সুনামগঞ্জের জামায়াতের প্রার্থী পক্ষে কাজ করছে ডিসি, বিএনপি প্রার্থী'র অভিযোগ
সুনামগঞ্জের
জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ-২
আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনিরের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলেছেন
একই আসনের বিএনপির প্রার্থী নাছির চৌধুরী। গতকাল সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠানো
লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে।লিখিত
অভিযোগে নাছির চৌধুরী উল্লেখ করেন, জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ও মোহাম্মদ
শিশির মনির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে রুমমেট ছিলেন এবং তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
এই ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ডিসি সুনামগঞ্জে জামায়াতের ‘রাজনৈতিক পুনর্বাসনে’ সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। ইতোপূর্বে দুর্নীতির
দায়ে দুই বার বদলি হলেও জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনিরের তদবিরে স্বপদে বহাল
থাকেন তিনি।অভিযোগে
উল্লেখ করা হয়, হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ বাস্তবায়ে জেলা কাবিটা বাস্তবায়ন
কমিটির সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসক জেলার ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ
অনুমোদন দিয়েছেন। দিরাই-শাল্লা এলাকায় বাঁধের কাজে মনিটরিং কমিটি ও পিআইসিতে বিএনপি
বা অন্য কোনো দলের প্রতিনিধি রাখা হয়নি। জামায়াত প্রার্থীর গাইডলাইন অনুযায়ী কেবল
তার অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা এই প্রকল্পের অর্থ নির্বাচনী প্রচারণায়
ব্যবহার করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।বিএনপি
প্রার্থী নাছির চৌধুরী অভিযোগ করেন, গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে
জেলার সবকটি উপজেলায় জামায়াত নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হলেও বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে
আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ ছাড়া জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়ার নামে সরকারি অনুষ্ঠানে
জামায়াত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট চাওয়া হয়েছে। এর আগে সুনামগঞ্জের
জুলাইযোদ্ধা ও ছাত্র-জনতা উক্ত ডিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করলেও নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা
নেয়নি।অভিযোগে
আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে চলমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমেও
জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে নগ্ন হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। দিরাই-শাল্লা উপজেলায় জামায়াত
ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনিরের পছন্দের প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার
জন্য তিনি উঠেপড়ে লেগেছেন এবং এর বিনিময়ে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী প্রিসাইডিং
ও পোলিং অফিসারদের ম্যানেজ করার একটি ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা ‘সূক্ষ্ম কারচুপি’র পরিকল্পনা করেছেন।অভিযোগে
নাছির চৌধুরী আরও উল্লেখ করেছেন, সুনামগঞ্জের ৫টি নির্বাচনী আসনেই ধানের শীষের জোয়ার
বইছে। এই বিতর্কিত কর্মকর্তার কারণে বিএনপির প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা
করছেন তিনি। ইতোপূর্বে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের
উপস্থিতিতেও এই কর্মকর্তার পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। যদি তাকে অবিলম্বে
অপসারণ না করা হয়, তবে নির্বাচনের দিন যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য প্রধান
নির্বাচন কমিশনার দায়ী থাকবেন।অভিযোগের
বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার বক্তব্য জানতে তার সরকারি
মোবাইল ফোন নম্বরে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মোবাইল ফোন নম্বরে ও হোয়াটসঅ্যাপে
মেসেজে পাঠালেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের
স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন আহমদ ডিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ