শীতে ঘরেই তৈরি করুন হাঁসের মাংস
শীত চলে আসছে। কুয়াশা ঢাকা
জানালার ধারে বসে ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গে গরম গরম হাঁসের মাংস—এ যেন শীতের আনন্দের চূড়ান্ত
প্রকাশ। বাজারে নতুন ধানের চাল, মাথাভরা
সরিষার ফুল—গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে শীত এলেই শুরু হয়ে যায় হাঁসের মাংস রান্নার ব্যস্ততা,
যা এই ঋতুকে আরও স্নিগ্ধ ও সুগন্ধময় করে তোলে।হাঁসের মাংসে একটা আলাদা স্বাদ
রয়েছে—চর্বিমাখা, ঘ্রাণে ভরপুর, আর ঠিকঠাক মসলায় রান্না করলে যেন মুখে গলে যায়। তবুও
অনেকের ধারণা, হাঁসের মাংস রান্না সময়সাপেক্ষ ও জটিল।তাই এই শীতে আমরা আপনাকে ঝামেলায়
ফেলব না—এবারের জন্য থাকছে একদম সহজ, ঝটপট হাঁসের মাংস রান্নার পদ্ধতি। সময় কম, কিন্তু
স্বাদ ঠিক সেই ঐতিহ্যবাহী মাটির চুলায় রান্নার মতোই—ঘরজুড়ে ছড়িয়ে দেবে উষ্ণতার আমেজ। উপকরণ (৪–৫ জনের জন্য)হাঁসের মাংস— ১ কেজি, পেঁয়াজ
কুঁচি— ২ কাপ, আদা বাটা— ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা— ১ টেবিল চামচ, টমেটো— ১টি, লাল মরিচ
গুঁড়া— ২ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া— ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়া— ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া— ১ চা
চামচ, গরম মসলা— আধা চা চামচ, কাঁচা মরিচ— ৪–৫টি, লবণ— স্বাদমতো, সরিষার তেল— আধা কাপ,
পানি— প্রয়োজন অনুযায়ী মশলা মেখে নিনহাঁসের মাংস ভালোভাবে ধুয়ে
নিন। তারপর একে একে আদা-রসুন, মরিচ, ধনে, জিরা, লবণ এবং হলুদ মাখিয়ে মাংসটি ঢেকে রাখুন
কিছু সময়ের জন্য। এতে মসলা মাংসে ভালোভাবে মিশে গিয়ে মাংস একদম আলাদা রঙ রূপ নেবে।এবার রান্নার পালাচুলায় কড়াই বসিয়ে সরিষার তেল
ভালো করে গরম করুন। এরপর পেঁয়াজ দিয়ে ধীরে ধীরে ভাজুন, যতক্ষণ না এটি হালকা বাদামি
রঙ ধারণ করে। টমেটো যোগ করলে তা ধীরে ধীরে পেঁয়াজের সঙ্গে মিশে গিয়ে টক-মিষ্টি স্বাদের
এক চমৎকার ভিত্তি তৈরি করবে।মাংসের ভুনাএবার ঢুকে পড়বে প্রধান চরিত্র—হাঁসের
মাংস। মাংস মাঝারি আঁচে ভুনতে থাকুন। মাংসের ভেতরের পানি বেরিয়ে মসলার সঙ্গে মিশে যাবে,
আর কড়াই থেকে উঠবে শীতের বিকেলের সেই পরিচিত সুগন্ধ।ঝোল তৈরি ও সেদ্ধ হওয়ামাংস লালচে হয়ে এলে প্রয়োজন
মতো গরম পানি দিন। হাঁসের মাংস সাধারণত কিছুটা শক্ত হয়, তাই ঢেকে ২৫–৩০ মিনিট সময় দিন।
কাঁচা মরিচ ও গরম মসলার সুবাসে তখন ঘর জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে শীতের রান্নার সেই মাতাল ঘ্রাণ।পরিবেশনভাত, খিচুড়ি, পোলাও বা চালের
রুটির সঙ্গে এই ঝটপট হাঁসের মাংস দুর্দান্তভাবে মানিয়ে যায়। বিশেষ করে শীতের রাতের
খাবারে এক থালা গরম ভাতের সঙ্গে এই মাংস যেন স্বাদে অতুলনীয়, পুরো পরিবেশকেই মধুর উষ্ণতায়
ভরে দেয়।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ