কোলোরেক্টাল ক্যানসার প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-এর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, সচেতনতা ও নিয়মিত স্ক্রিনিংই পারে এই নীরব ঘাতক রোগ থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে।
আগামীকাল ১ মার্চ থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মাসব্যাপী পালিত হবে কোলোরেক্টাল ক্যানসার সচেতনতা মাস। চট্টগ্রাম মহানগরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় সিএসসিআর হাসপাতাল-এর সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিএসসিআর এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট সার্জিক্যাল একাডেমি (পিজিএস একাডেমিয়া)-এর মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সিএসসিআর-এর চেয়ারম্যান ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে চসিকের পক্ষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিএসসিআর-এর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোর্শেদুল করিম চৌধুরী এবং পিজিএস একাডেমিয়ার পক্ষে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. খন্দকার এ কে আজাদ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
মেয়র তাঁর বক্তব্যে বলেন, “কোলোরেক্টাল ক্যানসার শুরুতে তেমন লক্ষণ প্রকাশ না করায় অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয়। ফলে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। তাই চল্লিশোর্ধ নাগরিকদের নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি নগরবাসীকে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ, ধূমপান পরিহার এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে টাইফয়েড টিকা, জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা প্রদান এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।” সিএসসিআর-এর জনবান্ধব উদ্যোগ—বিশেষ করে ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতনতা মাস ও কোলোরেক্টাল ক্যানসার সচেতনতা মাস উদযাপনের প্রশংসা করে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা জানান, কোলোনোস্কপি ও অকাল্ট ব্লাড পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফল চিকিৎসা সম্ভব হয়।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে মেয়র মাসব্যাপী পরিচালিত কোলোরেক্টাল ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্যোক্তারা জানান, সমঝোতা স্মারকের আওতায় সিএসসিআর-এর তৃতীয় তলায় মার্চ মাসব্যাপী প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ৪০ বছরোর্ধ্ব নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ক্যানসার শনাক্ত রোগীদের টিউমার বোর্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হবে। স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আওতাভুক্ত রোগীদের জন্য ৫০% ছাড়ে কোলোনোস্কপি, সিগময়ডোস্কপি ও অকাল্ট ব্লাড পরীক্ষার সুবিধা থাকবে। এছাড়া মার্চ মাসব্যাপী মেয়রের সুপারিশপ্রাপ্ত অসচ্ছল রোগীদের প্রয়োজনীয় অপারেশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন করা হবে। সিএসসিআর ও পিজিএস একাডেমিয়ার বিশেষজ্ঞ শল্যচিকিৎসক দল চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও মাসব্যাপী স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
মেয়র নগরবাসীকে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একটি সুস্থ নগর গড়তে হলে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগেই কোলোরেক্টাল ক্যানসার প্রতিরোধ সম্ভব।”
.png)
রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কোলোরেক্টাল ক্যানসার প্রতিরোধে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-এর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, সচেতনতা ও নিয়মিত স্ক্রিনিংই পারে এই নীরব ঘাতক রোগ থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে।
আগামীকাল ১ মার্চ থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মাসব্যাপী পালিত হবে কোলোরেক্টাল ক্যানসার সচেতনতা মাস। চট্টগ্রাম মহানগরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় সিএসসিআর হাসপাতাল-এর সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিএসসিআর এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট সার্জিক্যাল একাডেমি (পিজিএস একাডেমিয়া)-এর মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
সিএসসিআর-এর চেয়ারম্যান ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে চসিকের পক্ষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিএসসিআর-এর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোর্শেদুল করিম চৌধুরী এবং পিজিএস একাডেমিয়ার পক্ষে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. খন্দকার এ কে আজাদ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
মেয়র তাঁর বক্তব্যে বলেন, “কোলোরেক্টাল ক্যানসার শুরুতে তেমন লক্ষণ প্রকাশ না করায় অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয়। ফলে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। তাই চল্লিশোর্ধ নাগরিকদের নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি নগরবাসীকে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ, ধূমপান পরিহার এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে টাইফয়েড টিকা, জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা প্রদান এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।” সিএসসিআর-এর জনবান্ধব উদ্যোগ—বিশেষ করে ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতনতা মাস ও কোলোরেক্টাল ক্যানসার সচেতনতা মাস উদযাপনের প্রশংসা করে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরা জানান, কোলোনোস্কপি ও অকাল্ট ব্লাড পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফল চিকিৎসা সম্ভব হয়।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে মেয়র মাসব্যাপী পরিচালিত কোলোরেক্টাল ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্যোক্তারা জানান, সমঝোতা স্মারকের আওতায় সিএসসিআর-এর তৃতীয় তলায় মার্চ মাসব্যাপী প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ৪০ বছরোর্ধ্ব নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ক্যানসার শনাক্ত রোগীদের টিউমার বোর্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হবে। স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আওতাভুক্ত রোগীদের জন্য ৫০% ছাড়ে কোলোনোস্কপি, সিগময়ডোস্কপি ও অকাল্ট ব্লাড পরীক্ষার সুবিধা থাকবে। এছাড়া মার্চ মাসব্যাপী মেয়রের সুপারিশপ্রাপ্ত অসচ্ছল রোগীদের প্রয়োজনীয় অপারেশন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন করা হবে। সিএসসিআর ও পিজিএস একাডেমিয়ার বিশেষজ্ঞ শল্যচিকিৎসক দল চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও মাসব্যাপী স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
মেয়র নগরবাসীকে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একটি সুস্থ নগর গড়তে হলে প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগেই কোলোরেক্টাল ক্যানসার প্রতিরোধ সম্ভব।”
.png)
আপনার মতামত লিখুন