ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

জনগণ শুধু একটু শান্তি চায়


অদিতি করিম
অদিতি করিম
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

জনগণ শুধু একটু শান্তি চায়
অদিতি করিম

দেশজুড়ে শীতের প্রচণ্ড দাপটের সঙ্গে নির্বাচনি উত্তাপ বইছে। যদিও নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার এখনো শুরু হয়নি। এখনো চলছে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল নিষ্পত্তি। কিন্তু যাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে তাঁরা এক মুহূর্ত নষ্ট করতে রাজি নন।

নানান প্রতিশ্রুতি আশ্বাসের নহর বইছে নির্বাচনি এলাকাগুলোতে। নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থী যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তার অর্ধেকও যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে দেশে কোনো অভাব থাকবে না। দেশের কোনো মানুষ দরিদ্র থাকবে না। সব মানুষ আরাম-আয়েশে জীবন কাটাবে।

দেশে কোনো অপরাধীর নামনিশানা থাকবে না। সব মানুষ দরজা-জানালা খুলে রাতে ঘুমাবে। নির্বাচনি অঙ্গীকারের আংশিক পূরণ হলেও দেশে বন্ধ হয়ে যাবে দুর্নীতি। সরকারি অফিসে সাধারণ মানুষের কোনো হয়রানি হবে না।

সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হবে না। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর ভুগতে হবে না কাউকেই। বাংলাদেশে নেমে আসবে স্বর্গসুখ।

কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ ঘরপোড়া গরু, সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পাই।

আমরা জানি এসব প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাস সিনেমার সংলাপের মতো। পর্দায় শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু বাস্তবে তা কেউ বলে না। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য নয়, কেবল যেন শুধু প্রচারের জন্য। আমরা সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এত কিছু চাই না। একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে আমরা শুধু একটু শান্তি চাই।

দেশে দেশে শান্তির অর্থের রকমফের আছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে শান্তি মানে অর্থনীতি ভালো থাকা। সেখানে অর্থই শান্তির চাবি। আবার ফিলিস্তিনিদের কাছে শান্তি মানে যুদ্ধ বন্ধ। বাংলাদেশের জনগণের কাছে শান্তির মানে খুবই সহজ এবং ছোট্ট। দেশের মানুষ খুব বেশি কিছু চায় না।

আমরা দেশে মানসম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই। পরিশ্রম করে এমন উপার্জন করতে চাই যা দিয়ে কারও কাছে হাত না পেতে চলা যায়। যোগ্যতা অনুযায়ী একটা চাকরি চায় দেশের মানুষ। অথবা নিজের মেধা দক্ষতা অনুযায়ী বাধাহীনভাবে নিজের ব্যবসা করতে চায়। দেশে এখন প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য মিলিয়ে বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ পেরিয়ে গেছে। গত দেড় বছরে বেকার মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় শতাংশ। অনেকে চাকরি হারিয়েছে। যারা বেকার, তারা অধিকাংশই তরুণ। এরা প্রাণশক্তিতে ভরপুর। কিন্তু দীর্ঘ বেকারত্ব এদের মেধা উদ্যম গ্রাস করে ফেলেছে। এদের অনেকে হতাশ হয়ে বিপথগামী হয়ে যাচ্ছে। এসব বেকার তরুণ শুধু একটা চাকরি চায়। এটাই তাদের জন্য শান্তির ঠিকানা। বাংলাদেশে গত দেড় বছরে বহু ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোক্তা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই নানান বাস্তবতায় তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা নির্ভয়ে এবং নিরাপদে ব্যবসা করতে চান। বাংলাদেশের বড় বেসরকারি উদ্যোক্তারাই অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাঁরাও এক কঠিন সময় অতিক্রম করছেন। 
বিনিয়োগবান্ধব বাংলাদেশ চান তাঁরা। তাঁরা চান নিরাপত্তা, হয়রানিমুক্ত পরিবেশ। একজন শিল্প উদ্যোক্তা চান ভাবনাহীনভাবে কাজ করতে, তিনি যেন প্রতিহিংসার শিকার না হন। এটাই তাঁর শান্তির ঠিকানা। দেশের সাধারণ মানুষ চায় সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরতে। পথে যেন সে মবের শিকার না হয়। তার চলার পথ রুদ্ধ করে যেন আন্দোলনের নামে হয়রানি না করা হয়। সে চায় রাতে নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে ঘুমাতে। একজন গৃহিণী চান তাঁর বাজেটের মধ্যে যেন সংসারের জিনিসপত্র কিনতে পারেন। বাজারে গিয়ে যেন পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে দিশাহারা না হন। বাজেটের মধ্যে জিনিসপত্রের মূল্য থাকাটাই তাঁর কাছে চরম শান্তির। একজন মা চান তাঁর সন্তান যেন মানসম্মত শিক্ষা পায়। সন্ত্রাস, উচ্ছৃঙ্খলতার কারণে যেন তাঁর সন্তানের শিক্ষাজীবন ব্যাহত না হয়। শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতায় তাঁর সন্তান যেন অকালে ঝরে না যায়। সন্তানকে ঠিকমতো মানুষ করতে পারাটাই একজন অভিভাবকের পরম শান্তি।

একজন অসুস্থ মানুষের একমাত্র চাওয়া সুচিকিৎসা। তিনি যেন সরকারি কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে প্রতারিত না হন। আমাদের দেশের মানুষের চাহিদা খুবই সামান্য। দুই বেলা ঠিকমতো খেতে পারলে, নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারলে, আয় অনুযায়ী চলতে পারলে দেশের মানুষ মহাখুশি। পৃথিবীর খুব কম দেশের মানুষ এত অল্পতে সন্তুষ্ট থাকে। দেশের মানুষ সামান্য আনন্দ প্রাণ ভরে উপভোগ করে। একটু ভালোবাসা পেলে তার জন্য জীবন উৎসর্গ করে। প্রচ  আবেগ আর ভালোবাসা দেশের মানুষের প্রাণশক্তি। তাই দেশের মানুষকে খুশি করা খুব সহজ। তারা আর কিছু চায় না, একটু শান্তি চায়। তাই আগামী নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছ থেকে এত আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি দরকার নেই। সবাই মিলে একটি শান্তির বাংলাদেশ গড়ে তুলুন। আমরা আর হিংসা-হানাহানি চাই না। আমরা শুধু একটু শান্তি চাই।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬


জনগণ শুধু একটু শান্তি চায়

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে শীতের প্রচণ্ড দাপটের সঙ্গে নির্বাচনি উত্তাপ বইছে। যদিও নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার এখনো শুরু হয়নি। এখনো চলছে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল নিষ্পত্তি। কিন্তু যাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে তাঁরা এক মুহূর্ত নষ্ট করতে রাজি নন।

নানান প্রতিশ্রুতি আশ্বাসের নহর বইছে নির্বাচনি এলাকাগুলোতে। নির্বাচনে বিভিন্ন প্রার্থী যেসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তার অর্ধেকও যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে দেশে কোনো অভাব থাকবে না। দেশের কোনো মানুষ দরিদ্র থাকবে না। সব মানুষ আরাম-আয়েশে জীবন কাটাবে।

দেশে কোনো অপরাধীর নামনিশানা থাকবে না। সব মানুষ দরজা-জানালা খুলে রাতে ঘুমাবে। নির্বাচনি অঙ্গীকারের আংশিক পূরণ হলেও দেশে বন্ধ হয়ে যাবে দুর্নীতি। সরকারি অফিসে সাধারণ মানুষের কোনো হয়রানি হবে না।

সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হবে না। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর ভুগতে হবে না কাউকেই। বাংলাদেশে নেমে আসবে স্বর্গসুখ।

কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ ঘরপোড়া গরু, সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পাই।

আমরা জানি এসব প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাস সিনেমার সংলাপের মতো। পর্দায় শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু বাস্তবে তা কেউ বলে না। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য নয়, কেবল যেন শুধু প্রচারের জন্য। আমরা সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এত কিছু চাই না। একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে আমরা শুধু একটু শান্তি চাই।

দেশে দেশে শান্তির অর্থের রকমফের আছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে শান্তি মানে অর্থনীতি ভালো থাকা। সেখানে অর্থই শান্তির চাবি। আবার ফিলিস্তিনিদের কাছে শান্তি মানে যুদ্ধ বন্ধ। বাংলাদেশের জনগণের কাছে শান্তির মানে খুবই সহজ এবং ছোট্ট। দেশের মানুষ খুব বেশি কিছু চায় না।

আমরা দেশে মানসম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই। পরিশ্রম করে এমন উপার্জন করতে চাই যা দিয়ে কারও কাছে হাত না পেতে চলা যায়। যোগ্যতা অনুযায়ী একটা চাকরি চায় দেশের মানুষ। অথবা নিজের মেধা দক্ষতা অনুযায়ী বাধাহীনভাবে নিজের ব্যবসা করতে চায়। দেশে এখন প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য মিলিয়ে বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ পেরিয়ে গেছে। গত দেড় বছরে বেকার মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় শতাংশ। অনেকে চাকরি হারিয়েছে। যারা বেকার, তারা অধিকাংশই তরুণ। এরা প্রাণশক্তিতে ভরপুর। কিন্তু দীর্ঘ বেকারত্ব এদের মেধা উদ্যম গ্রাস করে ফেলেছে। এদের অনেকে হতাশ হয়ে বিপথগামী হয়ে যাচ্ছে। এসব বেকার তরুণ শুধু একটা চাকরি চায়। এটাই তাদের জন্য শান্তির ঠিকানা। বাংলাদেশে গত দেড় বছরে বহু ক্ষুদ্র মাঝারি উদ্যোক্তা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই নানান বাস্তবতায় তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। এসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা নির্ভয়ে এবং নিরাপদে ব্যবসা করতে চান। বাংলাদেশের বড় বেসরকারি উদ্যোক্তারাই অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাঁরাও এক কঠিন সময় অতিক্রম করছেন। 
বিনিয়োগবান্ধব বাংলাদেশ চান তাঁরা। তাঁরা চান নিরাপত্তা, হয়রানিমুক্ত পরিবেশ। একজন শিল্প উদ্যোক্তা চান ভাবনাহীনভাবে কাজ করতে, তিনি যেন প্রতিহিংসার শিকার না হন। এটাই তাঁর শান্তির ঠিকানা। দেশের সাধারণ মানুষ চায় সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরতে। পথে যেন সে মবের শিকার না হয়। তার চলার পথ রুদ্ধ করে যেন আন্দোলনের নামে হয়রানি না করা হয়। সে চায় রাতে নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে ঘুমাতে। একজন গৃহিণী চান তাঁর বাজেটের মধ্যে যেন সংসারের জিনিসপত্র কিনতে পারেন। বাজারে গিয়ে যেন পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে দিশাহারা না হন। বাজেটের মধ্যে জিনিসপত্রের মূল্য থাকাটাই তাঁর কাছে চরম শান্তির। একজন মা চান তাঁর সন্তান যেন মানসম্মত শিক্ষা পায়। সন্ত্রাস, উচ্ছৃঙ্খলতার কারণে যেন তাঁর সন্তানের শিক্ষাজীবন ব্যাহত না হয়। শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতায় তাঁর সন্তান যেন অকালে ঝরে না যায়। সন্তানকে ঠিকমতো মানুষ করতে পারাটাই একজন অভিভাবকের পরম শান্তি।

একজন অসুস্থ মানুষের একমাত্র চাওয়া সুচিকিৎসা। তিনি যেন সরকারি কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে প্রতারিত না হন। আমাদের দেশের মানুষের চাহিদা খুবই সামান্য। দুই বেলা ঠিকমতো খেতে পারলে, নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারলে, আয় অনুযায়ী চলতে পারলে দেশের মানুষ মহাখুশি। পৃথিবীর খুব কম দেশের মানুষ এত অল্পতে সন্তুষ্ট থাকে। দেশের মানুষ সামান্য আনন্দ প্রাণ ভরে উপভোগ করে। একটু ভালোবাসা পেলে তার জন্য জীবন উৎসর্গ করে। প্রচ  আবেগ আর ভালোবাসা দেশের মানুষের প্রাণশক্তি। তাই দেশের মানুষকে খুশি করা খুব সহজ। তারা আর কিছু চায় না, একটু শান্তি চায়। তাই আগামী নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছ থেকে এত আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি দরকার নেই। সবাই মিলে একটি শান্তির বাংলাদেশ গড়ে তুলুন। আমরা আর হিংসা-হানাহানি চাই না। আমরা শুধু একটু শান্তি চাই।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত