ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

রেকর্ড দরপতন: ভরিতে সোনার দাম কমল ১৫,৭৪৬ টাকা



রেকর্ড দরপতন: ভরিতে সোনার দাম কমল ১৫,৭৪৬ টাকা
ছবি: সংগৃহীত

রেকর্ড উচ্চতার পর হঠাৎ বড় এক ধাক্কা খেল দেশের স্বর্ণবাজার। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্ব বাজারে বড় দরপতনের প্রভাবেই দেশের বাজারে এমন বড় সমন্বয় করা হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

 

দেশের বাজারে উন্নতমানের সোনার সরবরাহ ও দামের সমন্বয় করতে গিয়ে আজ সকালে প্রতি ভরিতে রেকর্ড ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশের সোনার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সারা দেশের ইতিহাসে একক দিনে সোনার দাম কমানোর ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড বলে জানা যায়।

 

সপ্তাহের শেষ দিনে এসে দেশের বাজারে সোনার বড় ধরণের সুখবর দিলো বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনার দাম এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে এই সংগঠনটি।

 

গতকাল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সোনার দাম প্রতি ভরিতে কমেছিল ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা। দেশের বাজারে সোনার দামে নজিরবিহীন এক পতনের সাক্ষী হলো গত ৪৮ ঘণ্টা। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি ভরি সোনার দাম সম্মিলিতভাবে কমেছে ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা, যা বাংলাদেশের জুয়েলারি ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।

 

বিশ্বজুড়ে সোনা ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম নেমে এসেছে ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে। অথচ গতকাল শুক্রবার এ দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছাড়িয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনে আন্তর্জাতিক বাজারেই বড় পতন হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।

 

দুই দফা দাম কমার আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সারা দেশে সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়েছিল। তাতে উন্নত মানের এক ভরি সোনার দাম হয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এটি ছিল দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম।

করোনার পর থেকে গত পাঁচ বছরে দেশে-বিদেশে সোনার দাম অনেকটা দ্রুতগতিতে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা বৃদ্ধির প্রভাবে দেশে বাজারে বাড়ানো হয়েছিল সোনার দাম।

 

বিশ্ব বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারেও সোনার দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। সারা দেশের বাজারে ২০২৩ সালের ২১ জুলাই সোনার ভরি ১ লাখ টাকায় পৌঁছায়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেড় লাখ টাকা এবং অক্টোবরে দুই লাখ টাকার রেকর্ড গড়ে। গত সপ্তাহে আড়াই লাখ টাকা পেরিয়ে যায় সোনার দাম।

সারা দেশের বাজারে সোনার দামে যে রেকর্ড দর পতন হয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে সব মানের সোনার ওপর। শুধু ২২ ক্যারেটই নয়, ২১ ১৮ ক্যারেটসহ সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও এক ধাক্কায় অনেকটা হ্রাস পেয়েছে।

২২ ক্যারেট: সব চেয়ে দামী ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ১৫,৭৪৬ টাকা কমিয়ে এখন নির্ধারণ করা হয়েছে ,৫৫,৬১৭ টাকা

২১ ক্যারেট: ২১ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে কমেছে ১৪ হাজার ৯৮৮ টাকা। ফলে এখন প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট সোনা দাম লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা

১৮ ক্যারেট: ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে এখন ১২ হাজার ৮৮৮ টাকা কমানো হয়েছে। বর্তমান দেশের বাজারে এর নতুন দাম দাঁড়িয়েছে লাখ হাজার ১৩৬ টাকা

সনাতন পদ্ধতি: সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিতে ১০ হাজার ৯৬৪ টাকা কমে এর নতুন দাম হয়েছে লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা

জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বলেছে, ‘স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। তবে মূল কারণ হচ্ছে, বিশ্ববাজারে সোনার দাম হ্রাস পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।‘

সোনার দামের বড় ধরণের পতনের সাথে এবার রুপার দামও কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ শনিবার থেকেই দেশের বাজারে সব ধরণের রুপার নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে।

২২ ক্যারেট: ২২ ক্যারেট রুপার চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে ৪৬৭ টাকা কমে এই মানের রুপার দাম এখন দাঁড়িয়েছে ৭,২৯০ টাকায়।

২১ ক্যারেট: দেশের সাধারণ জুয়েলারি দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ২১ ক্যারেটের রুপা দামও ভরিতে ৪৬৭ টাকা হ্রাস পেয়ে এখন দাম হয়েছে ৬,৯৪০ টাকায়।

১৮ ক্যারেট: ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ভরিতে ৪০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে হাজার ৯৪৯ টাকা

সনাতন পদ্ধতি: সনাতন পদ্ধতির দামও এবার উল্লেখযোগ্য হারে দাম কমেছে। ভরিতে ৩৫০ টাকা কমানোর ফলে এখন দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : রেকর্ড সোনার দাম ভরি ১৫,৭৪৬ টাকা

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


রেকর্ড দরপতন: ভরিতে সোনার দাম কমল ১৫,৭৪৬ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

রেকর্ড উচ্চতার পর হঠাৎ বড় এক ধাক্কা খেল দেশের স্বর্ণবাজার। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্ব বাজারে বড় দরপতনের প্রভাবেই দেশের বাজারে এমন বড় সমন্বয় করা হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

 

দেশের বাজারে উন্নতমানের সোনার সরবরাহ ও দামের সমন্বয় করতে গিয়ে আজ সকালে প্রতি ভরিতে রেকর্ড ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশের সোনার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সারা দেশের ইতিহাসে একক দিনে সোনার দাম কমানোর ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড বলে জানা যায়।

 

সপ্তাহের শেষ দিনে এসে দেশের বাজারে সোনার বড় ধরণের সুখবর দিলো বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনার দাম এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে এই সংগঠনটি।

 

গতকাল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সোনার দাম প্রতি ভরিতে কমেছিল ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা। দেশের বাজারে সোনার দামে নজিরবিহীন এক পতনের সাক্ষী হলো গত ৪৮ ঘণ্টা। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি ভরি সোনার দাম সম্মিলিতভাবে কমেছে ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা, যা বাংলাদেশের জুয়েলারি ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।

 

বিশ্বজুড়ে সোনা ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম নেমে এসেছে ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে। অথচ গতকাল শুক্রবার এ দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছাড়িয়েছিল। অর্থাৎ মাত্র দুই দিনে আন্তর্জাতিক বাজারেই বড় পতন হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।

 

দুই দফা দাম কমার আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সারা দেশে সোনার দাম ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়েছিল। তাতে উন্নত মানের এক ভরি সোনার দাম হয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এটি ছিল দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম।

করোনার পর থেকে গত পাঁচ বছরে দেশে-বিদেশে সোনার দাম অনেকটা দ্রুতগতিতে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা বৃদ্ধির প্রভাবে দেশে বাজারে বাড়ানো হয়েছিল সোনার দাম।

 

বিশ্ব বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারেও সোনার দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। সারা দেশের বাজারে ২০২৩ সালের ২১ জুলাই সোনার ভরি ১ লাখ টাকায় পৌঁছায়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেড় লাখ টাকা এবং অক্টোবরে দুই লাখ টাকার রেকর্ড গড়ে। গত সপ্তাহে আড়াই লাখ টাকা পেরিয়ে যায় সোনার দাম।

সারা দেশের বাজারে সোনার দামে যে রেকর্ড দর পতন হয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে সব মানের সোনার ওপর। শুধু ২২ ক্যারেটই নয়, ২১ ১৮ ক্যারেটসহ সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও এক ধাক্কায় অনেকটা হ্রাস পেয়েছে।

২২ ক্যারেট: সব চেয়ে দামী ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ১৫,৭৪৬ টাকা কমিয়ে এখন নির্ধারণ করা হয়েছে ,৫৫,৬১৭ টাকা

২১ ক্যারেট: ২১ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে কমেছে ১৪ হাজার ৯৮৮ টাকা। ফলে এখন প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট সোনা দাম লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা

১৮ ক্যারেট: ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে এখন ১২ হাজার ৮৮৮ টাকা কমানো হয়েছে। বর্তমান দেশের বাজারে এর নতুন দাম দাঁড়িয়েছে লাখ হাজার ১৩৬ টাকা

সনাতন পদ্ধতি: সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিতে ১০ হাজার ৯৬৪ টাকা কমে এর নতুন দাম হয়েছে লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা

জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বলেছে, ‘স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। তবে মূল কারণ হচ্ছে, বিশ্ববাজারে সোনার দাম হ্রাস পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।‘

সোনার দামের বড় ধরণের পতনের সাথে এবার রুপার দামও কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ শনিবার থেকেই দেশের বাজারে সব ধরণের রুপার নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে।

২২ ক্যারেট: ২২ ক্যারেট রুপার চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে ৪৬৭ টাকা কমে এই মানের রুপার দাম এখন দাঁড়িয়েছে ৭,২৯০ টাকায়।

২১ ক্যারেট: দেশের সাধারণ জুয়েলারি দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ২১ ক্যারেটের রুপা দামও ভরিতে ৪৬৭ টাকা হ্রাস পেয়ে এখন দাম হয়েছে ৬,৯৪০ টাকায়।

১৮ ক্যারেট: ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ভরিতে ৪০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে হাজার ৯৪৯ টাকা

সনাতন পদ্ধতি: সনাতন পদ্ধতির দামও এবার উল্লেখযোগ্য হারে দাম কমেছে। ভরিতে ৩৫০ টাকা কমানোর ফলে এখন দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত