ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

যুক্তরাষ্টে এক বছরেই ভিসা বাতিল হয়েছে রেকর্ড ১ লাখ



যুক্তরাষ্টে এক বছরেই ভিসা বাতিল হয়েছে রেকর্ড ১ লাখ
ছবি : সংগৃহীত

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ভিসা রয়েছে প্রায় হাজারের বেশি। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, ‘আমেরিকাকে নিরাপদ রাখতে আমরা অপরাধী বহিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।

ঐ পোস্টে আরও বলা হয়, স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। এর মধ্যে প্রায় হাজার শিক্ষার্থী ভিসা এবং হাজার ৫০০ বিশেষায়িত ভিসা রয়েছে। এসব ভিসাধারীর মধ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের ভিসাও রয়েছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল ডেপুটি স্পোকসপারসন টমি পিগট বলেন, এক বছরের কম সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। টমি পিগট আরও বলেন, হাজার হাজার বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে হামলা, চুরি এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ড রয়েছে।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের শেষ বছর ২০২৪ সালে প্রায় ৪০ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে বাতিল হওয়া ভিসার বড় অংশই ছিল ব্যবসা পর্যটন ভিসা, যাদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার অভিযোগ ছিল। তবে তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে অপরাধমূলক সংঘাতের অভিযোগ তুলে হাজার শিক্ষার্থী এবং বিশেষায়িত ভিসায় থাকা হাজার ৫০০ ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষায়িত ভিসাধারী কর্মীদের ক্ষেত্রে বাতিল হওয়া ভিসার অর্ধেকই মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর (ড্রাঙ্কেন ড্রাইভিং) অভিযোগের ভিত্তিতে। ছাড়া ৩০ শতাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে হামলা, মারধর বা বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগে। বাকি ২০ শতাংশ ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চুরি, শিশু নির্যাতন, মাদক সেবন সরবরাহ, প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদক বহন বিতরণের অভিযোগে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হওয়ায় শত শত বিদেশি কর্মীর ভিসাও বাতিল হয়েছে। প্রতিবেদনে টমি পিগটের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, নতুন কনটিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার-এর মাধ্যমে প্রশাসন তাদের এই নীতি অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকাকে সবার আগে রাখার নীতি ধরে রাখবে এবং এমন বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে আমাদের দেশকে রক্ষা করবে, যারা জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অবৈধ উভয় ধরনের অভিবাসনের ওপর দমনপীড়ন জোরদার করেছে এবং যাঁরা কাজ বা পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চান, তাঁদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর করেছে।

গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এইচ-১বি এবং এর ওপর নির্ভরশীল এইচ- ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল পরীক্ষাসহ আরও উন্নত স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া শুরু করেছে। স্টট ডিপার্টমেন্ট বারবার জোর দিয়ে বলেছে, মার্কিন ভিসা একটি বিশেষ সুযোগ, কোনো অধিকার নয়। জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে, এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে তারা স্ক্রিনিং এবং যাচাইকরণের সময় সব তথ্য পরীক্ষা করে দেখবে।

 

এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ভিসা

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬


যুক্তরাষ্টে এক বছরেই ভিসা বাতিল হয়েছে রেকর্ড ১ লাখ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ভিসা রয়েছে প্রায় হাজারের বেশি। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, ‘আমেরিকাকে নিরাপদ রাখতে আমরা অপরাধী বহিষ্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।

ঐ পোস্টে আরও বলা হয়, স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। এর মধ্যে প্রায় হাজার শিক্ষার্থী ভিসা এবং হাজার ৫০০ বিশেষায়িত ভিসা রয়েছে। এসব ভিসাধারীর মধ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের ভিসাও রয়েছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল ডেপুটি স্পোকসপারসন টমি পিগট বলেন, এক বছরের কম সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে। টমি পিগট আরও বলেন, হাজার হাজার বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে হামলা, চুরি এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ড রয়েছে।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের শেষ বছর ২০২৪ সালে প্রায় ৪০ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে বাতিল হওয়া ভিসার বড় অংশই ছিল ব্যবসা পর্যটন ভিসা, যাদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার অভিযোগ ছিল। তবে তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে অপরাধমূলক সংঘাতের অভিযোগ তুলে হাজার শিক্ষার্থী এবং বিশেষায়িত ভিসায় থাকা হাজার ৫০০ ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষায়িত ভিসাধারী কর্মীদের ক্ষেত্রে বাতিল হওয়া ভিসার অর্ধেকই মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর (ড্রাঙ্কেন ড্রাইভিং) অভিযোগের ভিত্তিতে। ছাড়া ৩০ শতাংশ ভিসা বাতিল করা হয়েছে হামলা, মারধর বা বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগে। বাকি ২০ শতাংশ ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চুরি, শিশু নির্যাতন, মাদক সেবন সরবরাহ, প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদক বহন বিতরণের অভিযোগে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হওয়ায় শত শত বিদেশি কর্মীর ভিসাও বাতিল হয়েছে। প্রতিবেদনে টমি পিগটের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, নতুন কনটিনিউয়াস ভেটিং সেন্টার-এর মাধ্যমে প্রশাসন তাদের এই নীতি অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকাকে সবার আগে রাখার নীতি ধরে রাখবে এবং এমন বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে আমাদের দেশকে রক্ষা করবে, যারা জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অবৈধ উভয় ধরনের অভিবাসনের ওপর দমনপীড়ন জোরদার করেছে এবং যাঁরা কাজ বা পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চান, তাঁদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর করেছে।

গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এইচ-১বি এবং এর ওপর নির্ভরশীল এইচ- ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল পরীক্ষাসহ আরও উন্নত স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া শুরু করেছে। স্টট ডিপার্টমেন্ট বারবার জোর দিয়ে বলেছে, মার্কিন ভিসা একটি বিশেষ সুযোগ, কোনো অধিকার নয়। জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে, এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে তারা স্ক্রিনিং এবং যাচাইকরণের সময় সব তথ্য পরীক্ষা করে দেখবে।

 

এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত