পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত পুঠিয়ার কৃষক
তীব্র
শীত উপেক্ষা করে পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কৃষকেরা।
ভোর থেকেই চারা হাতে মাঠে নেমে পড়ছেন তারা। কোথাও চলছে পেঁয়াজের চারা রোপণ, আবার কোথাও
জমি থেকে পেঁয়াজ উত্তোলনের কাজ।সরেজমিনে
পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নের কান্তার বিলে দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য।
কাজের একঘেয়েমি কাটাতে মাইক বাজিয়ে গানের তালে পেঁয়াজ রোপণ করছেন কৃষকেরা। কাজের ফাঁকে
ফাঁকে নাচতেও দেখা যায় তাদের। এতে যেমন কাজের গতি বাড়ছে, তেমনি শ্রমিকদের মনোবলও চাঙা
থাকছে।এছাড়া
ভাল্লুকগাছি, জিউপাড়া, শিলমাড়িয়া ও বানেশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে
কৃষকেরা কাদাপানি মাড়িয়ে জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ করছেন। শীতের কারণে শ্রমিক সংকট
দেখা দিলেও জীবিকার তাগিদে মাঠের কাজ থেমে নেই।কান্তার
বিলের চাষি সোহাগ, নাহিদসহ কয়েকজন জানান, শীতের সময় অনেক শ্রমিক মাঠে কাজ করতে চান
না। তাই সবাইকে উৎসাহিত রাখতে গান বাজিয়ে একসঙ্গে কাজ করছেন তারা। এতে পরিশ্রমের ক্লান্তি
অনেকটাই কমে যাচ্ছে।চাষিদের
একটি দলের গ্রুপ প্রধান রকিবুল ইসলাম ফারুক জানান, তার দলে ১৪ জন শ্রমিক রয়েছেন। প্রতিদিন
গড়ে দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপণ করেন তারা। চলতি মৌসুমে তার দল প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে
পেঁয়াজ রোপণ সম্পন্ন করেছে।একদিকে
রোপণ চললেও অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকায় মুড়িকাটা বা ঢেমনা জাতের পেঁয়াজ উত্তোলন শুরু হয়েছে।
শীত মৌসুমে পুঠিয়া উপজেলায় দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজের চাষ হয়ে থাকে। বিশেষ
করে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে ভালো ফলন পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বানেশ্বর ইউনিয়নের
কৃষকেরা।বানেশ্বর
ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মোতালেব হোসেন ৪ বিঘা, মনসুর আলী ২ বিঘা এবং
আশরাফ আলী ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। পুঠিয়া কৃষি অফিসের সহায়তায় প্রণোদনা কর্মসূচির
আওতায় উপজেলায় ১ হাজার ২৫০ জন কৃষক এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ রোপণ করেছেন।চাষিদের
মতে, মুড়িকাটা জাতের তুলনায় এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজে লাভ বেশি। প্রতিটি পেঁয়াজের গড় ওজন
প্রায় ২৫০ গ্রাম। চার থেকে পাঁচটি পেঁয়াজে এক কেজি ওজন হয়।চাষি
মনসুর আলী জানান, এক বিঘা জমি থেকে ইতোমধ্যে তিনি ১০০ মন পেঁয়াজ উত্তোলন করে বিক্রি
করেছেন। প্রতি মন ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আরও প্রায় ৫০ মন পেঁয়াজ উত্তোলনের
আশা করছেন তিনি।উপজেলা
কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার বলেন, চলতি শীত মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পেঁয়াজ
চাষে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
রয়েছে। তিনি জানান, এ মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ১৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চারা রোপণ
হয়েছে। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৩৩০ জন কৃষককে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রান্তিক
কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছিল।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ