ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

চট্টগ্রামে ৩৫০ ভরি ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার



চট্টগ্রামে ৩৫০ ভরি ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে আলোচিত ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই মামলার মূল আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর) পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। অভিযানে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ লুণ্ঠিত ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: পুলিশের চাকরিচ্যুত এসআই সুমন চন্দ্র দাস (৪২), তার স্ত্রী পান্না রানী দাস প্রকাশ দিপালী রানী দাশ (৩৮), মো. মাসুদ রানা প্রকাশ বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমন (২২), রবি কুমার দাস (৪০) বিবেক বনিক (৪২) পুলিশ জানায়, গতজানুয়ারি ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে সবুজ দেবনাথ তার দুই সহকর্মী বিভাস রায় পিন্টু ধরকে নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কোতোয়ালী থানার সাবেরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। অটোরিকশাটি পাঁচলাইশ থানাধীন আতুরের ডিপো এলাকায় মধুবনে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চারজন দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে। তারা নিজেদের পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে পিস্তল ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন মারধর করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৩৫টি স্বর্ণের বার (মোট ৩৫০ ভরি), তিনটি মোবাইল ফোন নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনায় পরদিনজানুয়ারি পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীরা জুতার (স্নিকার্স) ভেতরে লুকিয়ে স্বর্ণের বারগুলো বহন করছিলেন। এর মধ্যে সবুজ দেবনাথ পিন্টু ধর প্রত্যেকে ১১টি করে এবং বিভাস রায় ১৩টি স্বর্ণের বার বহন করছিলেন। এজাহারে আরও বলা হয়, স্বর্ণের বারগুলো কোতোয়ালী থানাধীন হাজারী গলির মিয়া শপিং মার্কেটেরজয়রাম ট্রেডার্সদোকানের মালিক কৃষ্ণ কর্মকারের এবং সেগুলো ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। সবুজ দেবনাথ গত ২০ বছর ধরে ওই দোকানে স্বর্ণকার হিসেবে কাজ করছেন।

মামলাটি তদন্তে পাঁচলাইশ মডেল থানা ডিবি (উত্তর) বিভাগের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করে অভিযান শুরু করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতজানুয়ারি বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার মূল অভিযুক্ত সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মো. মাসুদ রানা প্রকাশ বাইক বাবু (৩০) এবং রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমনকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক পুলিশ সদস্য সুমন চন্দ্র দাস ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিজের নেতৃত্বের কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যায় ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রবি কুমার দাস (৪০) এবং রাতে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে পান্না রানী দাস প্রকাশ দিপালী রানী দাশকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলার গোপন তথ্যদাতা হিসেবে বিবেক বনিককে (৪২) কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ীজানুয়ারি ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাধীন বৈশাখী খেলার মাঠ সংলগ্ন একটি বাসা থেকে কাগজের বাক্সে রাখা ২৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। পুলিশের হিসাবে উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন আনুমানিক ২৯০ ভরি, যার বাজারমূল্য প্রায়কোটি ৮০ লাখ টাকা। সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনায় জড়িত অন্য সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং বাকি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

এমএইছ / ধ্রুবকণ্ঠ

বিষয় : গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম স্বর্ণ ছিনতাই গ্রেপ্তার

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬


চট্টগ্রামে ৩৫০ ভরি ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামে আলোচিত ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই মামলার মূল আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর) পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। অভিযানে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ লুণ্ঠিত ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: পুলিশের চাকরিচ্যুত এসআই সুমন চন্দ্র দাস (৪২), তার স্ত্রী পান্না রানী দাস প্রকাশ দিপালী রানী দাশ (৩৮), মো. মাসুদ রানা প্রকাশ বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমন (২২), রবি কুমার দাস (৪০) বিবেক বনিক (৪২) পুলিশ জানায়, গতজানুয়ারি ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে সবুজ দেবনাথ তার দুই সহকর্মী বিভাস রায় পিন্টু ধরকে নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কোতোয়ালী থানার সাবেরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। অটোরিকশাটি পাঁচলাইশ থানাধীন আতুরের ডিপো এলাকায় মধুবনে পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চারজন দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে। তারা নিজেদের পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে পিস্তল ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন মারধর করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৩৫টি স্বর্ণের বার (মোট ৩৫০ ভরি), তিনটি মোবাইল ফোন নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনায় পরদিনজানুয়ারি পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীরা জুতার (স্নিকার্স) ভেতরে লুকিয়ে স্বর্ণের বারগুলো বহন করছিলেন। এর মধ্যে সবুজ দেবনাথ পিন্টু ধর প্রত্যেকে ১১টি করে এবং বিভাস রায় ১৩টি স্বর্ণের বার বহন করছিলেন। এজাহারে আরও বলা হয়, স্বর্ণের বারগুলো কোতোয়ালী থানাধীন হাজারী গলির মিয়া শপিং মার্কেটেরজয়রাম ট্রেডার্সদোকানের মালিক কৃষ্ণ কর্মকারের এবং সেগুলো ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। সবুজ দেবনাথ গত ২০ বছর ধরে ওই দোকানে স্বর্ণকার হিসেবে কাজ করছেন।

মামলাটি তদন্তে পাঁচলাইশ মডেল থানা ডিবি (উত্তর) বিভাগের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করে অভিযান শুরু করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতজানুয়ারি বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার মূল অভিযুক্ত সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মো. মাসুদ রানা প্রকাশ বাইক বাবু (৩০) এবং রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমনকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক পুলিশ সদস্য সুমন চন্দ্র দাস ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিজের নেতৃত্বের কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যায় ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে রবি কুমার দাস (৪০) এবং রাতে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে পান্না রানী দাস প্রকাশ দিপালী রানী দাশকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলার গোপন তথ্যদাতা হিসেবে বিবেক বনিককে (৪২) কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ীজানুয়ারি ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাধীন বৈশাখী খেলার মাঠ সংলগ্ন একটি বাসা থেকে কাগজের বাক্সে রাখা ২৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। পুলিশের হিসাবে উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন আনুমানিক ২৯০ ভরি, যার বাজারমূল্য প্রায়কোটি ৮০ লাখ টাকা। সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনায় জড়িত অন্য সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং বাকি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

এমএইছ / ধ্রুবকণ্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত