ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট জনগণকে যন্ত্রণায় ফেলেছে : মুফতি আব্দুল মালেক



‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট জনগণকে যন্ত্রণায় ফেলেছে : মুফতি আব্দুল মালেক
ছবি: সংগৃহীত

গণভোটে একাধিক বিষয়ের ওপর একসঙ্গেহ্যাঁঅথবানাবলতে বাধ্য করায় জনগণকে এক ধরনের পেরেশানি যন্ত্রণার মধ্যে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।

আজ শুক্রবার ( ফেব্রুয়ারি) জুমার খুতবায় এমন মন্তব্য করেন মুফতি আবদুল মালেক। 

গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গণভোটে পাঁচ থেকে আটটি বিষয়ে একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে। অথচ ভোটারদের প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। আলাদা আলাদা অপশন নাই কেন? আপনাদের সিলে কম পড়ছে, না কালিতে টান পড়ছে? কিসে কম পড়ছে? ‘হ্যাঁবলতে হলে সব বিষয়েহ্যাঁ’, ‘নাবলতে হলে সব বিষয়েনাবলতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ পেরেশানিতে পড়েছে।

মুফতি আব্দুল মালেক আরও বলেন, একজন ভোটার কোনো কোনো বিষয়ের সঙ্গে একমত হতে পারেন, আবার কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আলাদা আলাদা প্রশ্ন থাকলে তিনি আলাদাভাবেই উত্তর দিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় তা সম্ভব নয়। কাউকে হ্যাঁ বলতে হলে সবগুলোতেইহ্যাঁবলতে হয় অথবা না বললে সবগুলোতেইনাবলতে হয়। কারণে মানুষ জোরপূর্বক একটি অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে।

জাতীয় মসজিদের খতিব বলেন, গণভোটেহ্যাঁনা’- দুটি বিকল্প থাকায় জনগণের যেকোনোটি বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। সরকার বা কোনো দলহ্যাঁভোটে উৎসাহ দিলেওনাভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। কাউকে কোনো একটি পক্ষ নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।

খুতবায় তিনি ভোটকে একটি পবিত্রআমানতহিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভয়, লোভ বা প্রতারিত হয়ে নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এবং সচেতনভাবে ভোট দেওয়া উচিত। ক্ষেত্রে বিজ্ঞ সৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় নাম, প্রতীক বা স্লোগানে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ইসলামের নাম ব্যবহার করলেই কোনো দল ইসলামসম্মতএমন ধারণা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন মুফতি আবদুল মালেক। দলগুলোর আদর্শ, ইশতেহার কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, ‘একটা ইসলামিক দল, তার ইশতেহার পড়ে দেখেন, সেক্যুলার দলের ইশতেহার যেমন হয়, ওই দলের ইশতেহারও তেমন। ইশতেহার বড় কিছু নয় যে ইশতেহার দেখেই কোনো দলকে ভোট দেওয়া যায়। তারপরও এটার কোনো মূল্য তো আছে, নয়তো সবাই ইশতেহার দেয় কেন। জন্য ইসলামের নামের জন্য কাউকে ভোট দেবেন না। আবার ইসলামের নাম নাই, জন্য কাউকে বলবেন না যে তাকে ভোট দেওয়াই যাবে না।

তিনি বলেন, ‘দুঃখের বিষয় আমাদের কাছে ইসলামী খেলাফত ব্যবস্থা নাই। কায়েম করার জন্য কেউ উঠেও দাঁড়াচ্ছে না। সেজন্য আমরা ব্যথিত।

মুফতি আব্দুল মালেক আরও বলেন, ‘যারা মানবিক দেশ গড়ার জন্য যাচ্ছে, তারা কোন মানবতার কথা বলছে? ইসলামী মানবতা নাকি পশ্চিমাদের মানবতা? কিন্তু তারা তো ইসলামী মানবতার কথা বলছে না। যে মানবতা ইসলাম কোরআনে পাওয়া যায়, নবিজির সিরাতে বলা আছে, সে মানবতার কথা তো তারা বলছে না। শুধু মনোগ্রামে কোরআনের আয়াত, আকর্ষণীয় নাম মার্কা দেখে প্রভাবিত হয়ে ভোটাধিকার ব্যবহার করবেন না। জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘দোয়া করবেন, যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় নাই, আখারাতে হিসাব দেওয়ার চিন্তা নাই, আল্লাহর মাখলুকাতের প্রতি দয়া মায়া নাই, তাদের হাতে যেন দেশের ক্ষমতা না যায়। যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে, আখেরাতে হিসাব দেওয়ার চিন্তা আছে এবং আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়ামায়া আছে, তাদের কাছে যেন ক্ষমতা যায়।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : ভোট মুফতি আব্দুল মালেক জনগণক

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

রোববার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট জনগণকে যন্ত্রণায় ফেলেছে : মুফতি আব্দুল মালেক

প্রকাশের তারিখ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

গণভোটে একাধিক বিষয়ের ওপর একসঙ্গেহ্যাঁঅথবানাবলতে বাধ্য করায় জনগণকে এক ধরনের পেরেশানি যন্ত্রণার মধ্যে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।

আজ শুক্রবার ( ফেব্রুয়ারি) জুমার খুতবায় এমন মন্তব্য করেন মুফতি আবদুল মালেক। 

গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘গণভোটে পাঁচ থেকে আটটি বিষয়ে একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে। অথচ ভোটারদের প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। আলাদা আলাদা অপশন নাই কেন? আপনাদের সিলে কম পড়ছে, না কালিতে টান পড়ছে? কিসে কম পড়ছে? ‘হ্যাঁবলতে হলে সব বিষয়েহ্যাঁ’, ‘নাবলতে হলে সব বিষয়েনাবলতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ পেরেশানিতে পড়েছে।

মুফতি আব্দুল মালেক আরও বলেন, একজন ভোটার কোনো কোনো বিষয়ের সঙ্গে একমত হতে পারেন, আবার কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আলাদা আলাদা প্রশ্ন থাকলে তিনি আলাদাভাবেই উত্তর দিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় তা সম্ভব নয়। কাউকে হ্যাঁ বলতে হলে সবগুলোতেইহ্যাঁবলতে হয় অথবা না বললে সবগুলোতেইনাবলতে হয়। কারণে মানুষ জোরপূর্বক একটি অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে।

জাতীয় মসজিদের খতিব বলেন, গণভোটেহ্যাঁনা’- দুটি বিকল্প থাকায় জনগণের যেকোনোটি বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। সরকার বা কোনো দলহ্যাঁভোটে উৎসাহ দিলেওনাভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। কাউকে কোনো একটি পক্ষ নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।

খুতবায় তিনি ভোটকে একটি পবিত্রআমানতহিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভয়, লোভ বা প্রতারিত হয়ে নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এবং সচেতনভাবে ভোট দেওয়া উচিত। ক্ষেত্রে বিজ্ঞ সৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় নাম, প্রতীক বা স্লোগানে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ইসলামের নাম ব্যবহার করলেই কোনো দল ইসলামসম্মতএমন ধারণা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন মুফতি আবদুল মালেক। দলগুলোর আদর্শ, ইশতেহার কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, ‘একটা ইসলামিক দল, তার ইশতেহার পড়ে দেখেন, সেক্যুলার দলের ইশতেহার যেমন হয়, ওই দলের ইশতেহারও তেমন। ইশতেহার বড় কিছু নয় যে ইশতেহার দেখেই কোনো দলকে ভোট দেওয়া যায়। তারপরও এটার কোনো মূল্য তো আছে, নয়তো সবাই ইশতেহার দেয় কেন। জন্য ইসলামের নামের জন্য কাউকে ভোট দেবেন না। আবার ইসলামের নাম নাই, জন্য কাউকে বলবেন না যে তাকে ভোট দেওয়াই যাবে না।

তিনি বলেন, ‘দুঃখের বিষয় আমাদের কাছে ইসলামী খেলাফত ব্যবস্থা নাই। কায়েম করার জন্য কেউ উঠেও দাঁড়াচ্ছে না। সেজন্য আমরা ব্যথিত।

মুফতি আব্দুল মালেক আরও বলেন, ‘যারা মানবিক দেশ গড়ার জন্য যাচ্ছে, তারা কোন মানবতার কথা বলছে? ইসলামী মানবতা নাকি পশ্চিমাদের মানবতা? কিন্তু তারা তো ইসলামী মানবতার কথা বলছে না। যে মানবতা ইসলাম কোরআনে পাওয়া যায়, নবিজির সিরাতে বলা আছে, সে মানবতার কথা তো তারা বলছে না। শুধু মনোগ্রামে কোরআনের আয়াত, আকর্ষণীয় নাম মার্কা দেখে প্রভাবিত হয়ে ভোটাধিকার ব্যবহার করবেন না। জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘দোয়া করবেন, যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় নাই, আখারাতে হিসাব দেওয়ার চিন্তা নাই, আল্লাহর মাখলুকাতের প্রতি দয়া মায়া নাই, তাদের হাতে যেন দেশের ক্ষমতা না যায়। যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে, আখেরাতে হিসাব দেওয়ার চিন্তা আছে এবং আল্লাহর বান্দাদের প্রতি দয়ামায়া আছে, তাদের কাছে যেন ক্ষমতা যায়।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত