মার্কিন বোমা হামলায় বিস্মিত নাইজেরিয়ার বাসিন্দারা
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোতো রাজ্যের বাসিন্দারা বৃহস্পতিবার রাতে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভাঙায় আতঙ্কে ভেবেছিলেন, সশস্ত্র কোনো গোষ্ঠী হয়তো তাদের গ্রামে হামলা চালিয়েছে।কিন্তু সেগুলো ছিল যুক্তরাষ্ট্রের হামলা— বড়দিন উপলক্ষে একাধিক স্থানে জঙ্গিদের লক্ষ্য করে চালানো বোমাবর্ষণ।ফোনে যোগাযোগ করা হলে সোকোতো প্রদেশের গ্রামাঞ্চলের তিনজন গ্রামবাসী এ তথ্য জানান। জাবো শহরের আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য এ হামলা ছিল আকস্মিক।তারা বলছেন, তাদের এলাকা কখনো কখনো সশস্ত্র ‘দস্যু’ দল ও জিহাদি গোষ্ঠীর টার্গেট হলেও, এখানে এসব গোষ্ঠীর কোনো ঘাঁটি নেই।জাবোর বাসিন্দা হারুনা কাল্লাহ বলেন, ‘আমরা একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনলাম, যা পুরো শহর কাঁপিয়ে দেয় এবং সবাই ভয় পেয়ে যায়।’জাবো শহরটি সোকোতো নগরীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে, নাইজার সীমান্তের কাছে অবস্থিত। নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিরোধ চলছে, কেননা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির সংঘাতে ‘খ্রিস্টানদের গণহত্যা’ হয়েছে বলে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা নাইজেরিয়া সরকার ও স্বাধীন বিশ্লেষকরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।তাদের মতে, পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি জটিল নিরাপত্তা সংকটে ভুগছে, যেখানে খ্রিস্টান ও মুসলমান উভয় বেসামরিক নাগরিকই নিহত হচ্ছেন।কাল্লাহ বলেন, ‘আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম এটি লাকুরাওয়ার হামলা’— সোকোতো রাজ্যের প্রধান জিহাদি গোষ্ঠী।পরে জানতে পারেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের হামলা— যা তাদের বিস্মিত করে। তিনি বলেন, ‘কারণ এই এলাকা কখনো লাকুরাওয়ার ঘাঁটি ছিল না এবং গত দুই বছরে এখানে কোনো হামলাও হয়নি।২০২০ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী গোপনে তাঙ্গাজা জেলায় প্রবেশ করে দক্ষিণ নাইজার থেকে অপহৃত মার্কিন নাগরিক ফিলিপ ওয়ালটনকে উদ্ধার করেছিল। এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ