ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

৩০ দিনে সাত স্কিল শিখে আয় করুন ৩০০-৯০০ ডলার

অনলাইনে উপার্জনের স্বপ্ন অনেকের থাকলেও, শুরুর পথটা নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন প্রায় সবাই। কোথা থেকে শুরু করবেন কিংবা কোন বিষয়টি শিখলে দ্রুত সুফল পাবেন—এমন হাজারো প্রশ্নে আমাদের মাথা ঘুরে যায়। অথচ আসল বিষয়টি কিন্তু খুবই সহজ। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার গড়তে আপনার কোনো নামি-দামি ডিগ্রি বা দামী গ্যাজেটের প্রয়োজন নেই; যা প্রয়োজন তা হলো—শেখার অদম্য জেদ, একটি ইন্টারনেট সংযোগ এবং প্রতিদিন খানিকটা সময়।আজ আমরা এমন সাতটি দক্ষতা বা স্কিল নিয়ে আলোচনা করব, যা আয়ত্ত করতে আপনার মাত্র ৩০ দিন সময় লাগবে। ঘরে বসে মাসে ৩০০ থেকে ৯০০ ডলার আয় করা এখন আর কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, বরং কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক কৌশলের বাস্তব ফল। কোনো চটকদার বিজ্ঞাপন নয়, বরং ফ্রিল্যান্সিং জগতের পরীক্ষিত সাতটি উপায় নিয়ে চলুন সরাসরি মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।১. ক্যানভা ডিজাইনতালিকার সবচেয়ে সহজ কাজ দিয়ে শুরু করা যাক। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে মাঝে মধ্যেই আমরা এমন কিছু পোস্ট দেখি যা দেখে মনের অজান্তেই হয়তো ভেবে বসি—'ইশ! আমি যদি এমন ডিজাইন করতে পারতাম!' আপনার জন্য সুসংবাদ হলো, এই কাজ শিখতে এখন আর বিশাল কোনো গ্রাফিক্স ডিজাইনের ডিগ্রি বা জটিল ফটোশপ জানার প্রয়োজন নেই। বর্তমান যুগে 'ক্যানভা' (Canva) এমন এক জাদুকরী টুল, যা দিয়ে একজন সাধারণ মানুষও প্রফেশনাল ডিজাইনারদের মতো দৃষ্টিনন্দন সব কাজ করতে পারেন। সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট থেকে শুরু করে লোগো কিংবা বিজনেস কার্ড—সবই এখন আপনার হাতের মুঠোয়।কাজটি শুরু করার আগে শুধু সাধারণ কিছু বিষয় বুঝতে হবে—·        কালার ম্যাচিং·        সঠিক ফন্ট নির্বাচন·        ডিজাইন পরিষ্কার রাখাযা বানাতে পারবেনইনস্টাগ্রাম পোস্ট, ইউটিউব থাম্বনেইল, পোস্টার, সিভি, লোগো, প্রেজেন্টেশনআয় যেভাবে করবেনছোট থেকে বড় সকল ব্যবসায়িক প্রচারের জন্য এখন মানসম্মত কনটেন্টের কোনো বিকল্প নেই। তবে সমস্যা হলো, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই এসব কনটেন্ট তৈরির জন্য আলাদা লোকবল রাখা বা সময় বের করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এখানেই আপনার সুযোগ! আপনি শুরুতে নিজের পছন্দের অন্তত ১০টি স্যাম্পল ডিজাইন করে একটি চমৎকার ‘পোর্টফোলিও’ তৈরি করুন। এরপর ফাইভার (Fiverr) বা আপওয়ার্কের মতো মার্কেটপ্লেসে গিগ খুলতে পারেন। শুধু তাই নয়, ফেসবুক বা লিঙ্কডইনে যেসব ছোট উদ্যোক্তা কাজ করছেন, তাদের সরাসরি মেসেজ দিয়েও আপনার সার্ভিসের কথা জানাতে পারেন। সঠিক মার্কেটিং করতে পারলে এখান থেকেই নিয়মিত ক্লায়েন্ট পাওয়া সম্ভব।শিখতে সময় লাগবে: ১০-১৫ দিনসম্ভাব্য আয়: মাসে ৩০০-৬০০ ডলার২. কপিরাইটিংকপিরাইটিং মানেই কঠিন ইংরেজি জানা নয়। সহজ কথায় মানুষকে কোনো অ্যাকশন নিতে বাধ্য করা বা পণ্য কেনানো।যা লিখতে পারবেন·        সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাপশন·        ওয়েবসাইটের লেখা·        ই-মেইল·        বিজ্ঞাপনের লেখা·        পণ্যের বিবরণকেন কাজ পাবেনভালো শব্দ = মানুষের বিশ্বাস = বেশি বিক্রি। ব্যবসার মূল মন্ত্রই এটা। বিজ্ঞাপন দেখে সেসব নিজের মতো করে আবার লেখার অভ্যাস করুন। ছোট বাক্য ও আকর্ষণীয় হেডলাইন লেখা শিখতে হবে।শিখতে লাগবে: ৩০ দিনসম্ভাব্য আয়: মাসে ৩০০-৭০০ ডলার৩. ভিডিও এডিটিংবর্তমান যুগটাই হচ্ছে শর্ট ভিডিওর। রিলস এবং টিকটকের এই রমরমা সময়ে ভিডিও এডিটিং জানা মানে হাতে এক আলাদিনের চেরাগ পাওয়া। এই কাজের জন্য আপনাকে সিনেমার মতো জটিল এডিটিং শিখতে হবে না; বরং সোশ্যাল মিডিয়ার দর্শকদের জন্য দ্রুতগতির এবং ঝকঝকে (Fast & Clean) এডিট করতে পারলেই আপনি সফল। সাধারণ ফুটেজকে কৌতূহল উদ্দীপক করে তোলার দক্ষতাই এখন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে আপনাকে এগিয়ে রাখবে।টুলসCapCut, InShot, DaVinci Resolveযা এডিট করবেনরিলস, টিকটক ভিডিও, ইউটিউব শর্টসআয় যেভাবে করবেনছোট কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের খুঁজে বের করুন। তাঁদের একটা ভিডিও ফ্রিতে এডিট করে দিন স্যাম্পল হিসেবে। কাজ ভালো হলে তাদের সাপ্তাহিক এডিটর হিসেবে অফার দিন।শিখতে লাগবে: ২০-৩০ দিনসম্ভাব্য আয়: মাসে ৪০০-৭০০ ডলার৪. সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টঅধিকাংশ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খায়। নিয়মিত কী পোস্ট করা উচিত কিংবা কোন সময়ে পোস্ট করলে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যাবে—এসব নিয়ে ভাবার মতো পর্যাপ্ত সময় বা কৌশলগত জ্ঞান তাদের অনেকেরই নেই। আর ঠিক এই সংকটের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আপনার উপার্জনের দারুণ এক সুযোগ। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে আপনি তাদের এই ঝক্কি সামলে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে অনায়াসেই ভালো মানের সম্মানী আয় করতে পারেন।আপনার কাজ·        সাধারণ ডিজাইন করা·        ক্যাপশন লেখা·        সাপ্তাহিক পরিকল্পনা সাজানো·        কমেন্টের রিপ্লাই দেওয়াআয় যেভাবে করবেনকোনো বিজনেস পেজে মেসেজ দিন, ‘আপনার পেজটা দারুণ! আমি আপনার জন্য ৩টা পোস্ট ফ্রিতে করে দিতে চাই। দেখবেন?’ কাজ পছন্দ হলে তারা আপনাকে হায়ার করবে।শিখতে সময় লাগবে: ১৫-২০ দিনসম্ভাব্য আয়: মাসে ৩০০-৬০০ ডলার৫. নোশন টেমপ্লেটবর্তমান সময়ে প্রোডাক্টিভিটির শীর্ষে রয়েছে 'নোশন'। ডিজিটাল লাইফ বা ব্যবসা গোছাতে মানুষ এখন রেডিমেড টেমপ্লেটের ওপর নির্ভরশীল। একটু সৃজনশীলতা খাটিয়ে কার্যকর কিছু টেমপ্লেট ডিজাইন করতে পারলেই কেল্লাফতে! একবার তৈরি করে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে এগুলো বারবার বিক্রি করে আপনি নিশ্চিত করতে পারেন দীর্ঘমেয়াদী প্যাসিভ ইনকাম।যা বানাতে পারেন·        হ্যাবিট ট্র্যাকার·        স্টাডি প্ল্যানার·        মাসিক খরচের হিসাব·        কনটেন্ট ক্যালেন্ডারআয় যেভাবে করবেনএকবার টেমপ্লেট বানিয়ে সারা জীবন তা বিক্রি করতে পারবেন। ক্লায়েন্টদের জন্য কাস্টম ড্যাশবোর্ডও বানিয়ে দিতে পারেন।শিখতে সময় লাগবে: ১০-১৫ দিনসম্ভাব্য আয়: মাসে ৩০০-৭০০ ডলার৬. বেসিক ওয়েব ডিজাইন (কোডিংসহ)কোডিংইয়ের কথা শুনে ভয় পাবেন না। বড় ডেভেলপার হতে বলছি না, শুধু সাধারণ কোডিং জেনেও সুন্দর ওয়েবসাইট বানানো সম্ভব।যা শিখবেন·        HTML (ওয়েবসাইটের কাঠামো)·        CSS (ডিজাইন ও লে–আউট)·        JavaScript (ইন্টার‍্যাকশনের জন্য)·        Bootstrap বা Tailwind CSS (কাজ সহজ হয়ে যাবে)যা বানাতে পারবেনপোর্টফোলিও সাইট, রেস্তোরাঁ মেনু, ইভেন্ট পেজ, ল্যান্ডিং পেজ, ছোট ব্লগকেন শিখবেনক্লায়েন্টরা কাস্টম ওয়েবসাইট চায়, টেমপ্লেটে তাদের সব চাহিদা মেটে না। তাই এর দামও বেশি পাওয়া যায়। ইউটিউবে প্রচুর ফ্রি রিসোর্স আছে।শিখতে সময় লাগবে: ৩০ দিনসম্ভাব্য আয়: মাসে ৫০০-৯০০ ডলার৭ ধাপে শুরু করার কার্যপরিকল্পনাসবচেয়ে সহজ উপায় হলো, যেকোনো একটি স্কিল বাছাই করা। একসঙ্গে একাধিক নয়, শুধু একটি। নিজেকে এক মাস সময় দিন। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শিখুন। নিজের ছোট পোর্টফোলিও তৈরি করুন। মাত্র পাঁচটি স্যাম্পল প্রজেক্ট রাখুন। ফাইভার, আপওয়ার্ক, লিংকডইন বা ইনস্টাগ্রামে প্রোফাইল সাজান।আপনি যা বানাচ্ছেন, তা লজ্জা না করে শেয়ার করুন। অন্তত ২০ জন পটেনশিয়াল ক্লায়েন্টকে মেসেজ দিন। প্রথম কাজ এভাবেই আসে। শুরুতে কম রেটে কাজ করুন, অভিজ্ঞতা বাড়লে রেট বাড়াবেন। শুরুতে হয়তো ১০ ডলার, তারপর ২৫ ডলার, ৫০ ডলার, ১০০ ডলার…এভাবে বাড়াতে থাকবেন।প্রথম ৩০০ ডলার আপনার ব্যাংক ব্যালান্স খুব একটা বদলাবে না, কিন্তু আপনার মানসিকতা বদলে দেবে। আপনি বিশ্বাস করতে শুরু করবেন—আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন। অনলাইনে আসলেই আয় করা সম্ভব। আপনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।বেশির ভাগ মানুষ সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকে। যাঁরা সফল হন, তাঁরা শুরু করে দেন। পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করতে চাইলে সেই কাজ আর হয় না। আজ থেকে ৩০ দিন পর আপনার হাতে একটা নতুন স্কিল থাকতে পারে, অথবা আপনি ঠিক সেখানেই পড়ে থাকতে পারেন, যেখানে আজ আছেন। সিদ্ধান্ত আপনার।সূত্র: মিডিয়াম এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

৩০ দিনে সাত স্কিল শিখে আয় করুন ৩০০-৯০০ ডলার