তাদের জন্য এই
পিআরপি থেরাপি
উপকারী হতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণে যারা লিগামেন্টে চোট পেয়েছেন, তারাও এই পদ্ধতি থেকে বেশ উপকার পেতে পারেন। বিশেষ করে যারা অল্প বয়সেই হাঁটুর ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন কিন্তু এখনই অপারেশন করাতে চাইছেন না, তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটি শুরু করতে পারেন। তবে মনে রাখতে
হবে, সবার
শারীরিক অবস্থা এক নয়, তাই থেরাপিটি আপনার জন্য কতটা কার্যকর হবে তা ডাক্তারই ভালো বলতে পারবেন।
এই পদ্ধতির সবথেকে বড় সুবিধা হলো
এই যে, রোগীর
নিজের রক্তই ব্যবহার করা হয়। বাইরে থেকে কোনো কেমিক্যাল বা স্টেরয়েড দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, ফলে অ্যালার্জি বা অন্য কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকে খুব কম।
এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ একটি প্রক্রিয়া।
তবে সব রোগীর জন্য এটি সমান কার্যকর নাও হতে পারে। বিশেষ করে যাদের বয়স পঞ্চাশ বা ষাটের বেশি এবং যাদের অস্টিওআর্থ্রাইটিস একদম শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে পিআরপি থেরাপি খুব একটা উপকারে আসে না। যখন হাঁটুর হাড় মারাত্মকভাবে ক্ষয়ে যায় বা জয়েন্ট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়, তখন আর ইনজেকশনে কাজ হয় না। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা সাধারণত নি-রিপ্লেসমেন্ট বা হাঁটু প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সহজ কথায়, সমস্যার শুরুতেই এই থেরাপি নিলে অপারেশন এড়ানো সম্ভব, কিন্তু দেরি হয়ে গেলে অস্ত্রোপচারই শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।
সূত্র : আনন্দবাজার
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
বিষয় : হাঁটু অসহ্য ব্যথা পিআরপি থেরাপি
.png)
বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জন্মগত যাদের হাড়ের গঠনে সমস্যা, বিভিন্ন সংক্রমণ ব্যথা বা
আর্থ্রাইটিস ও কার্টিলেজে আঘাতের ফলে হাঁটুতে অসহ্য ব্যথা
হতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে টিউমারের
মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে হাঁটুর বাত বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা বেশ
দীর্ঘমেয়াদী এবং কষ্টসাধ্য হয়ে থাকে। সাধারণ ক্ষেত্রে ওষুধে কাজ না হলে অনেক
ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়, যা রোগীদের জন্য এটি বেশ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রথম থেকেই জরুরি হচ্ছে সঠিক
পরামর্শ নেওয়া।
তবে অস্ত্রোপচারের ঝামেলা এড়াতে এখন
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি নতুন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে,
যার নাম 'পিআরপি' বা প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা থেরাপি। যারা হাঁটুর বাতের ব্যথায় ভুগছেন,
তাদের জন্য এটি বেশ কার্যকর ও নিরাপদ। এতে রোগীর নিজের রক্ত থেকেই প্লাজমা সংগ্রহ
করে আক্রান্ত স্থানে ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর ফলে হাঁটুর ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুগুলো
দ্রুত সেরে ওঠে। বড় কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কমানোর এটি একটি
চমৎকার সমাধান।
হাঁটুর ব্যথায় আধুনিক
সমাধান: কী এই প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা থেরাপি
মানবদেহে
রক্ত মূলত লোহিত কণিকা, শ্বেত কণিকা এবং রক্তরস বা প্লাজমা এই
তিনটি উপাদান দিয়ে
তৈরি। এই প্লাজমার মধ্যেই
থাকে আরও দুইটি
উপাদান অণুচক্রিকা বা
প্লাটিলেট। প্লাটিলেটের মধ্যেই থাকে বিশেষ কিছু প্রোটিন, যা শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে বা আঘাত পেলে তা দ্রুত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে। এটি ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করে এবং নতুন কোষ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা
করে। মূলত শরীরের এই প্রাকৃতিক নিরাময় ক্ষমতাকেই কাজে লাগানো হয় আধুনিক পিআরপি থেরাপিতে।
একটি বিশেষ
প্রক্রিয়ার সাহায্যে
রক্ত থেকে অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট আলাদা করে নেওয়া হয়। পরে এই অংশটি সরাসরি হাঁটুর ব্যথার জায়গায় ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুগুলো দ্রুত সেরে উঠতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই আধুনিক পদ্ধতিটিই মূলত ‘পিআরপি থেরাপি’ নামে
পরিচিত।
এতে বাড়তি কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার না করে শরীরের নিজস্ব শক্তি দিয়েই ব্যথা কমানো সম্ভব। এটি অনেকটা
নিরাপদ এবং
শরীরের স্বাভাবিক নিরাময় ক্ষমতাকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ থেকে প্রকাশিত গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, হাঁটুর ব্যথা ও অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় পিআরপি থেরাপি কার্যকর হতে পারে। অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ সুব্রত গড়াই জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে প্রথমে রোগীর শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়।
প্রথমে মানব দেহের শরীর থেকে
রক্ত নিয়ে একটি বিশেষ যন্ত্রে খুব দ্রুত
গতিতে ঘোরানো হয়। এর ফলে রক্তের
উপাদানগুলো আলাদা হয়ে যায় এবং সেখান থেকে প্লাটিলেটসমৃদ্ধ অংশ বা পিআরপি সংগ্রহ
করা হয়। এরপর ইনজেকশনের মাধ্যমে সেই অংশটি আঘাতপ্রাপ্ত জায়গায় প্রয়োগ করা হয়। দুই সপ্তাহ অন্তর তিন বার এই ইনজেকশন দিতে হয়। নিয়ম মেনে এই থেরাপি নিলে কোনো ধরনের
অপারেশন ছাড়াই হাঁটুর ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে
ওঠেন।
যাদের
জন্য এই থেরাপি কার্যকর
যাদের বাতের হাঁটুর সমস্যা
প্রাথমিক বা মাঝারি পর্যায়ে আছে, তাদের জন্য এই
পিআরপি থেরাপি
উপকারী হতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণে যারা লিগামেন্টে চোট পেয়েছেন, তারাও এই পদ্ধতি থেকে বেশ উপকার পেতে পারেন। বিশেষ করে যারা অল্প বয়সেই হাঁটুর ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন কিন্তু এখনই অপারেশন করাতে চাইছেন না, তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটি শুরু করতে পারেন। তবে মনে রাখতে
হবে, সবার
শারীরিক অবস্থা এক নয়, তাই থেরাপিটি আপনার জন্য কতটা কার্যকর হবে তা ডাক্তারই ভালো বলতে পারবেন।
এই পদ্ধতির সবথেকে বড় সুবিধা হলো
এই যে, রোগীর
নিজের রক্তই ব্যবহার করা হয়। বাইরে থেকে কোনো কেমিক্যাল বা স্টেরয়েড দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, ফলে অ্যালার্জি বা অন্য কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকে খুব কম।
এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ একটি প্রক্রিয়া।
তবে সব রোগীর জন্য এটি সমান কার্যকর নাও হতে পারে। বিশেষ করে যাদের বয়স পঞ্চাশ বা ষাটের বেশি এবং যাদের অস্টিওআর্থ্রাইটিস একদম শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে পিআরপি থেরাপি খুব একটা উপকারে আসে না। যখন হাঁটুর হাড় মারাত্মকভাবে ক্ষয়ে যায় বা জয়েন্ট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়, তখন আর ইনজেকশনে কাজ হয় না। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা সাধারণত নি-রিপ্লেসমেন্ট বা হাঁটু প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সহজ কথায়, সমস্যার শুরুতেই এই থেরাপি নিলে অপারেশন এড়ানো সম্ভব, কিন্তু দেরি হয়ে গেলে অস্ত্রোপচারই শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায়।
সূত্র : আনন্দবাজার
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন