মালয়েশিয়ার সাবেক সেনাপ্রধান মোহাম্মদ হাফিজউদ্দিন জানতান ও তার দুই স্ত্রীকে সামরিক বাহিনীর একটি ক্রয় প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি)।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হলে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বার্তা সংস্থা এএফপি এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার মালয়েশিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তদন্তের অংশ হিসেবে বুধবার (৭ জানুয়ারি) হাফিজউদ্দিন ও তার দুই স্ত্রীকে হেফাজতে নেয় এমএসিসি। পরে তাদের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কমিশনার আজম বাকি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে এই মামলার তদন্ত করা হচ্ছে।” তিনি জানান, গত বছরের শেষ দিক থেকেই মামলাটির সূত্র ধরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার পরই এই অনুসন্ধান শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের ছয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর গত ডিসেম্বরেই মোহাম্মদ হাফিজউদ্দিনকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল।
সরকারি সংবাদ সংস্থা বেরনামা জানিয়েছে, একই মামলায় এমএসিসি প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত (প্রায় ৫ লাখ ৯১ হাজার মার্কিন ডলার) সমপরিমাণ নগদ অর্থ পাচারের একটি বড় প্রচেষ্টা ব্যর্থ করেছে। বুধবার এক ব্যক্তি এই অর্থ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন।
এ ঘটনায় আরও এক দম্পতিকে আটক করা হয়েছে, যাদের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তবে মামলার সংবেদনশীলতার কারণে তদন্তসংশ্লিষ্ট অনেক তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক সেনাপ্রধানের মতো একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ মালয়েশিয়ার বিচার ব্যবস্থার দৃঢ়তা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানেরই প্রতিফলন। এই ঘটনার পর দেশটির সামরিক বাহিনীর ক্রয় প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এমএসিসি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ
বিষয় : আন্তর্জাতিক সর্বশেষ আপডেট মালেশিয়া এমএসিসি
.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
মালয়েশিয়ার সাবেক সেনাপ্রধান মোহাম্মদ হাফিজউদ্দিন জানতান ও তার দুই স্ত্রীকে সামরিক বাহিনীর একটি ক্রয় প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি)।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হলে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বার্তা সংস্থা এএফপি এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার মালয়েশিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তদন্তের অংশ হিসেবে বুধবার (৭ জানুয়ারি) হাফিজউদ্দিন ও তার দুই স্ত্রীকে হেফাজতে নেয় এমএসিসি। পরে তাদের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কমিশনার আজম বাকি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে এই মামলার তদন্ত করা হচ্ছে।” তিনি জানান, গত বছরের শেষ দিক থেকেই মামলাটির সূত্র ধরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার পরই এই অনুসন্ধান শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের ছয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর গত ডিসেম্বরেই মোহাম্মদ হাফিজউদ্দিনকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল।
সরকারি সংবাদ সংস্থা বেরনামা জানিয়েছে, একই মামলায় এমএসিসি প্রায় ২৪ লাখ রিঙ্গিত (প্রায় ৫ লাখ ৯১ হাজার মার্কিন ডলার) সমপরিমাণ নগদ অর্থ পাচারের একটি বড় প্রচেষ্টা ব্যর্থ করেছে। বুধবার এক ব্যক্তি এই অর্থ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন।
এ ঘটনায় আরও এক দম্পতিকে আটক করা হয়েছে, যাদের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তবে মামলার সংবেদনশীলতার কারণে তদন্তসংশ্লিষ্ট অনেক তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক সেনাপ্রধানের মতো একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপ মালয়েশিয়ার বিচার ব্যবস্থার দৃঢ়তা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানেরই প্রতিফলন। এই ঘটনার পর দেশটির সামরিক বাহিনীর ক্রয় প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এমএসিসি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন