ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

ব্যবসায়ীরা ‘পুতুলের’ মত আচরণ করেছে: গভর্নর



ব্যবসায়ীরা ‘পুতুলের’ মত আচরণ করেছে: গভর্নর
ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো পাপেটের মতো আচরণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর . আহসান এইচ মনসুর। তার মতে, ব্যবসায়ীরা ঠিক হলে দেশের অর্থনীতিও ঠিক হবে।

আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, গত সরকারের সময় যখন থেকে শতাংশ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখন ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো তালি দিয়েছিল। অর্থ পাচারের সময়েও তারা চুপ ছিল। এমন আচরণ করলে গণতন্ত্র কখনো শক্তিশালী হয় না।

আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতা ব্যাংকাররা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, এলডিসি থেকে আজ হোক বা কাল হোকআমাদের উত্তরণ হতেই হবে। তাই মানবসম্পদ উন্নয়ন, মুদ্রা আর্থিক ব্যবস্থার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। কেবল নীতি থাকলেই হবে না, দক্ষতাও বাড়াতে হবে। লজিস্টিক সিস্টেম, নেটওয়ার্ক, যোগাযোগ, আইসিটি, শিক্ষা উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এই উত্তরণ প্রক্রিয়ার বড় অংশ। সামান্য সুবিধার জন্য বড় সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, আমাদের অর্থনীতির প্রতিটি খাতে নিজেদের প্রস্তুত করা প্রয়োজন। আমি বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোর কাতারে মনে করি না। বাংলাদেশ এখন থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া বা ভারতের মতো দেশগুলোর সমমর্যাদার দাবিদার।

গভর্নর বলেন, ‘আমরা পুতুল সংগঠন নয়, একটা পেশাদার ব্যবসায়ী সংগঠন চাই। আমরা সত্য কথা শুনতে চাই তাদের কাছ থেকে। এভাবে গণতন্ত্র কাজ করবে। অন্যথায় কাজ করবে না।

ব্যাংক খাতের সংস্কারেস্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীবড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, আমরা সরকারের কাছে একাধিক আইনের প্রস্তাব পাঠিয়েছি। ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স এবং ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স অর্ডিন্যান্স পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করা এবং নয়টি এনবিএফআইকে অবসায়নের প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারগত চার মাস ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। সেখানে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

গভর্নর সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করতে এই আইন অত্যন্ত জরুরি। মৌলিক পরিবর্তন আনতে গেলে কিছু প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী বাধা সৃষ্টি করছে। দেশকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে এই স্বার্থান্বেষী মহলকে প্রতিহত করতে হবে, অন্যথায় দেশ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।

 

 

এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : বাংলাদেশ ব্যাংক

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ব্যবসায়ীরা ‘পুতুলের’ মত আচরণ করেছে: গভর্নর

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো পাপেটের মতো আচরণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর . আহসান এইচ মনসুর। তার মতে, ব্যবসায়ীরা ঠিক হলে দেশের অর্থনীতিও ঠিক হবে।

আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, গত সরকারের সময় যখন থেকে শতাংশ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখন ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো তালি দিয়েছিল। অর্থ পাচারের সময়েও তারা চুপ ছিল। এমন আচরণ করলে গণতন্ত্র কখনো শক্তিশালী হয় না।

আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতা ব্যাংকাররা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীরা স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, এলডিসি থেকে আজ হোক বা কাল হোকআমাদের উত্তরণ হতেই হবে। তাই মানবসম্পদ উন্নয়ন, মুদ্রা আর্থিক ব্যবস্থার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। কেবল নীতি থাকলেই হবে না, দক্ষতাও বাড়াতে হবে। লজিস্টিক সিস্টেম, নেটওয়ার্ক, যোগাযোগ, আইসিটি, শিক্ষা উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এই উত্তরণ প্রক্রিয়ার বড় অংশ। সামান্য সুবিধার জন্য বড় সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, আমাদের অর্থনীতির প্রতিটি খাতে নিজেদের প্রস্তুত করা প্রয়োজন। আমি বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোর কাতারে মনে করি না। বাংলাদেশ এখন থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া বা ভারতের মতো দেশগুলোর সমমর্যাদার দাবিদার।

গভর্নর বলেন, ‘আমরা পুতুল সংগঠন নয়, একটা পেশাদার ব্যবসায়ী সংগঠন চাই। আমরা সত্য কথা শুনতে চাই তাদের কাছ থেকে। এভাবে গণতন্ত্র কাজ করবে। অন্যথায় কাজ করবে না।

ব্যাংক খাতের সংস্কারেস্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীবড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, আমরা সরকারের কাছে একাধিক আইনের প্রস্তাব পাঠিয়েছি। ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স এবং ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স অর্ডিন্যান্স পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করা এবং নয়টি এনবিএফআইকে অবসায়নের প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারগত চার মাস ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। সেখানে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

গভর্নর সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করতে এই আইন অত্যন্ত জরুরি। মৌলিক পরিবর্তন আনতে গেলে কিছু প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী বাধা সৃষ্টি করছে। দেশকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হলে এই স্বার্থান্বেষী মহলকে প্রতিহত করতে হবে, অন্যথায় দেশ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।

 

 

এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত