ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

আক্কেলপুরে মোমবাতির আলো ও মোবাইলের বাতি শিক্ষার্থীদের ভরসা

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দীর্ঘ প্রায় ২০ দিন ধরে একমাত্র স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গোপীনাথপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) বিদ্যুৎহীন রয়েছে। এদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ফরম পূরণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় হোস্টেলে মোমবাতির আলো ও মোবাইলের বাতি শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। সমস্যা সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীরা সরকারি একাধিক দপ্তরে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে অবস্থানের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। কোনো অঘটন ঘটলে এর দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না।আইএইচটিতে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে নীরব ঘন অন্ধকার। ভূতুড়ে পরিবেশে ছাত্র হোস্টেলের ভবনে মাঝে মাঝে জানালা দিয়ে অস্পষ্ট আলোর আভাস আসছে। বারান্দায় ছাত্ররা নিজেরাই পরচুলায় খড়কুটো দিয়ে রান্না করছেন। আবার কেউ নিজের কক্ষে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করছে। মনে হচ্ছে আধুনিকতার ছোঁয়া না পেয়ে ঊনবিংশ শতাব্দীতে ফিরে গেছে তারা। এমন দুর্দশা ও দুর্ভোগ নিয়ে কিছুটা বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীদের হোস্টেল থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।জানা গেছে, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে দুটি টেকনোলজিতে (ল্যাব ও ফার্মেসি) ৪৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী হোস্টেলে থাকেন। অর্থনৈতিক কোড না পাওয়াই স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে আনুষঙ্গিক ব্যয়ভারের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।গত এক বছর থেকে সেই বরাদ্দও বন্ধ রয়েছে। এ কারণে গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬৮৩ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ আইএইচটি কর্তৃপক্ষকে বারবার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য চিঠির মাধ্যমে তাগাদা দেয়। বরাদ্দ না থাকায় কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারেনি। এ কারণে গত ২৩ নভেম্বর সকালে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির লোকজন গিয়ে আইএইচটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য আইএইচটি বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু হঠাৎ করে কেন্দ্রীয়ভাবে চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য ঘোষণা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের নিজ বাড়ি থেকে ফরম পূরণ এবং পড়াশোনা করা সম্ভব হবে না। তাই তারা বাধ্য হয়ে আবার বন্ধ প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে উঠেছেন। এতে তারা পানি ও খাবার সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।ফার্মেসি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এরপর শিক্ষার্থীরা হোস্টেল ছেড়ে বাড়ি চলে যায়। আমিও বাড়িতে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে ফাইনাল পরীক্ষার ফরম পূরণের ঘোষণা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে এসে আবারও হোস্টেলে উঠেছি। তিনি বলেন, রাতের বেলা মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করছি। আবার কখনো মোবাইল ফোনের আলোতে পড়ছি। এতে আমাদের অনেক কষ্টের পাশাপাশি ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই। এ কারণে আমরা ছাত্ররা মিলে বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপিও দিয়েছি।সাফিয়া ইমরোজ নামের শেষ বর্ষের ল্যাব বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আমার বাড়ি রাজশাহীতে। ফাইনাল পরীক্ষার ফরম পূরণের ঘোষণা দেওয়াই অনেক সকালে বাড়ি থেকে এসেছি। হোস্টেল বন্ধ থাকায় টাকা জমা দিয়েই আবার বাড়ি চলে যাব। এতে আমাদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হচ্ছে।ল্যাবরেটরি বিভাগের শিক্ষার্থী নুর আমিন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় আলো এবং পানির ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। সংকট সমাধানে নতুন করে পানির পাম্প বসিয়ে দুই ঘণ্টা জেনারেটর চালিয়ে শুধু পানি সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্ধকারে রান্না খাওয়া আর মোমবাতি জ্বালিয়ে কোনোমতে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।ওই প্রতিষ্ঠানের নৈশপ্রহরী স্বাধীন বলেন, গত ২০ দিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ নেই। রাতের বেলায় বহিরাগত ও চোরেরা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। এরই মধ্যে ছাত্ররা হোস্টেলে উঠেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা চরমভাবে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।গোপীনাথপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) অধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস মন্ডল বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। হোস্টেলে অবস্থানের জন্য তাদের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। তারা নিজে থেকেই অযথা হোস্টেলে থাকছেন। কোনো অঘটন ঘটলে এর দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। আর বিদ্যুতের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে, খুব দ্রুত বিষয়টি সমাধান হবে।  এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

আক্কেলপুরে মোমবাতির আলো ও মোবাইলের বাতি শিক্ষার্থীদের ভরসা