ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

মশা মারার কয়েল বা তেল: হতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি



মশা মারার কয়েল বা তেল: হতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি
ছবি: সংগৃহীত

রাতে শান্তির ঘুম হারিয়ে যায় মশার উপদ্রবে। আর সেই জ্বালা থেকে বাঁচতেই বাড়িতে মশার কয়েল আর মশার তেল ব্যবহার করার চল রয়েছে অনেক ঘরে। দরজা-জানালা বন্ধ, ফ্যান বন্ধমশা নেই, এই শীতে ঘুম তো হচ্ছে শান্তিতে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই তেল বা কয়েলের ধোঁয়া কি স্বাস্থ্যকর? চিকিৎসক গবেষণার তথ্য বলছেএকদমই না।

আরেকটি প্রশ্ন আসে, মশার কয়েলে আসলে কী থাকে, যার জন্য এত ক্ষতি? চলুন, জেনে নেওয়া যাক

 

কী থাকে মশা মারার কয়েলে

বেশিরভাগ মশা নিধনকারী তেলে থাকে পাইরেথ্রয়েড নামের রাসায়নিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, নির্দিষ্ট মাত্রায় এই রাসায়নিক ব্যবহার নিরাপদ হলেও দীর্ঘ সময় বদ্ধ ঘরে শ্বাসের সঙ্গে ঢুকলে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বদ্ধ ঘরে মশা মারার তেল জ্বালালে সেই ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে ঘরে।

মশা মারার কয়েলে কী ক্ষতি

মশা মারার কয়েল বা তেল ব্যবহারে কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, হাঁপানি বা অ্যালার্জি থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরো বেড়ে যায়।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন মশা নিধনকারী ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসে জ্বালা শ্বাসের সমস্যা হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, শিশু গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকির সম্ভাবনা আরো বেশি। শিশুদের ফুসফুস স্নায়ুতন্ত্র পুরোপুরি গড়ে উঠতে সময় লাগে। তাই তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

শিশুদের ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা, বমিভাব, চোখ জ্বালার মতো সমস্যা হতে পারে।

ছাড়া গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক শ্বাসের মাধ্যমে ঢুকলে ভ্রূণের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন চিকিৎসকেরা।

পাইরেথ্রয়েড মশাকে মারে। কিন্তু মানুষের শরীরে ঢুকলে মাথা যন্ত্রণা, মনোযোগ কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন ব্যবহারে স্নায়বিক দুর্বলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রাতে ঘুমের সময় দীর্ঘক্ষণ এই বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে ঢোকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।

বদ্ধ ঘরে তেলের ধোঁয়া জমে গেলে চোখ জ্বালা, চোখ লাল হওয়া, ত্বকে চুলকানি এই সমস্যা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়।

গবেষণা যা বলছে

জাতীয় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বদ্ধ ঘরে দীর্ঘক্ষণ মশা নিধনকারী ব্যবহার করলে ঘরের বায়ুদূষণ বেড়ে যায়। সেই বায়ুদূষণ ধূমপানের ধোঁয়ার মতোই ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে নিয়মিত ব্যবহারে।

করণীয়

মশাকে তো আর ঘরে থাকতে দেওয়া যায় না। গবেষকরা বলছেন, ঘরে মশার তেল ব্যবহার করার সময় একটু জানালা খোলা রাখুন, শিশু বয়স্কদের ঘরে ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, সম্ভব হলে মশারি, জানালায় জাল ব্যবহার করুন, ঘুমানোর আগে কয়েল জ্বেলে আগে মশা তাড়িয়ে তারপর ঘুমাতে যান।

সূত্র : টিভি৯ বাংলা

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : তেল মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি মশা মারার কয়েল

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬


মশা মারার কয়েল বা তেল: হতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাতে শান্তির ঘুম হারিয়ে যায় মশার উপদ্রবে। আর সেই জ্বালা থেকে বাঁচতেই বাড়িতে মশার কয়েল আর মশার তেল ব্যবহার করার চল রয়েছে অনেক ঘরে। দরজা-জানালা বন্ধ, ফ্যান বন্ধমশা নেই, এই শীতে ঘুম তো হচ্ছে শান্তিতে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই তেল বা কয়েলের ধোঁয়া কি স্বাস্থ্যকর? চিকিৎসক গবেষণার তথ্য বলছেএকদমই না।

আরেকটি প্রশ্ন আসে, মশার কয়েলে আসলে কী থাকে, যার জন্য এত ক্ষতি? চলুন, জেনে নেওয়া যাক

 

কী থাকে মশা মারার কয়েলে

বেশিরভাগ মশা নিধনকারী তেলে থাকে পাইরেথ্রয়েড নামের রাসায়নিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, নির্দিষ্ট মাত্রায় এই রাসায়নিক ব্যবহার নিরাপদ হলেও দীর্ঘ সময় বদ্ধ ঘরে শ্বাসের সঙ্গে ঢুকলে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বদ্ধ ঘরে মশা মারার তেল জ্বালালে সেই ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে ঘরে।

মশা মারার কয়েলে কী ক্ষতি

মশা মারার কয়েল বা তেল ব্যবহারে কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, হাঁপানি বা অ্যালার্জি থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরো বেড়ে যায়।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন মশা নিধনকারী ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসে জ্বালা শ্বাসের সমস্যা হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, শিশু গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকির সম্ভাবনা আরো বেশি। শিশুদের ফুসফুস স্নায়ুতন্ত্র পুরোপুরি গড়ে উঠতে সময় লাগে। তাই তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

শিশুদের ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা, বমিভাব, চোখ জ্বালার মতো সমস্যা হতে পারে।

ছাড়া গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাসায়নিক শ্বাসের মাধ্যমে ঢুকলে ভ্রূণের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন চিকিৎসকেরা।

পাইরেথ্রয়েড মশাকে মারে। কিন্তু মানুষের শরীরে ঢুকলে মাথা যন্ত্রণা, মনোযোগ কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন ব্যবহারে স্নায়বিক দুর্বলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রাতে ঘুমের সময় দীর্ঘক্ষণ এই বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে ঢোকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর।

বদ্ধ ঘরে তেলের ধোঁয়া জমে গেলে চোখ জ্বালা, চোখ লাল হওয়া, ত্বকে চুলকানি এই সমস্যা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়।

গবেষণা যা বলছে

জাতীয় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বদ্ধ ঘরে দীর্ঘক্ষণ মশা নিধনকারী ব্যবহার করলে ঘরের বায়ুদূষণ বেড়ে যায়। সেই বায়ুদূষণ ধূমপানের ধোঁয়ার মতোই ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে নিয়মিত ব্যবহারে।

করণীয়

মশাকে তো আর ঘরে থাকতে দেওয়া যায় না। গবেষকরা বলছেন, ঘরে মশার তেল ব্যবহার করার সময় একটু জানালা খোলা রাখুন, শিশু বয়স্কদের ঘরে ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, সম্ভব হলে মশারি, জানালায় জাল ব্যবহার করুন, ঘুমানোর আগে কয়েল জ্বেলে আগে মশা তাড়িয়ে তারপর ঘুমাতে যান।

সূত্র : টিভি৯ বাংলা

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত