দেশের বাজারে সোনার দামে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক নজির বিহীন বড় ধস লক্ষ্য করা গেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় প্রতি ভরিতে মোট ১২ হাজার ১৪ টাকা দাম কমানো হয়েছে।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সোনার দামে
এই নজিরবিহীন বড় ধস লক্ষ্য করা যায়।
মাত্র কয়েক
ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় প্রতি ভরিতে মোট ১২ হাজার ১৪ টাকা দাম কমানো হয়েছে। এদিন সকালে ভরিতে কমেছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। আবার বিকেলেও আবার ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমানোর ঘোষণা আসে।
আজ
সকালে প্রথম
দফায় ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমানোর পর
বিকেল তিনটার পর দ্বিতীয়
দফা নতুন দামের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এর মানে, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের
এক ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা। যা
সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
এর আগে গত রবিবার সন্ধ্যায়ও সোনার দামে বড় ধরনের এক
পরিবর্তন আসে।
তখন প্রতি ভরিতে এক হাজার ৯২৫ টাকা কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে শুধু ২২ ক্যারেট নয়, ২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দামও সমানতালে কমেছে। বাজারে স্বর্ণের দামে এমন ধস নামলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে রুপার ক্ষেত্রে; এই ধাতুটির দাম আগের মতোই স্থিতিশীল বা অপরিবর্তিত রয়েছে। মূলত কয়েক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের এই দফায় দফায় দাম কমার বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার
দেশে সোনার দাম প্রতি ভতিরে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়েছিল। তাতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার দাম।
করোনা পর থেকে
বিশ্ববাজারের অস্থিরতায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম গত পাঁচ বছরে
সোনার দাম সাধারণ
মানুষের নাগালের অনেকটা বাইরে চলে গিয়েছিল। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম লাখ টাকার ঘর অতিক্রম করে। এরপর থেকেই যেন দাম বাড়ার প্রতিযোগিতায় নামে সোনা। গত বছরের (২০২৫)
ফেব্রুয়ারিতে সোনার দাম
দেড় লাখ টাকা
এবং অক্টোবরে
দুই লাখ টাকার মাইলফলক
স্পর্শ করে।
পরে গত সপ্তাহে আড়াই লাখ টাকার রেকর্ড ভেঙে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় স্বর্ণের দর। মাত্র কয়েক বছরে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতা উভয় পক্ষকেই ভাবিয়ে তুলছে। অর্থনীতির এই অবস্থায় সোনা এখন আর কেবল অলঙ্কার নয়, বরং আভিজাত্যের পাশাপাশি দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার
দাম বর্তমানে এক
নতুন উচ্চতায় অবস্থান করছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার মূল্য ৪,৭০৩ ডলার। বাজার বিশ্লেষক ও লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঊর্ধ্বগতি এখানেই থেমে থাকছে না।
তাঁদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চলতি এবং আগামী বছর
জুড়ে সোনার
দাম আরও বাড়তে পারে। স্বাধীন বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়তে থাকায় নিকট ভবিষ্যতে এটি নতুন কোনো রেকর্ড স্পর্শ করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (এলএমবিএ) বার্ষিক পূর্বাভাসের জরিপে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৬ সালে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। গড় দাম হতে পারে ৪ হাজার ৭৪২ ডলার। আর স্বাধীন
বিশ্লেষক রস নরম্যান
মনে করেন, চলতি বছর সোনার দাম ৬ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। গড় দাম হতে পারে ৫ হাজার ৩৭৫ ডলার।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের বাজারে সোনার দামে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক নজির বিহীন বড় ধস লক্ষ্য করা গেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় প্রতি ভরিতে মোট ১২ হাজার ১৪ টাকা দাম কমানো হয়েছে।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সোনার দামে
এই নজিরবিহীন বড় ধস লক্ষ্য করা যায়।
মাত্র কয়েক
ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফায় প্রতি ভরিতে মোট ১২ হাজার ১৪ টাকা দাম কমানো হয়েছে। এদিন সকালে ভরিতে কমেছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। আবার বিকেলেও আবার ৫ হাজার ৪২৪ টাকা কমানোর ঘোষণা আসে।
আজ
সকালে প্রথম
দফায় ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমানোর পর
বিকেল তিনটার পর দ্বিতীয়
দফা নতুন দামের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এর মানে, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের
এক ভরি সোনার দাম কমে হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬০ টাকা। যা
সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
এর আগে গত রবিবার সন্ধ্যায়ও সোনার দামে বড় ধরনের এক
পরিবর্তন আসে।
তখন প্রতি ভরিতে এক হাজার ৯২৫ টাকা কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে শুধু ২২ ক্যারেট নয়, ২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দামও সমানতালে কমেছে। বাজারে স্বর্ণের দামে এমন ধস নামলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে রুপার ক্ষেত্রে; এই ধাতুটির দাম আগের মতোই স্থিতিশীল বা অপরিবর্তিত রয়েছে। মূলত কয়েক দিনের ব্যবধানে স্বর্ণের এই দফায় দফায় দাম কমার বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার
দেশে সোনার দাম প্রতি ভতিরে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়েছিল। তাতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে হয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার দাম।
করোনা পর থেকে
বিশ্ববাজারের অস্থিরতায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম গত পাঁচ বছরে
সোনার দাম সাধারণ
মানুষের নাগালের অনেকটা বাইরে চলে গিয়েছিল। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম লাখ টাকার ঘর অতিক্রম করে। এরপর থেকেই যেন দাম বাড়ার প্রতিযোগিতায় নামে সোনা। গত বছরের (২০২৫)
ফেব্রুয়ারিতে সোনার দাম
দেড় লাখ টাকা
এবং অক্টোবরে
দুই লাখ টাকার মাইলফলক
স্পর্শ করে।
পরে গত সপ্তাহে আড়াই লাখ টাকার রেকর্ড ভেঙে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় স্বর্ণের দর। মাত্র কয়েক বছরে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বিনিয়োগকারী ও সাধারণ ক্রেতা উভয় পক্ষকেই ভাবিয়ে তুলছে। অর্থনীতির এই অবস্থায় সোনা এখন আর কেবল অলঙ্কার নয়, বরং আভিজাত্যের পাশাপাশি দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার
দাম বর্তমানে এক
নতুন উচ্চতায় অবস্থান করছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার মূল্য ৪,৭০৩ ডলার। বাজার বিশ্লেষক ও লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঊর্ধ্বগতি এখানেই থেমে থাকছে না।
তাঁদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চলতি এবং আগামী বছর
জুড়ে সোনার
দাম আরও বাড়তে পারে। স্বাধীন বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়তে থাকায় নিকট ভবিষ্যতে এটি নতুন কোনো রেকর্ড স্পর্শ করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (এলএমবিএ) বার্ষিক পূর্বাভাসের জরিপে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৬ সালে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। গড় দাম হতে পারে ৪ হাজার ৭৪২ ডলার। আর স্বাধীন
বিশ্লেষক রস নরম্যান
মনে করেন, চলতি বছর সোনার দাম ৬ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। গড় দাম হতে পারে ৫ হাজার ৩৭৫ ডলার।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন