ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

দৈনন্দিনের যে ৭ অভ্যাস আপনার রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে



দৈনন্দিনের যে ৭ অভ্যাস আপনার রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে
ছবি: সংগৃহীত

সুস্থ শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম কেবল বিলাসিতা নয়, বরং একটি অপরিহার্য ভিত্তি। তবে অজান্তেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এমন কিছু অভ্যাস যুক্ত হয়ে পড়েছে, যা রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই ছোটখাটো ভুলগুলো খুব একটা দৃশ্যমান না হলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা ভয়াবহ অনিদ্রা, অবসাদ এবং মনোযোগহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সময়ের সাথে সাথে এসব অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে নানা জটিল ব্যাধির পথ প্রশস্ত করে। শরীর ও মনের সুস্থতা জন্য ঘুমের মান নষ্টকারী এসব অভ্যাসের বিরুদ্ধে এখন থেকেই সচেতন হওয়া উচিত।

দৈনন্দিন জীবনের এসব ভুল একদিনে সমস্যা তৈরি না করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনিদ্রা, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিদিনের জীবনযাত্রার কিছু ভুল আপনার রাতের প্রশান্তি যেভাবে কেড়ে নিচ্ছে, তা বিস্তারিত জানুন আজকের প্রতিবেদনে।

সময় মতো না ঘুমানো

পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য সময়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কখনো রাত ১০টা আবার কখনো রাত ১টায় ঘুমানোর মতো বদ অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বা 'সার্কাডিয়ান রিদম' মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। এই অনিয়মের ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ 'বায়োলজিক্যাল ক্লক' বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং বিশ্রামের সঠিক সময় নির্ধারণ করতে পারে না। এর সরাসরি প্রভাবে রাতে সহজে ঘুম আসতে চায় না এবং ঘুমের মানও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ফলে, পর্যাপ্ত সময় বিছানায় কাটানোর পরেও সকালে শরীর ও মনে ক্লান্তি থেকে যায়। এর ফলে সারাদিনের কাজে মনোযোগের ঘাটতি তৈরি করে এবং কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম দেওয়া

স্মার্ট মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ শক্তি কমিয়ে দেয়। এই হরমোনই আমাদের ঘুম পেতে সাহায্য করে। ঘুমের আগে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। ঘুমের মান খারাপ হয়।

বিছানায় কাজ করা

বিছানায় শুয়ে শুয়ে কাজ করা, ফোন ঘাঁটা বা সিরিজ দেখার অভ্যাস থাকলে মস্তিষ্ক বিছানাকে আর ঘুমের সংকেত হিসেবে তখন নেয় না। ধীরে ধীরে বিছানায় শুলেই ঘুম আসার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়।

রাতে ভারী খাবার খাওয়া

রাতের দেরি করে ভারি খাবার খাওয়া সরাসরি আমাদের শারীরিক ও ঘুমের ওপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে। গভীর রাতে তেল ও মসলাদার বা ভারী খাবার গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে বুক জ্বালাপোড়া ও শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হয়, যা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

সুস্থ ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য রাতের আহার হওয়া উচিত পরিমিত ও সহজপাচ্য। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগেই রাতের খাবার শেষ করা উচিত, যাতে ঘুমানোর আগেই শরীর খাদ্য পরিপাকের প্রাথমিক ধাপগুলো সম্পন্ন করতে পারে।

ভালো ঘুমের জন্য রাতের খাবার হওয়া উচিত হালকা। তা সেরে ফেলতে হবে ঘুমের অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে।


অতিরিক্ত চা-কফি খাওয়া

বিকেল বা সন্ধ্যার পর চা কিংবা কফি গ্রহণ করলে তার প্রভাব থাকে রাত পর্যন্ত। অনেকেই এটা ভাবেন যে এক কাপ কফিতে আর কিছু হবে না, কিন্তু নিয়মিত এই অভ্যাস ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দেয়।

ছুটির দিনে দেরি করে ওঠার অভ্যাস

অনেক জন ভাবেন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বেশি ঘুমিয়ে সারা সপ্তাহের ঘুম একেবারে পুষিয়ে নেবো। আসল কথা হচ্ছে যে এতে সপ্তাহের বাকি দিনের ঘুমের ছন্দ আরো এলোমেলো হয়ে যায়, যাকে বলা হয় ‘সোশ্যাল জেট ল্যাগ’। ছুটি পেলেই বেশি বেলা অবধি ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন ত্যাগ না করলে এই অভ্যাস আস্তে আস্তে ঘুমে অনেকটা ক্ষতি করে।

মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা

মানসিক অস্থিরতা বা দুশ্চিন্তার বোঝা নিয়ে বিছানায় গেলে মস্তিষ্ক সহজে শান্ত হতে পারে না। যখন মন অস্থির থাকে, তখন অবচেতন মনে নেতিবাচক চিন্তাগুলো ঘুরপাক খেতে থাকে,এর ফলে অনেক সময় মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় এবং পুনরায় ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই মানসিক চাপ কাটাতে ঘুমানোর আগে হালকা কোনো বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে, যা মস্তিষ্ককে শিথিল করতে সাহায্য করে।

প্রকৃতপক্ষে, শান্তির বা সঠিক ঘুমের জন্য প্রয়োজন একটি সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত রুটিন ও নিজের শরীরের সংকেত বোঝার ক্ষমতা। জীবনযাত্রার এই ছোটখাটো ভুলগুলো শুধরে নিতে পারলেই ঘুমের মান উন্নত হবে, যা আপনার শারীরিক ও মানসিক দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর।

সূত্র : এই সময়


এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : অভ্যাস রাতের ঘুম

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


দৈনন্দিনের যে ৭ অভ্যাস আপনার রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে

প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

সুস্থ শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম কেবল বিলাসিতা নয়, বরং একটি অপরিহার্য ভিত্তি। তবে অজান্তেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এমন কিছু অভ্যাস যুক্ত হয়ে পড়েছে, যা রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই ছোটখাটো ভুলগুলো খুব একটা দৃশ্যমান না হলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা ভয়াবহ অনিদ্রা, অবসাদ এবং মনোযোগহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সময়ের সাথে সাথে এসব অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে নানা জটিল ব্যাধির পথ প্রশস্ত করে। শরীর ও মনের সুস্থতা জন্য ঘুমের মান নষ্টকারী এসব অভ্যাসের বিরুদ্ধে এখন থেকেই সচেতন হওয়া উচিত।

দৈনন্দিন জীবনের এসব ভুল একদিনে সমস্যা তৈরি না করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনিদ্রা, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিদিনের জীবনযাত্রার কিছু ভুল আপনার রাতের প্রশান্তি যেভাবে কেড়ে নিচ্ছে, তা বিস্তারিত জানুন আজকের প্রতিবেদনে।

সময় মতো না ঘুমানো

পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য সময়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কখনো রাত ১০টা আবার কখনো রাত ১টায় ঘুমানোর মতো বদ অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বা 'সার্কাডিয়ান রিদম' মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। এই অনিয়মের ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ 'বায়োলজিক্যাল ক্লক' বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং বিশ্রামের সঠিক সময় নির্ধারণ করতে পারে না। এর সরাসরি প্রভাবে রাতে সহজে ঘুম আসতে চায় না এবং ঘুমের মানও আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ফলে, পর্যাপ্ত সময় বিছানায় কাটানোর পরেও সকালে শরীর ও মনে ক্লান্তি থেকে যায়। এর ফলে সারাদিনের কাজে মনোযোগের ঘাটতি তৈরি করে এবং কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম দেওয়া

স্মার্ট মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ শক্তি কমিয়ে দেয়। এই হরমোনই আমাদের ঘুম পেতে সাহায্য করে। ঘুমের আগে দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। ঘুমের মান খারাপ হয়।

বিছানায় কাজ করা

বিছানায় শুয়ে শুয়ে কাজ করা, ফোন ঘাঁটা বা সিরিজ দেখার অভ্যাস থাকলে মস্তিষ্ক বিছানাকে আর ঘুমের সংকেত হিসেবে তখন নেয় না। ধীরে ধীরে বিছানায় শুলেই ঘুম আসার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়।

রাতে ভারী খাবার খাওয়া

রাতের দেরি করে ভারি খাবার খাওয়া সরাসরি আমাদের শারীরিক ও ঘুমের ওপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে। গভীর রাতে তেল ও মসলাদার বা ভারী খাবার গ্রহণ করলে হজম প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে বুক জ্বালাপোড়া ও শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হয়, যা রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

সুস্থ ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের জন্য রাতের আহার হওয়া উচিত পরিমিত ও সহজপাচ্য। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগেই রাতের খাবার শেষ করা উচিত, যাতে ঘুমানোর আগেই শরীর খাদ্য পরিপাকের প্রাথমিক ধাপগুলো সম্পন্ন করতে পারে।

ভালো ঘুমের জন্য রাতের খাবার হওয়া উচিত হালকা। তা সেরে ফেলতে হবে ঘুমের অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে।


অতিরিক্ত চা-কফি খাওয়া

বিকেল বা সন্ধ্যার পর চা কিংবা কফি গ্রহণ করলে তার প্রভাব থাকে রাত পর্যন্ত। অনেকেই এটা ভাবেন যে এক কাপ কফিতে আর কিছু হবে না, কিন্তু নিয়মিত এই অভ্যাস ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দেয়।

ছুটির দিনে দেরি করে ওঠার অভ্যাস

অনেক জন ভাবেন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বেশি ঘুমিয়ে সারা সপ্তাহের ঘুম একেবারে পুষিয়ে নেবো। আসল কথা হচ্ছে যে এতে সপ্তাহের বাকি দিনের ঘুমের ছন্দ আরো এলোমেলো হয়ে যায়, যাকে বলা হয় ‘সোশ্যাল জেট ল্যাগ’। ছুটি পেলেই বেশি বেলা অবধি ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন ত্যাগ না করলে এই অভ্যাস আস্তে আস্তে ঘুমে অনেকটা ক্ষতি করে।

মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা

মানসিক অস্থিরতা বা দুশ্চিন্তার বোঝা নিয়ে বিছানায় গেলে মস্তিষ্ক সহজে শান্ত হতে পারে না। যখন মন অস্থির থাকে, তখন অবচেতন মনে নেতিবাচক চিন্তাগুলো ঘুরপাক খেতে থাকে,এর ফলে অনেক সময় মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় এবং পুনরায় ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই মানসিক চাপ কাটাতে ঘুমানোর আগে হালকা কোনো বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে, যা মস্তিষ্ককে শিথিল করতে সাহায্য করে।

প্রকৃতপক্ষে, শান্তির বা সঠিক ঘুমের জন্য প্রয়োজন একটি সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত রুটিন ও নিজের শরীরের সংকেত বোঝার ক্ষমতা। জীবনযাত্রার এই ছোটখাটো ভুলগুলো শুধরে নিতে পারলেই ঘুমের মান উন্নত হবে, যা আপনার শারীরিক ও মানসিক দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর।

সূত্র : এই সময়


এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত