ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা কমে আসার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধস নেমেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬০ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৪ দশমিক ৫৭ ডলারে নেমে এসেছে। রয়টার্সের খবর।বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে—এমন ইঙ্গিতে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কমে এসেছে। ফলে আগের বাড়তি ঝুঁকিমূল্য (রিস্ক প্রিমিয়াম) বাজার থেকে দ্রুত সরে যাচ্ছে।এর আগে বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে বেসামরিক নাগরিক হত্যা বন্ধ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি জানান, আপাতত সেখানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা নেই। এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল হতে শুরু করে। বিপরীতে, এর আগে ইরানে দমন-পীড়ন ও অস্থিরতার খবর, কাতার থেকে মার্কিন সেনা সরানোর গুঞ্জন এবং মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার নির্দেশনা যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছিল। সে সময় তেলের দামে হঠাৎ ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। এদিকে তেলের দামের এই পতনের প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে হংকং, সাংহাই ও মুম্বাইয়ের বাজারে দরপতন দেখা গেছে। তবে সিডনি ও সিউলের শেয়ারবাজারে সামান্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। জার্মান ব্যাংকের বিশ্লেষক জিম রিড বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাজার এখনো পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নয়। কারণ ইরান বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ৪ শতাংশ সরবরাহ করে এবং দেশটিতে নতুন করে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের চলমান সংকটের মূল কারণ তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের ব্যাপক দরপতন। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মূল্য নেমে এসেছে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদেই প্রথমে ব্যবসায়ীরা রাজপথে নেমেছিলেন। এনএন/ধ্রুবকন্ঠ