ভারতের একটি রাজ্যে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরগুলোতে আবারও কোভিড-১৯ সময়কার মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে, থাইল্যান্ড, নেপাল ও তাইওয়ান সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসে অন্তত পাঁচজন আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়ার পরই এশিয়ার একাধিক দেশ সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছে। নিপাহ একটি জুনোটিক রোগ, যা মূলত সংক্রমিত বাদুড় ও শূকর থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এ ছাড়া ঘনিষ্ঠ মানবিক সংস্পর্শের মাধ্যমেও ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে।ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একটি হাসপাতালে নিপাহ শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় ১০০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রথমে একই জেলার এক পুরুষ ও এক নারী নার্স আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে ওই হাসপাতালের এক চিকিৎসক, এক নার্স এবং এক কর্মচারীর শরীরেও ভাইরাসটি শনাক্ত হয়।এ অবস্থায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া যাত্রীদের জন্য প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করেছে থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কোভিড মহামারির সময় চালু হওয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে দেশটির সুবর্ণভূমি, ডন মুয়াং ও ফুকেট বিমানবন্দরে যাত্রীদের জ্বর ও নিপাহ-সংশ্লিষ্ট উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের ‘বিওয়্যার’ কার্ড দেওয়া হচ্ছে, যেখানে অসুস্থ বোধ করলে কী করণীয় তা উল্লেখ রয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, তাঁর দেশে এখনো নিপাহ ভাইরাসের কোনো সংক্রমণ ধরা পড়েনি। তবে নজরদারি উচ্চমাত্রায় বজায় থাকবে। জ্বর বা সন্দেহজনক উপসর্গ থাকলে যাত্রীদের কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রে পাঠানো হবে। এ ছাড়া গুহা ও প্রাকৃতিক পর্যটন এলাকায় বন্যপ্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিকার এবং বন্য প্রাণী না খাওয়ার নীতি মেনে চলতে পর্যটকদের অনুরোধ করা হয়েছে। এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ