ফুটপাতের আড়ালে লুকিয়ে থাকা জীবন সংগ্রামী একজন নারী
যশোর শহরের ব্যস্ততম
সড়কগুলোর মধ্যে একটি জজ কোর্ট মোড় (জিরো পয়েন্ট) সড়কের এক কোণে ফুটপাতের ওপর পলিথিন
বিছিয়ে সারি করে সাজানো পুরোনো জামাকাপড়। পাশেই বসে আছেন এক মহিলা বিক্রেতা। মানুষের
ভিড়, গাড়ির হর্ন, ধুলো আর রোদ-বৃষ্টির মাঝেই প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে তার
জীবনের সংগ্রাম। তিন সন্তান আর স্বামীর সংসারে এভাবেই দিনগুলো কেটে যাচ্ছে তার। তাই
রোদ-বৃষ্টি যাই হোক, এভাবে বসেই সংসারের অভাব মেটাতে হয় তার।স্বামীর আয়ের পাশাপাশি
এভাবেই সংসারের হাল ধরেছেন তিনি। শুরুটা অল্প কাপড় দিয়ে হলেও এখন সেখানে বিশাল পুরাতন
ব্যবহৃত কাপড়ের বাহার দেখা যায়। স্থানীয় ফেরিওয়ালাদের থেকে পুরাতন জামা-কাপড় কিনে সেগুলোকে
ফুটপাতে বিক্রি করেন। প্রতিটি জামা বিক্রি হয় মানের উপর নির্ভর করে। তবে গরমের থেকে
শীতের সময় বেশী বেচা-কেনা হয়ে থাকে। গরমকালে কিছুটা মন্দা যায় তার।আগে কালেক্টরেট এর
মধ্যে বসতে পারলেও এখন এই ফুটপাতেই ব্যবসা করে রোজগার করতে হয় তাকে। শহরের মেইন রোড
সংলগ্ন হওয়ায় এই ব্যবসা সবসময় নিরাপদ নয়। কখনও পৌরসভা থেকে উচ্ছেদ অভিযান, কখনও পুলিশের
তাড়া সবকিছুই সামলাতে হয় তাকে। তবে আশপাশে যখনই পুলিশের টহল কিংবা বিশেষ দিনগুলোতে
পুলিশের পাহাড়া জোড়দাড় থাকে তখনই নিজের কাপড় সামগ্রী পার্শ্ববর্তী ইদগাহের দেওয়াল টপকে
ফেলে দেন ওপারে। আবার রাতে বাসায় যাওয়ার সময় এভাবে পলিথিনে মুড়ে সেগুলোকে দেওয়ালের
ওপাশে রেখে চলে যান বাসায়। এতকিছুর মাঝেও হাল ছাড়েননি তিনি। পুরাতন জায়গায় বসে নিজের
কাজ চালিয়ে যান। কারন না বসলে তো সংসার চলবে না।কয়েকজন ক্রেতার সাথে
কথা বলে জানা যায়, কম দামে ব্যবহারযোগ্য কাপড় পাওয়ার জন্য তারা এই ফুটপাতে আসেন। কম
টাকায় জামা পাওয়া যায়। তাছাড়া দরদামও কম করে কেনা যায়।ক্লান্তি-কষ্ট
আর অসংখ্য স্বপ্ন। এর মাঝেও সংসার বাঁচানোর এই যুদ্ধে উচ্ছেদ -পুলিশের তাড়া কিংবা রোদ-বৃষ্টি
কিংবা মন্দা বাজার কোনো কিছুই তার মনোবল ভাঙতে পারেনি। তাইতো সংগ্রামী জীবনের আড়ালে
লুকিয়ে থাকা এ মায়েদের সবকিছু মেনে নিতে হয় সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ