নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় প্রজেক্টরে প্রদর্শিত ব্যাকগ্রাউন্ড ভিডিওতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের দুই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।জানা গেছে , ‘ইন্টারন্যাশনাল মাইক্রোঅর্গানিজম ডে-২০২৬’ উপলক্ষে অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান ও কর্মশালার আয়োজন করেছে। আয়োজনের প্রথম দিনে র্যালি শেষে মূল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় প্রজেক্টরে প্রদর্শিত ভিডিওর শেষ অংশে শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠে।বিষয়টি উপস্থিত অতিথিদের নজরে এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান। পরে ভিডিও বন্ধ করে পুনরায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।এ ঘটনায় অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানা এবং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোছাইন চৌধুরী।নোটিশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় শেখ হাসিনার ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি সুস্পষ্ট অসদাচরণ ও চাকরির শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রতি অসম্মানজনক ও চরম অবমাননাকর হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার ফাহমিদা সুলতানা বলেন, ‘জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আন্তর্জাতিক মাইক্রোঅর্গানিজম ডে উপলক্ষে আমাদের দুই দিনের কর্মশালা চলছিল। অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যস্ততার কারণে জাতীয় সংগীতের ভিডিওটি যথাযথভাবে রিভিউ করা হয়নি। বিষয়টি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে ভিডিও বন্ধ করে নতুন করে অডিওর মাধ্যমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।’প্রশাসনের শোকজ নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন এ ঘটনায় তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। ট্রেজারার স্যার অনুষ্ঠান বর্জন না করে বক্তব্য দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর হবে না।’অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় ইউটিউব থেকে চালানো ভিডিওতে প্রায় ১০ সেকেন্ডের জন্য শেখ হাসিনার ছবি ভেসে ওঠে। বিষয়টি অনুষ্ঠানে দায়িত্বে থাকা শিক্ষার্থীরা খেয়াল করেনি। পরে বিষয়টি নজরে আসার পর আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি এবং ওই শিক্ষার্থীও ক্ষমা চেয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় কোষাধ্যক্ষ অনুষ্ঠান বর্জন করেননি; পরবর্তীতে পুনরায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।’ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ‘জাতীয় সংগীতের ব্যাকগ্রাউন্ডে ফ্যাসিস্ট ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেখানো বিষয়টি আমার কাছে মোটেও গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। সেখানে বিদেশি তিনজন বিজ্ঞানী ও আমাদের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন না সৃষ্টি হয়, সেজন্য আমি ডায়াসে উঠে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠান ত্যাগ করি।’তিনি আরও বলেন, ‘কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে সাধারণত একটি রিহার্সাল বা পূর্ব-প্রস্তুতি থাকে, যা অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও বিভাগীয় প্রধানের তদারকি করার কথা ছিল। কীভাবে এমন ঘটলো, সে বিষয়ে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চাইব।’