বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার গভীর অভিবাদন : তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সমাপ্ত হয়েছে। এই সময় দেশজুড়ে এবং বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়া আমাদের পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এই তিন দিনে আমরা আরও উপলব্ধি করেছি, আমার মা ভিন্ন-ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন-ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন; অনেক ক্ষেত্রে তা ছিল এতটাই অর্থবহ, যা হয়তো আমরা নিজেরাও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি।‘আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘অনেকের কাছে তিনি ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক; নিজের বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ানোর অটল প্রেরণা। রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে এই প্রেরণা বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে; পরিচয়, আদর্শ ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে অগণিত মানুষকে স্পর্শ করেছে।‘সরকারের প্রতি
কৃতজ্ঞতা জানিয়ে
তিনি বলেন, ‘আমরা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার,
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার
উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তাদের
নেতৃত্ব ও
দ্রুত সমন্বয়ের কারণেই
স্বল্প সময়ের মধ্যে
এই বিরল ও
সম্মানজনক অন্তিম
আয়োজন সম্পন্ন করা
সম্ভব হয়েছে।‘তিনি আরও বলেন,
‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আমাদের প্রতিবেশী ও
বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ, দেশ-বিদেশের নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিকবৃন্দ এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের অংশীদারদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বিভিন্ন দেশের
সরকারপ্রধানদের সহমর্মিতা ও সংহতি আমাদের
হৃদয়কে গভীরভাবে আলোড়িত করেছে। জানাজায় বিভিন্ন দেশের
সম্মানিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি, সমবেদনার চিঠি ও বার্তা,
শোক বইয়ে লেখা
কথা, সামাজিক মাধ্যমে অগণিত অনুভূতির প্রকাশ,
বাংলাদেশে অবস্থিত মিশন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি—এই প্রতিটি সম্মাননাই ছিল
অভূতপূর্ব।‘বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি আবারও
কৃতজ্ঞতা জানাই
সশস্ত্র বাহিনী,
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত
প্রতিটি সদস্যকে। মায়ের শেষ বিদায়ে আপনাদের দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জিয়া
পরিবারকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।‘তিনি আরও বলেন,
‘এই শোকের দিনগুলো যেন মর্যাদা ও
সম্মানের সঙ্গে
সম্পন্ন হয়,
সে জন্য যারা
ভূমিকা রেখেছেন, তাদের
সবার প্রতিই আমরা
কৃতজ্ঞ। বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে
চাই প্রেসিডেন্ট গার্ড
রেজিমেন্টকে। তাদের
সম্মানসূচক গার্ড
অব অনার ও
শেষ সালাম আমার
মায়ের জীবন ও
অবদানের প্রতি
সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। তাকে
সমাধিতে পৌঁছে
দিয়ে তারা জাতির
শ্রদ্ধা ও
ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন এবং
অন্তিম যাত্রাকে প্রাপ্য সম্মানে আলোকিত
করেছেন।‘তারেক রহমান বলেন,’
এ কথাও স্মরণ
করিয়ে দিতে চাই
যে, আরও অনেক
মানুষ, যাদের নাম
বা ভূমিকা হয়তো
আলাদাভাবে উল্লেখ
করা সম্ভব হয়নি,
তারা নীরবে ও
নির্মোহভাবে এই
পুরো প্রক্রিয়াকে সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে
সহায়তা করেছেন। পর্দার আড়ালে বা
জনসম্মুখের বাইরে
থেকে দায়িত্ব পালনকারী সকলের প্রতি রইল
আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের প্রচেষ্টাতেই আমাদের
পরিবার ও জাতি
মর্যাদার সঙ্গে
মায়ের স্মৃতিকে ধারণ
করতে পেরেছে।‘তিনি আরও বলেন, ‘সবশেষে,
বাংলাদেশের জনগণের
প্রতি আমার গভীর
অভিবাদন। দেশের
প্রতিটি প্রান্ত থেকে এত মানুষের সমবেত হয়ে দেশনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য আমাদের পরিবার
কখনোই ভুলবে না।
এই শক্তিশালী ও
ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি গণমানুষের সহমর্মিতা ও মানবিক আবেগেরই প্রতিফলন।‘সর্বশেষ তারেক রহমান
বলেন, ‘আমাদের পরিবার
এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ
থেকে, শোক ও
স্মরণের এই
সময়ে যারা আমাদের
পাশে ছিলেন, তাদের
সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও
সংহতি আমাদের সান্ত্বনা ও শক্তি জুগিয়েছে, আর আমরা তা
কৃতজ্ঞতার সঙ্গে
আগামীর বাংলাদেশে বয়ে
নিয়ে চলব, ইনশাআল্লাহ।‘
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ