লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আজ রোববার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের কসাইটারী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হাতীবান্ধা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, বিকেলে কসাইটারী এলাকায় জামায়াতের কয়েকজন নারী কর্মী গণসংযোগে যান। এ সময় বাড়ির আশপাশের লোকজন তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। খবর পেয়ে জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন। তারা হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতরা হলেন বিএনপির হাতীবান্ধা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নূরনবী কাজল খন্দকার (৪৬), মতিউর রহমান (২৫), নাজমুল হোসেন ছাকিম (১৮), মানিক মিয়া (৪৮), আশরাফ হোসেন (৬৫), শাহ আলম (২৮), শরিফুল ইসলাম (২৬), আছিম উল্লাহ (৫০) ও শাহিদা খাতুন (৬৫)। জামায়াতের আবুল কাশেম (৫৫) ও সোহেল রানা (২৭)।
আহত বিএনপি নেতা নূরনবী কাজল খন্দকার জানান, জামায়াতের কয়েকজন মহিলা কর্মী গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলা ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করছিলেন। এ খবর পেয়ে তারা কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। কিছুক্ষণের মধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ছুটে এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন।
তিনি বলেন, 'আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জামায়াতের লোকজন আমাদের ওপর চড়াও হয়ে হামলা শুরু করেন। ঘটনাস্থলে আমিসহ কয়েকজন আহত হই।'
ওসি শাহীন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিছুক্ষণের মধ্যে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার ও পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল উপস্থিত হন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরিন বলেন, 'খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেই। সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ থেকে ১২জন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পুনরায় সংঘর্ষ ঠেকাতে আমাদের প্রস্তুতিও রয়েছে।'
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, 'ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্টকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে ধৈর্য্য ধরতে বলেছি।'
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা।
লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টিসহ মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান ও জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম।
এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আজ রোববার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের কসাইটারী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হাতীবান্ধা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, বিকেলে কসাইটারী এলাকায় জামায়াতের কয়েকজন নারী কর্মী গণসংযোগে যান। এ সময় বাড়ির আশপাশের লোকজন তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। খবর পেয়ে জামায়াত ও বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন। তারা হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতরা হলেন বিএনপির হাতীবান্ধা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নূরনবী কাজল খন্দকার (৪৬), মতিউর রহমান (২৫), নাজমুল হোসেন ছাকিম (১৮), মানিক মিয়া (৪৮), আশরাফ হোসেন (৬৫), শাহ আলম (২৮), শরিফুল ইসলাম (২৬), আছিম উল্লাহ (৫০) ও শাহিদা খাতুন (৬৫)। জামায়াতের আবুল কাশেম (৫৫) ও সোহেল রানা (২৭)।
আহত বিএনপি নেতা নূরনবী কাজল খন্দকার জানান, জামায়াতের কয়েকজন মহিলা কর্মী গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলা ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করছিলেন। এ খবর পেয়ে তারা কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। কিছুক্ষণের মধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ছুটে এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন।
তিনি বলেন, 'আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই জামায়াতের লোকজন আমাদের ওপর চড়াও হয়ে হামলা শুরু করেন। ঘটনাস্থলে আমিসহ কয়েকজন আহত হই।'
ওসি শাহীন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিছুক্ষণের মধ্যে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার ও পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল উপস্থিত হন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরিন বলেন, 'খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেই। সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ থেকে ১২জন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পুনরায় সংঘর্ষ ঠেকাতে আমাদের প্রস্তুতিও রয়েছে।'
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, 'ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্টকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে ধৈর্য্য ধরতে বলেছি।'
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা।
লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টিসহ মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান ও জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম।
এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন