ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

অর্থনীতি

বাজারে এলপিজি ঘাটতি জন্যা দায়ী ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সংকট বাংলাদেশে বেসরকারি পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কড়াকড়ি, ফ্রেট চার্জ বৃদ্ধি, মজুত ও সরবরাহস্বল্পতা, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের আমদানি বন্ধ রাখা এলপিজি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রেগুলেটরি চ্যালেঞ্জেস ইন দ্য এলপিজি মার্কেট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব মন্তব্য করেন। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।বৈঠকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে অচলাবস্থার কারণে চীন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ব্যাপক পরিমাণে পাইকারি এলপিজি কিনেছে। গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে অসংখ্য জাহাজ কালোতালিকাভুক্ত করা হয়। নভেম্বরে ১৮৪টি জাহাজ ও ১০টি কোম্পানি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আসে। ডিসেম্বরে ২৯টি জাহাজ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আসে। ইরান থেকে জ্বালানি বের না হওয়ার কারণে চীনের মতো বড় ক্রেতারা ব্যাপক কেনাকাটা করছে। ফলে বাংলাদেশের ছোট ক্রেতারা সুযোগ কম পেয়েছে। বাংলাদেশে এলপি গ্যাস ব্যবহারের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জালাল আহমেদ বলেন, ২০২২ সালে ১২ লাখ ৯০ হাজার টন, ২০২৩ সালে ১২ লাখ ৮০ হাজার টন, ২০২৪ সালে ১৬ লাখ ১০ হাজার টন ও ২০২৫ সালে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টন এলপিজি ব্যবহার হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ তিন মাসের সঙ্গে ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে ১ লাখ ৬৩ হাজার টন কম আমদানি হয়। নভেম্বরের ১৮ তারিখে ২০ হাজার টন এলপিজি নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি এসে ফিরে গেছে। ফলে নভেম্বরে ওই জাহাজ যোগ হলে ১ লাখ ২৫ হাজার টন আমদানি হতো।এলপিজি আমদানিতে পরিমাণ সীমা নির্ধারিত থাকার বিষয়টি কোনো সমস্যা নয় উল্লেখ করে বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, লিমিট ক্রস করে যারা আমদানি করেছে, তাদের আটকানো হয়নি। আইগ্যাস নামের একটি কোম্পানির লিমিট ১ লাখ টন হলেও গত বছর তারা ১ লাখ ৮৩ হাজার টন আমদানি করেছে। ওমেরার লিমিট ৩ লাখ থাকলেও আমদানি করেছে ৩ লাখ ২০ হাজার টন। মেঘনার লিমিট ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার টন, আমদানি করেছে ২ লাখ ৯৯ হাজার টন। যমুনার অনুমতি ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার টন, আমদানি করেছে ২ লাখ ৮ হাজার টন। ডেলটা এলপিজির অনুমতি ছিল ৬০ হাজার টন, আমদানি করেছে ৮০ হাজার টন। রেগুলেটরি প্রসঙ্গে জালাল আহমেদ বলেন, ‘এখানে অনেক কাজ আছে, যা বিইআরসির করার দরকার নেই। যেমন পরিবেশ ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিস এগুলো বিইআরসির দেখার দরকার নেই। লোয়াব ১০টি প্রতিষ্ঠানে ২৪ ধরনের কাগজপত্রের একটি তালিকা দিয়েছে। আমরা একসঙ্গে বসে কীভাবে কাজ কমিয়ে আনা যায়, সেই আলোচনা করব। সবাই চাইলে সিঙ্গেল রেগুলেটর হতে পারে।’বিইআরসি থেকে মোট ৫২টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসা করার লাইসেন্স নিয়েছিল উল্লেখ করে জালাল আহমেদ বলেন, এর মধ্যে ৩৩টি কোম্পানির নিজস্ব প্লান্ট রয়েছে। তাদের মধ্যে মোট ১৭টি প্রতিষ্ঠান আমদানি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে। কেউ একবারের জন্য আমদানি করেছে, কেউ বছরে অন্তত একবার হলেও আমদানি করেছে। ৭-৮টি প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসেই আমদানি করে আসছে। যেমন পেট্রোম্যাক্স, ওমেরা, মেঘনা, যমুনা, ইউনাইটেড আইগ্যাস।  এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ

বাজারে এলপিজি ঘাটতি জন্যা দায়ী ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি