ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

ডেমরায় এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট: জিম্মি সাধারণ ভোক্তা



ডেমরায় এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট: জিম্মি সাধারণ ভোক্তা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় এলপিজি গ্যাসের (LPG) বাজার এখন ভয়াবহভাবে  নিয়ন্ত্রণহীন। সরকার নির্ধারিত মূল্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ ভোক্তাদের জিম্মি করে ফেলেছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই এলাকায় চলছে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে রীতিমতো লুটপাট।

সম্প্রতি ডেমরা এলাকার বিভিন্ন বাজার ও মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে এক ভয়াবহ চিত্র। ভোক্তারা গ্যাসের দোকানে গেলে প্রথমেই শুনতে হচ্ছে"দোকানে গ্যাস নেই"। কিন্তু এই 'নেই' শব্দটি আসলে একটি কৌশল।

​যখনই কোনো অসহায় ভোক্তা জানান যে, গ্যাসের অভাবে গত দুদিন ধরে তার বাসায় রান্না হচ্ছে না বা তিনি চরম বিপদে আছেন, তখনই পাল্টে যায় দোকানদারের সুর। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দোকানীরা তখন 'ব্ল্যাক' বা 'অন্য সোর্স' থেকে গ্যাস এনে দেওয়ার কথা বলে আকাশচুম্বী দাম হাঁকাচ্ছেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছে ১,২৫৩ টাকা। কিন্তু ডেমরার বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা যায়:

দোকানীরা সরকারি রেট বা ১,২৫৩ টাকার কথা শুনলে গ্যাস বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

​কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সেই একই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১,৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত।

​সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি প্রায় ৪০০ থেকে ১,৭০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে সিন্ডিকেট।

​জনমনে ক্ষোভ: 'নেই কোনো প্রশাসন'

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মতে, ডেমরা এলাকায় বর্তমানে কোনো প্রশাসনিক তদারকি নেই বললেই চলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, "মনে হচ্ছে এই এলাকায় কোনো সরকার নেই, নেই কোনো নিয়ম-কানুন। চোখের সামনে এভাবে পকেট কাটছে, অথচ দেখার কেউ নেই।"

​সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়নে বা বাজার নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রশাসনের এই নীরবতায় অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে ডেমরা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হোক। যারা গ্যাস মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই নৈরাজ্য থামবে না।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : জিম্মি ভোক্তা ডেমরা

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬


ডেমরায় এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট: জিম্মি সাধারণ ভোক্তা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় এলপিজি গ্যাসের (LPG) বাজার এখন ভয়াবহভাবে  নিয়ন্ত্রণহীন। সরকার নির্ধারিত মূল্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ ভোক্তাদের জিম্মি করে ফেলেছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই এলাকায় চলছে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে রীতিমতো লুটপাট।

সম্প্রতি ডেমরা এলাকার বিভিন্ন বাজার ও মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে এক ভয়াবহ চিত্র। ভোক্তারা গ্যাসের দোকানে গেলে প্রথমেই শুনতে হচ্ছে"দোকানে গ্যাস নেই"। কিন্তু এই 'নেই' শব্দটি আসলে একটি কৌশল।

​যখনই কোনো অসহায় ভোক্তা জানান যে, গ্যাসের অভাবে গত দুদিন ধরে তার বাসায় রান্না হচ্ছে না বা তিনি চরম বিপদে আছেন, তখনই পাল্টে যায় দোকানদারের সুর। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দোকানীরা তখন 'ব্ল্যাক' বা 'অন্য সোর্স' থেকে গ্যাস এনে দেওয়ার কথা বলে আকাশচুম্বী দাম হাঁকাচ্ছেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছে ১,২৫৩ টাকা। কিন্তু ডেমরার বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা যায়:

দোকানীরা সরকারি রেট বা ১,২৫৩ টাকার কথা শুনলে গ্যাস বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

​কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সেই একই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১,৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত।

​সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি প্রায় ৪০০ থেকে ১,৭০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে সিন্ডিকেট।

​জনমনে ক্ষোভ: 'নেই কোনো প্রশাসন'

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মতে, ডেমরা এলাকায় বর্তমানে কোনো প্রশাসনিক তদারকি নেই বললেই চলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, "মনে হচ্ছে এই এলাকায় কোনো সরকার নেই, নেই কোনো নিয়ম-কানুন। চোখের সামনে এভাবে পকেট কাটছে, অথচ দেখার কেউ নেই।"

​সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়নে বা বাজার নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রশাসনের এই নীরবতায় অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে ডেমরা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হোক। যারা গ্যাস মজুদ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই নৈরাজ্য থামবে না।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত