ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান



বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটে বিজয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে একই দিন সকালের দিকে সব সংসদ সদস্যের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রীদেরও শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

নেতা থেকে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের সময়ই দলের ভেতরে সক্রিয় হয়ে উঠতে থাকেন তারেক রহমান। সেবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি জোট। তবে তারেক রহমান এমপি পদে নির্বাচন করেননি। পরে ২০০২ সালের ২২ জুন দলের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ তৈরি করে তাকে ওই পদে অধিষ্ঠিত করা হয়।

তারেক রহমানকে এক-এগারোর সরকারের সময় একাধিক মামলা, ১৮ মাসের কারাবরণ নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় সতেরো বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকতে হয়। আগস্টের ক্ষমতার রদবদলের পরে আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ইতি ঘটিয়ে দেশে ফেরেন তিনি।

পর গত ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরে বিএনপির পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা পান তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে অবশেষে সরাসরি নেতৃত্বে আসীন হন তিনি। দলের চেয়ারপারসন তথা তারেক রহমানের মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তখন সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

অবস্থায় বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের তৈরি করা দলটি প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংগঠিত জনপ্রিয় হওয়ার পর আবার একটি সমস্যা-সংকুল পথ পাড়ি দিয়ে তাদের বড় সন্তান তারেক রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ার সময়ে পদার্পণ করে। এর কয়েকদিন পর খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং সংসদ নির্বাচনের মতো দুটি ঘটনা সামলাতে হয় তারেক রহমানকে।

মায়ের মৃত্যুতে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে নির্বাচনী-যুদ্ধে মূল নেতৃত্ব দিতে হয় তাকে। এতে সফল তিনি, ছিনিয়ে এনেছেন নিরঙ্কুশ বিজয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে দুইটির আসনের নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং প্রার্থীর মারা যাওয়ায় একটি আসনের নির্বাচন বাতিল হয়েছে। বাকি ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯, জামায়াত ৬৮, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে এবারই প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিলেন তারেক রহমান এবং একই সঙ্গে তিনি নিজেও এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। দুটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুটিতেই জিতেছেন তিনি।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী শপথ ১১তম

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটে বিজয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে একই দিন সকালের দিকে সব সংসদ সদস্যের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রীদেরও শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

নেতা থেকে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের সময়ই দলের ভেতরে সক্রিয় হয়ে উঠতে থাকেন তারেক রহমান। সেবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি জোট। তবে তারেক রহমান এমপি পদে নির্বাচন করেননি। পরে ২০০২ সালের ২২ জুন দলের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ তৈরি করে তাকে ওই পদে অধিষ্ঠিত করা হয়।

তারেক রহমানকে এক-এগারোর সরকারের সময় একাধিক মামলা, ১৮ মাসের কারাবরণ নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় সতেরো বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকতে হয়। আগস্টের ক্ষমতার রদবদলের পরে আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ইতি ঘটিয়ে দেশে ফেরেন তিনি।

পর গত ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরে বিএনপির পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা পান তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে অবশেষে সরাসরি নেতৃত্বে আসীন হন তিনি। দলের চেয়ারপারসন তথা তারেক রহমানের মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তখন সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

অবস্থায় বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের তৈরি করা দলটি প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংগঠিত জনপ্রিয় হওয়ার পর আবার একটি সমস্যা-সংকুল পথ পাড়ি দিয়ে তাদের বড় সন্তান তারেক রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ার সময়ে পদার্পণ করে। এর কয়েকদিন পর খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং সংসদ নির্বাচনের মতো দুটি ঘটনা সামলাতে হয় তারেক রহমানকে।

মায়ের মৃত্যুতে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে নির্বাচনী-যুদ্ধে মূল নেতৃত্ব দিতে হয় তাকে। এতে সফল তিনি, ছিনিয়ে এনেছেন নিরঙ্কুশ বিজয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে দুইটির আসনের নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং প্রার্থীর মারা যাওয়ায় একটি আসনের নির্বাচন বাতিল হয়েছে। বাকি ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯, জামায়াত ৬৮, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিকে এবারই প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিলেন তারেক রহমান এবং একই সঙ্গে তিনি নিজেও এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। দুটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুটিতেই জিতেছেন তিনি।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত