ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

যশোরে উদীচী হত্যাকাণ্ডের ২৭ বছর: বিচারের দাবিতে সাংস্কৃতিক কর্মীরা

যশোর: ঘড়ির কাঁটায় তখন বেলা ১১টা। যশোর শহরের উকিল বার মোড়ে একে একে জড়ো হতে থাকেন উদীচীর কর্মী ও সাধারণ মানুষ। হাতে ব্যানার, ফেস্টুন আর চোখে বিচার না পাওয়ার দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ। ১৯৯৯ সালের সেই কালো রাতে যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাদের স্মরণে এবং ঘাতকদের বিচারের দাবিতে আবারও প্রকম্পিত হলো রাজপথ।শনিবার সকালে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী যশোর জেলা সংসদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোর টাউন হল ময়দানে উদীচীর দ্বাদশ মহাসম্মেলনে ভয়াবহ বোমা হামলায় ১০ জন সাংস্কৃতিক কর্মী নিহত এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।উদীচী যশোর জেলা সংসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন শতাধিক সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক। সভায় বক্তারা বলেন, "দুই যুগের বেশি সময় পার হয়ে গেছে, অথচ আজও এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এটি বিচারহীনতার এক লজ্জাজনক দৃষ্টান্ত।"মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তারা বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের ওপর জোর দেন। তারা অবিলম্বে এই মামলাটির পুনতদন্ত (Fresh Investigation) শুরু করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।কর্মসূচিতে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব বলেন, "আমরা কেবল আনুষ্ঠানিক বিচার চাই না, আমরা চাই সেই অন্ধকার শক্তির উন্মোচন যারা সংস্কৃতির কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল। ২৭ বছরের এই দীর্ঘ অপেক্ষা আমাদের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন।"জেলা সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু এবং অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলুসহ স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের সেই বোমা হামলায় তছনছ হয়ে গিয়েছিল উদীচীর সম্মেলন। আহতদের অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে আজও সেই বিভীষিকা বয়ে বেড়াচ্ছেন। দীর্ঘ সময়েও বিচার প্রক্রিয়া আলোর মুখ না দেখায় যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর হতাশা বিরাজ করছে।  এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

যশোরে উদীচী হত্যাকাণ্ডের ২৭ বছর: বিচারের দাবিতে সাংস্কৃতিক কর্মীরা