হবিগঞ্জে ডাকযোগে বিএনপি নেতাকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি
হবিগঞ্জের
মাধবপুরে ডাকযোগে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
মীর খোরশেদ আলমসহ ১৩ জনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।আজ
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে তার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে একটি বড় পার্সেলের মাধ্যমে কাফনের
কাপড়সহ একটি বেনামি চিঠি পৌঁছে। চিঠিতে তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়, 'এই চিঠি পাওয়ার
পর তোর জীবনে যা আছে করার করে নে। এরপর মাত্র কয়েকদিন বেঁচে থাকবি। আগুন নিয়ে খেলার
পরিণাম বুঝবি।'একই
সঙ্গে চিঠিতে আরও যাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে তারা হলেন— আনোয়ার হোসেন, মাহমুদ
হোসেন, মিসির আলি, আব্দুল গফুর, মিজান কন্ডাক্টর, বজলু, সৈয়দ শিব্বির, আনাস, তালহা,
তানজিল ও নোমান।এছাড়া
চিঠিতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে তাদের চেয়ারম্যান বানানোর কথাও
লেখা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।এ
বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মীর খোরশেদ আলম মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ
ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং বিষয়টি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি
ফেসবুকের মাধ্যমে চিঠি প্রেরণকারীকে সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন।মাধবপুর
মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাশউদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের কাজ সাধারণত নিজেদের লোকজনই
করে থাকে। আতঙ্ক সৃষ্টি করাই উদ্দেশ্য হতে পারে। রাজনৈতিকভাবে দ্বন্দ্ব উসকে দেওয়ারও
চেষ্টা থাকতে পারে। আমরা আশা করি পুলিশ ও সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে
আসবে।‘স্থানীয়
যুবদল নেতা খিজির খান সোহেল বলেন, ‘মীর খোরশেদ আলম একজন ত্যাগী নেতা। তাকে ভয়ভীতি
দেখানোর চেষ্টা করা হলে দলীয়ভাবে তা মোকাবিলা করা হবে।‘অভিযোগের
বিষয়ে মীর খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমি জেনে কারও কোনো ক্ষতি করিনি। কারও কোনো ক্ষোভ থাকলে
সরাসরি কথা বলতে পারে। অনেক সময় আমাকে নিয়ে ভুল তথ্য প্রকাশ হলেও আমি প্রতিক্রিয়া
দেখাই না।‘মাধবপুর
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত
করা হচ্ছে।উল্লেখ্য,
মীর খোরশেদ আলম মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং আদাউর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।
তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের উন্নয়ন কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ