যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের
ইরান যুদ্ধ–নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা
করেছেন সিনেটের
সংখ্যালঘু
নেতা চাক শুমার। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড
ট্রাম্প
প্রশাসন
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বারবার পরস্পরবিরোধী
বক্তব্য
দিচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাদের
প্রকাশ্যে
কংগ্রেসে
সাক্ষ্য
দিতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সিনেটের
অধিবেশনে
বক্তব্য
রাখতে গিয়ে শুমার বলেন, ‘ডোনাল্ড
ট্রাম্পের
ইরান যুদ্ধ প্রতিদিনই
আরও বিভ্রান্তিকর
ও পরস্পরবিরোধী
হয়ে উঠছে।’
তার এই মন্তব্য আসে কয়েক ঘণ্টা পর, যখন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেন যে, ‘অপারেশন
এপিক ফিউরি’ নামে চলমান অভিযানের
অংশ হিসেবে ইরানের ভেতরে ‘সবচেয়ে তীব্র হামলার দিন’ সামনে আসতে পারে।
তিনি
আরও বলেন,
এর
বিপরীতে
ট্রাম্প
সোমবার
ইঙ্গিত
দিয়েছিলেন
যে
সামরিক
অভিযানটি
হয়তো
শেষের
দিকে
এগোচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন
তোলেন,
‘আসলে
কোনটা
সত্য?
যুদ্ধ
কি
শেষের
দিকে,
নাকি
আমরা
সবচেয়ে
ভয়াবহ
লড়াইয়ের
দ্বারপ্রান্তে?’
শুমার অভিযোগ
করেন,
ট্রাম্প
প্রায়ই
পর্যাপ্ত
তথ্য
না
জেনেই
মন্তব্য
করেন
এবং
একদিনের
বক্তব্য
পরদিন
নিজেই
তা
খণ্ডন
করেন।
‘ইরানের
কাছে
টমাহক
ক্ষেপণাস্ত্র
নেই’
ডেমোক্র্যাট
নেতা
আরও
বলেন,
ইরানের
টমাহক
ক্ষেপণাস্ত্র
ব্যবহার
করে
একটি
মেয়েদের
স্কুলে
হামলার
দাবি
সম্পূর্ণ
ভিত্তিহীন।
ওই
হামলায়
১৭৫
জন
বেসামরিক
নাগরিক
নিহত
হন,
যাদের
মধ্যে
অনেক
শিশু
ছিল।
শুমারের
ভাষায়,
‘ইরানের
কাছে
টমাহক
ক্ষেপণাস্ত্র
নেই,
ডোনাল্ড
ট্রাম্প!
এই
দাবি
সম্পূর্ণ
হাস্যকর।’
এর
আগে
ট্রাম্প
দাবি
করেছিলেন,
ইরানের
অস্ত্রভাণ্ডারে
টমাহক
ক্রুজ
ক্ষেপণাস্ত্র
রয়েছে
এবং
সেই
অস্ত্র
ব্যবহার
করেই
স্কুলটিতে
হামলা
চালানো
হয়ে
থাকতে
পারে।
এই
ঘটনার
বিষয়ে
পেন্টাগনের
চলমান
তদন্তের
উল্লেখ
করে
ট্রাম্প
বলেন,
টমাহক
ক্ষেপণাস্ত্র
বিভিন্ন
দেশেও
ব্যবহৃত
হয়
এবং
হামলার
পেছনে
কারা
রয়েছে
তা
তদন্ত
করা
হচ্ছে।
শুমার
এ
ঘটনায়
‘পূর্ণাঙ্গ,
স্বাধীন
ও
স্বচ্ছ’
তদন্তের
দাবি
জানিয়েছেন
এবং
বেসামরিক
হতাহতের
জন্য
জবাবদিহিতা
নিশ্চিত
করার
আহ্বান
জানান।
কংগ্রেসে
প্রকাশ্য
শুনানির
দাবি
শুমার আরও সতর্ক করে বলেন, চলমান যুদ্ধ ইতোমধ্যেই
বৈশ্বিক
অর্থনীতিতে
প্রভাব
ফেলছে,
বিশেষ
করে
গুরুত্বপূর্ণ
তেল
সরবরাহ
পথ
হরমুজ
প্রণালি
ঘিরে
উত্তেজনা
বাড়ার
কারণে।
তার মতে, ‘ডোনাল্ড
ট্রাম্প
আমাদের
অর্থনীতিতে
বিশৃঙ্খলা
সৃষ্টি
করছেন।’
তিনি জানান, তিনি ও ডেমোক্র্যাট
দলের
কয়েকজন
সিনেটর
প্রশাসনের
কর্মকর্তাদের
কংগ্রেসে
প্রকাশ্য
শুনানিতে
হাজির
করার
দাবি
তুলবেন।
এ ক্ষেত্রে
তিনি
প্রতিরক্ষামন্ত্রী
পিট
হেগসেথ
এবং
পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মার্কো
রুবিওর
অংশগ্রহণে
শুনানি
আয়োজনের
আহ্বান
জানিয়েছেন।
শুমার বলেন,
‘প্রশাসনকে কংগ্রেসের সামনে শপথ নিয়ে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিতে হবে—কেন মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের সেনারা লড়াই করছে এবং প্রাণ হারাচ্ছে।’
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
আপনার মতামত লিখুন