ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

যশোরে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন: লক্ষ্য ৯০ হাজার শিশু



যশোরে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন: লক্ষ্য ৯০ হাজার শিশু
ছবি: সাহরিয়ার রাগিব

দেশব্যাপী হাম-রুবেলা সংক্রমণ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে যশোরে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে 'বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি-২০২৬'। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় সদর উপজেলার বিরামপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির সূচনা করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক। শিশুদের সুন্দর ও সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা প্রতিটি অভিভাবকের নৈতিক দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ এবং যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর আওতায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এই বিশাল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উদ্বোধনের পর সকাল ১১টা থেকে যশোর পৌর এলাকাতেও একযোগে টিকাদান শুরু হয়। প্রথম দিনে সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৬টি কেন্দ্রে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে টিকা প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় বিস্তৃত করা হবে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের বিশেষ কর্মসূচিতে যশোর জেলায় প্রায় ৯০ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে যারা নিয়মিত টিকাদান থেকে বাদ পড়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

যশোরে হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ১৬৩ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ২৫ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হলেও, যারা আগে টিকা নিতে পারেনি তারা এখন ২৮ দিনের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা গ্রহণ করতে পারবে। কোনো শিশুর শরীরে জ্বর, সর্দি-কাশি বা লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত শিশুকে অন্তত ৫ দিন আইসোলেশনে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

 

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : যশোর হাম টিকাদান

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬


যশোরে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন: লক্ষ্য ৯০ হাজার শিশু

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশব্যাপী হাম-রুবেলা সংক্রমণ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে যশোরে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে 'বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি-২০২৬'। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টায় সদর উপজেলার বিরামপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির সূচনা করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক। শিশুদের সুন্দর ও সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা প্রতিটি অভিভাবকের নৈতিক দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ এবং যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর আওতায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এই বিশাল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উদ্বোধনের পর সকাল ১১টা থেকে যশোর পৌর এলাকাতেও একযোগে টিকাদান শুরু হয়। প্রথম দিনে সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৬টি কেন্দ্রে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে টিকা প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় বিস্তৃত করা হবে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের বিশেষ কর্মসূচিতে যশোর জেলায় প্রায় ৯০ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে যারা নিয়মিত টিকাদান থেকে বাদ পড়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

যশোরে হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত ১৬৩ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ২৫ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হলেও, যারা আগে টিকা নিতে পারেনি তারা এখন ২৮ দিনের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা গ্রহণ করতে পারবে। কোনো শিশুর শরীরে জ্বর, সর্দি-কাশি বা লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত শিশুকে অন্তত ৫ দিন আইসোলেশনে রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

 

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত