পৌষের
শেষভাগে এসে দেশের ওপর
জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। শৈত্যপ্রবাহের দাপটে
জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। রাতভর
টিপটিপ বৃষ্টির মতো ঝরা ঘন
কুয়াশা থাকছে সকাল পর্যন্ত। সকাল
ও সন্ধ্যা প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে
ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে
দেখা যায়। পাশাপাশি বাড়ছে
স্বাস্থ্যঝুঁকি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন
শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া
মানুষ। একই সঙ্গে কৃষি
প্রধান এ অঞ্চলে ফসলের
ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এছাড়াও
কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনগুলো
চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং
সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
শুক্রবার
(৯ জানুয়ারি) আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশের
২৪ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু
থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তা
অব্যাহত থাকতে পারে আরও এক
সপ্তাহের বেশি। তবে বৃহস্পতিবারের তুলনায়
শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়া এলাকার
সংখ্যা কিছু কমেছে। তবে
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য কমেছে।
আবহাওয়া
অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের
তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৯
ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন রাজধানী ঢাকায়
তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে সর্বনিম্ন ১২
দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে
দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে হালকা
থেকে মাঝারি কুয়াশা ও বাতাসে উচ্চ
আর্দ্রতার কারণে রাজধানীতে শীতের অনুভূতি আগের মতো রয়েছে।
একই সঙ্গে, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি হওয়ার ফলে
শীতের আমেজ দিনভরই অব্যাহত
থাকতে পারে। এর আগের দিন
ঢাকার ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক
৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া
অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক
বলেন, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের
সব জেলায় আজ শৈত্যপ্রবাহ বয়ে
যাচ্ছে। এর পাশাপাশি চার
জেলা নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াতেও বইছে
শৈত্যপ্রবাহ। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে
জেলার সংখ্যা ১৬। তাই সব
মিলিয়ে ২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ
বয়ে যাচ্ছে। এর আগের দিন
বৃহস্পতিবার দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ
ছিল।
এই শৈত্যপ্রবাহ আর কয় দিন
চলবে- এমন প্রশ্নের জবাবে
আবুল কালাম মল্লিক বলেন, কয়েক দিন চলতে
পারে। আগামী দুই দিন পর
তাপমাত্রা খানিকটা বাড়তে পারে। তবে তারপর আবার
তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে।
এতে নতুন নতুন জেলা
যুক্ত হতে পারে, আবার
কিছু জেলা বাদ পড়তে
পারে।
আবুল
কালাম মল্লিক জানান, শ্রীলঙ্কার উপকূলে এখন একটি নিম্নচাপ
আছে। এর জন্য বায়ুতে
উষ্ণতা ছড়িয়ে আছে। এ কারণে
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুয়াশা কিছুটা কেটেছে। তবে শুক্রবার কিশোরগঞ্জ,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালীসহ ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের
বিভিন্ন স্থানে কুয়াশা রয়ে গেছে।
শনিবারের
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে
আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত
দেশের নদী অববাহিকার কোথাও
কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা
পড়তে পারে এবং অন্যত্র
তা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের
কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া
সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের
তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
রোববারের
পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে
আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত
দেশের নদী অববাহিকার কোথাও
কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা
পড়তে পারে এবং অন্যত্র
তা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের
কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া
সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং
দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
পঞ্চগড়
সংবাদদাতা জানায়, উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়
হিমালয় থেকে নেমে আসা
হিম বাতাস ও ঘন কুয়াশার
প্রভাবে তীব্র শীত জেঁকে বসেছে।
তাপমাত্রা একলাফে ৬ ডিগ্রির ঘরে।
শীতের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে
বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর
ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
শুক্রবার
সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া
পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬
দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা
ছিল ১০০ শতাংশ এবং
ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২
কিলোমিটার বেগে হিমেল বাতাস
বয়ে যায় জেলার ওপর
দিয়ে।ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে জেলার
সড়ক ও মহাসড়কগুলো। ভোর
থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা
এতটা ঘন হয়ে ওঠে,
কয়েক হাত দূরের কিছুই
দেখা যায় না। ফলে
সকালেও মহাসড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। হিমালয় থেকে বয়ে আসা
হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শীতে অনেকেই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
বিশেষ করে বয়স্ক ও
শিশুদের জ্বর, সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ছে।
তেঁতুলিয়া
সদরের দিনমজুর কাশিম বলেন, তীব্র শীতে কাজ করতে
খুব কষ্ট হয়। হাত-পা অবশ হয়ে
যাচ্ছে, তবুও কাজ করতে
হচ্ছে সংসারের জন্য।
পাথর
শ্রমিক রুবেল জানান, এই ঠান্ডায় ডাহুক
নদীতে পাথর উত্তোলন করতে
শীতে খুব কষ্ট হয়।
হাত পা বাঁকা হয়ে
আসে। তারপরেও জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে।
কাজ না করলে ভাত
পেটে জুটবে না। ভ্যানচালক চালক
রহিম উদ্দিন বলেন, ঠান্ডার কারণে যাত্রীও খুব কম, ভাড়াও
ঠিকমতো পাওয়া যায় না।
তেঁতুলিয়া
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, আজ
তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬
দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ
এবং ঘণ্টায় ১০-১২ কিলোমিটার
বেগে ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। আগামী
কয়েক দিন এ ধরনের
শীত পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
কুড়িগ্রাম
প্রতিনিধি জানায়, কুড়িগ্রামে টানা কয়েকদিনের শীত
ও ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
এতে করে চরম ভোগান্তিতে
পড়েছে চরাঞ্চলের শিশু-বৃদ্ধ ও
গবাদি পশু। রাত থেকে
সকাল পর্যন্ত শীতল হিম বাতাসে
বাড়ছে কাঁপুনি।গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের দেখা
মিলছে না।এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে
খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে
চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর।
কুড়িগ্রাম
সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের দিনমজুর আকবর (৬০), খলিল (৫০),
জয়নাল (৩৮) বলেন, শীতের
কারণে সকালে কাজে যেতে দেরি
হয়। ঠান্ডায় হাত-পা চলতে
চায় না, তবু কাজ
না করে উপায় নাই।
নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ভিতরকুটি গ্রামের রাস্তার ধারে সরকারি জায়গায়
বসবাসকারী ষাটোর্ধ্ব আজগর, হাছন বেওয়া (৫৫)
বলেন, এই শীতে রাইতে
দুই খ্যান করে খ্যাতা গাঁত
দিয়ে শুতি তাতো ঠান্ডা
যায় না । এলাও
কাইয়ো কম্বল দিলো না।
একই
এলাকার রহিম আলী বলেন,
ঠান্ডায় কাজ না করলে
পেটে ভাত যায় না।
কাজে গেলে হাত-পা
জ্বালাপোঁড়া করে, ঠিকমতো কাজ
করতে পারি না।
কুড়িগ্রাম
সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মমিনুল
ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ঠান্ডায় আমার ছেলের কয়েক
দিন থেকে ডায়রিয়া শুরু
হয়েছে। চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার
বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা
দিন দিন বেড়ে চলছে।
কিছু
রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। আবার কিছু কিছু
রোগী হাসপাতালের ভর্তি হচ্ছেন। কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ত্রাণ
ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, ৯টি
উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র
বিতরণ চলছে ও নগদ
৪০ লক্ষ টাকা মজুত
আছে।
কুড়িগ্রাম
রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার
জানান, আজ শুক্রবার সকাল
৬টায় জেলায় সবনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস
রেকর্ড করা হয়েছে।
নীলফামারী
প্রতিনিধি জানায়, নীলফামারীর ওপর দিয়ে বয়ে
যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন
কুয়াশার সঙ্গে ঠান্ডা বাতাসে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন।
খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা
করছে ছিন্নমূল মানুষ। সৈয়দপুর আবহাওয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯
দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ও সর্বোচ্চ ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ
ও গতিবেগ পশ্চিম দিক দিক থেকে
ঘণ্টায় ৯০০ মিটার।
অপরদিকে,
দৃষ্টিসীমা ছিল দেড় থেকে
২০০ মিটার। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আরও
কয়েকদিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থেকে
শৈত্য প্রবাহ হতে পারে। গত
তিন দিনে ঘণ্টাখানেকের মতো
সূর্যের দেখা মিললেও দুপুরের
পর থেকে ঢেকে যায়
ঘন কুয়াশায়। ফলে শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে
জেলা সদরসহ ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এ জেলায় হিমেল
বাতাস, ঘন কুয়াশা ও
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো শিশির কণা
ঝরছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে
স্বাভাবিক জনজীবন।
চলতি
মৌসুমের তৃতীয় দফার এই শৈত্যপ্রবাহে
সূর্যের দেখা মিলছে না
বললেই চলে। ফলে রাস্তাঘাট
খেত খামারে এমনকি পথচারীরা বাড়ির বাইরে বিনা প্রয়োজনে বের
হচ্ছে না। এদিকে, হেডলাইট
জ্বালিয়ে দূরপাল্লার ভারী যানবাহনসহ মোটরসাইকেল
গুলো চলাচল করছে। এতে করে সড়কে
বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
এই অবস্থায় বেশি বিপাকে পড়েছেন
বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল মানুষ।
কাজে বের হতে না
পেরে অনেকেই আয়-রোজগার হারাচ্ছেন।
খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষের
দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ
করেছে। এসব মানুষ কিছুদিন
আগে দুয়েকটি কম্বল পেলেও এখন আর শীতবস্ত্রের
দেখা মিলছে না।
জেলা
শহরের বড় বাজার ট্রাফিক
মোড়ের রিকশাচালক আবু তালেব, লিটন,
মমিনুর বলেন, আমাদের পরিবারের খাবার জোগাড় দিতে হয় রিকশা
চালিয়ে। গত তিনদিন ধরে
সকালে স্ট্যান্ডে আসি বসি থাকি,
কিন্তু যাত্রী নাই, শহর একবারেই
ফাঁকা। লোকজনের দেখা মিলছে না।
জানতে
চাইলে তারা বলেন, এখন
বাজে সাড়ে ৯টা ভাড়া
মারাতো দূরের কথা, নাশতার টাকা
কামাই হয় নাই। সংসার
চলবে কী দিয়ে আল্লাহই
জানে। শোনা যাচ্ছে, আকাশের
এমন আবহাওয়া আরও দুয়েকদিন থাকবে।
তীব্র
শীতের প্রভাবে নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট
জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার ছয় উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই
চলছে। বিশেষ করে শিশু ও
বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াজনিত রোগ
নিয়ে প্রতিদিন রোগীরা হাসপাতালে ভিড় করছেন।
ওই হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ
ডা. আব্দুল আউয়াল জানান, চিকিৎসাসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের বাড়তি
সতর্কতামূলক নানা পরামর্শ দেওয়া
হচ্ছে। এসব রোগে আক্রান্ত
হলে দ্রুত স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক অথবা হাসপাতালে যোগাযোগ
করতে বলা হচ্ছে।
সৈয়দপুর
বিমানবন্দর আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, শুক্রবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯
দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ও সর্বোচ্চ ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ
ও গতিবেগ পশ্চিমদিক দিক থেকে ঘণ্টায়
৯০০ মিটার। অপরদিকে, দৃষ্টিসীমা ছিল ২০০ মিটার।
সময়ের
আলো
.png)
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
পৌষের
শেষভাগে এসে দেশের ওপর
জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। শৈত্যপ্রবাহের দাপটে
জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। রাতভর
টিপটিপ বৃষ্টির মতো ঝরা ঘন
কুয়াশা থাকছে সকাল পর্যন্ত। সকাল
ও সন্ধ্যা প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে
ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে
দেখা যায়। পাশাপাশি বাড়ছে
স্বাস্থ্যঝুঁকি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন
শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া
মানুষ। একই সঙ্গে কৃষি
প্রধান এ অঞ্চলে ফসলের
ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এছাড়াও
কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনগুলো
চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং
সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
শুক্রবার
(৯ জানুয়ারি) আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশের
২৪ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু
থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তা
অব্যাহত থাকতে পারে আরও এক
সপ্তাহের বেশি। তবে বৃহস্পতিবারের তুলনায়
শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়া এলাকার
সংখ্যা কিছু কমেছে। তবে
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সামান্য কমেছে।
আবহাওয়া
অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের
তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৯
ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন রাজধানী ঢাকায়
তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে সর্বনিম্ন ১২
দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে
দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে হালকা
থেকে মাঝারি কুয়াশা ও বাতাসে উচ্চ
আর্দ্রতার কারণে রাজধানীতে শীতের অনুভূতি আগের মতো রয়েছে।
একই সঙ্গে, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি হওয়ার ফলে
শীতের আমেজ দিনভরই অব্যাহত
থাকতে পারে। এর আগের দিন
ঢাকার ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক
৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া
অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক
বলেন, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের
সব জেলায় আজ শৈত্যপ্রবাহ বয়ে
যাচ্ছে। এর পাশাপাশি চার
জেলা নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াতেও বইছে
শৈত্যপ্রবাহ। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে
জেলার সংখ্যা ১৬। তাই সব
মিলিয়ে ২০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ
বয়ে যাচ্ছে। এর আগের দিন
বৃহস্পতিবার দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ
ছিল।
এই শৈত্যপ্রবাহ আর কয় দিন
চলবে- এমন প্রশ্নের জবাবে
আবুল কালাম মল্লিক বলেন, কয়েক দিন চলতে
পারে। আগামী দুই দিন পর
তাপমাত্রা খানিকটা বাড়তে পারে। তবে তারপর আবার
তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে।
এতে নতুন নতুন জেলা
যুক্ত হতে পারে, আবার
কিছু জেলা বাদ পড়তে
পারে।
আবুল
কালাম মল্লিক জানান, শ্রীলঙ্কার উপকূলে এখন একটি নিম্নচাপ
আছে। এর জন্য বায়ুতে
উষ্ণতা ছড়িয়ে আছে। এ কারণে
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুয়াশা কিছুটা কেটেছে। তবে শুক্রবার কিশোরগঞ্জ,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালীসহ ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের
বিভিন্ন স্থানে কুয়াশা রয়ে গেছে।
শনিবারের
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে
আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত
দেশের নদী অববাহিকার কোথাও
কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা
পড়তে পারে এবং অন্যত্র
তা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের
কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া
সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের
তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
রোববারের
পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে
আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত
দেশের নদী অববাহিকার কোথাও
কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা
পড়তে পারে এবং অন্যত্র
তা হালকা থেকে মাঝারি ধরনের
কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া
সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং
দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
পঞ্চগড়
সংবাদদাতা জানায়, উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়
হিমালয় থেকে নেমে আসা
হিম বাতাস ও ঘন কুয়াশার
প্রভাবে তীব্র শীত জেঁকে বসেছে।
তাপমাত্রা একলাফে ৬ ডিগ্রির ঘরে।
শীতের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে
বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর
ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
শুক্রবার
সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া
পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬
দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা
ছিল ১০০ শতাংশ এবং
ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২
কিলোমিটার বেগে হিমেল বাতাস
বয়ে যায় জেলার ওপর
দিয়ে।ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে জেলার
সড়ক ও মহাসড়কগুলো। ভোর
থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা
এতটা ঘন হয়ে ওঠে,
কয়েক হাত দূরের কিছুই
দেখা যায় না। ফলে
সকালেও মহাসড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। হিমালয় থেকে বয়ে আসা
হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শীতে অনেকেই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
বিশেষ করে বয়স্ক ও
শিশুদের জ্বর, সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ছে।
তেঁতুলিয়া
সদরের দিনমজুর কাশিম বলেন, তীব্র শীতে কাজ করতে
খুব কষ্ট হয়। হাত-পা অবশ হয়ে
যাচ্ছে, তবুও কাজ করতে
হচ্ছে সংসারের জন্য।
পাথর
শ্রমিক রুবেল জানান, এই ঠান্ডায় ডাহুক
নদীতে পাথর উত্তোলন করতে
শীতে খুব কষ্ট হয়।
হাত পা বাঁকা হয়ে
আসে। তারপরেও জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে।
কাজ না করলে ভাত
পেটে জুটবে না। ভ্যানচালক চালক
রহিম উদ্দিন বলেন, ঠান্ডার কারণে যাত্রীও খুব কম, ভাড়াও
ঠিকমতো পাওয়া যায় না।
তেঁতুলিয়া
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, আজ
তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬
দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ
এবং ঘণ্টায় ১০-১২ কিলোমিটার
বেগে ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। আগামী
কয়েক দিন এ ধরনের
শীত পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
কুড়িগ্রাম
প্রতিনিধি জানায়, কুড়িগ্রামে টানা কয়েকদিনের শীত
ও ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
এতে করে চরম ভোগান্তিতে
পড়েছে চরাঞ্চলের শিশু-বৃদ্ধ ও
গবাদি পশু। রাত থেকে
সকাল পর্যন্ত শীতল হিম বাতাসে
বাড়ছে কাঁপুনি।গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের দেখা
মিলছে না।এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে
খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে
চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর।
কুড়িগ্রাম
সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের দিনমজুর আকবর (৬০), খলিল (৫০),
জয়নাল (৩৮) বলেন, শীতের
কারণে সকালে কাজে যেতে দেরি
হয়। ঠান্ডায় হাত-পা চলতে
চায় না, তবু কাজ
না করে উপায় নাই।
নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ভিতরকুটি গ্রামের রাস্তার ধারে সরকারি জায়গায়
বসবাসকারী ষাটোর্ধ্ব আজগর, হাছন বেওয়া (৫৫)
বলেন, এই শীতে রাইতে
দুই খ্যান করে খ্যাতা গাঁত
দিয়ে শুতি তাতো ঠান্ডা
যায় না । এলাও
কাইয়ো কম্বল দিলো না।
একই
এলাকার রহিম আলী বলেন,
ঠান্ডায় কাজ না করলে
পেটে ভাত যায় না।
কাজে গেলে হাত-পা
জ্বালাপোঁড়া করে, ঠিকমতো কাজ
করতে পারি না।
কুড়িগ্রাম
সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মমিনুল
ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত ঠান্ডায় আমার ছেলের কয়েক
দিন থেকে ডায়রিয়া শুরু
হয়েছে। চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার
বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা
দিন দিন বেড়ে চলছে।
কিছু
রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। আবার কিছু কিছু
রোগী হাসপাতালের ভর্তি হচ্ছেন। কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ত্রাণ
ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, ৯টি
উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র
বিতরণ চলছে ও নগদ
৪০ লক্ষ টাকা মজুত
আছে।
কুড়িগ্রাম
রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার
জানান, আজ শুক্রবার সকাল
৬টায় জেলায় সবনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস
রেকর্ড করা হয়েছে।
নীলফামারী
প্রতিনিধি জানায়, নীলফামারীর ওপর দিয়ে বয়ে
যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঘন
কুয়াশার সঙ্গে ঠান্ডা বাতাসে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন।
খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা
করছে ছিন্নমূল মানুষ। সৈয়দপুর আবহাওয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯
দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ও সর্বোচ্চ ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ
ও গতিবেগ পশ্চিম দিক দিক থেকে
ঘণ্টায় ৯০০ মিটার।
অপরদিকে,
দৃষ্টিসীমা ছিল দেড় থেকে
২০০ মিটার। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আরও
কয়েকদিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থেকে
শৈত্য প্রবাহ হতে পারে। গত
তিন দিনে ঘণ্টাখানেকের মতো
সূর্যের দেখা মিললেও দুপুরের
পর থেকে ঢেকে যায়
ঘন কুয়াশায়। ফলে শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে
জেলা সদরসহ ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা।
হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এ জেলায় হিমেল
বাতাস, ঘন কুয়াশা ও
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো শিশির কণা
ঝরছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে
স্বাভাবিক জনজীবন।
চলতি
মৌসুমের তৃতীয় দফার এই শৈত্যপ্রবাহে
সূর্যের দেখা মিলছে না
বললেই চলে। ফলে রাস্তাঘাট
খেত খামারে এমনকি পথচারীরা বাড়ির বাইরে বিনা প্রয়োজনে বের
হচ্ছে না। এদিকে, হেডলাইট
জ্বালিয়ে দূরপাল্লার ভারী যানবাহনসহ মোটরসাইকেল
গুলো চলাচল করছে। এতে করে সড়কে
বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
এই অবস্থায় বেশি বিপাকে পড়েছেন
বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও ছিন্নমূল মানুষ।
কাজে বের হতে না
পেরে অনেকেই আয়-রোজগার হারাচ্ছেন।
খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী মানুষের
দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ
করেছে। এসব মানুষ কিছুদিন
আগে দুয়েকটি কম্বল পেলেও এখন আর শীতবস্ত্রের
দেখা মিলছে না।
জেলা
শহরের বড় বাজার ট্রাফিক
মোড়ের রিকশাচালক আবু তালেব, লিটন,
মমিনুর বলেন, আমাদের পরিবারের খাবার জোগাড় দিতে হয় রিকশা
চালিয়ে। গত তিনদিন ধরে
সকালে স্ট্যান্ডে আসি বসি থাকি,
কিন্তু যাত্রী নাই, শহর একবারেই
ফাঁকা। লোকজনের দেখা মিলছে না।
জানতে
চাইলে তারা বলেন, এখন
বাজে সাড়ে ৯টা ভাড়া
মারাতো দূরের কথা, নাশতার টাকা
কামাই হয় নাই। সংসার
চলবে কী দিয়ে আল্লাহই
জানে। শোনা যাচ্ছে, আকাশের
এমন আবহাওয়া আরও দুয়েকদিন থাকবে।
তীব্র
শীতের প্রভাবে নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট
জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার ছয় উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই
চলছে। বিশেষ করে শিশু ও
বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াজনিত রোগ
নিয়ে প্রতিদিন রোগীরা হাসপাতালে ভিড় করছেন।
ওই হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ
ডা. আব্দুল আউয়াল জানান, চিকিৎসাসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের বাড়তি
সতর্কতামূলক নানা পরামর্শ দেওয়া
হচ্ছে। এসব রোগে আক্রান্ত
হলে দ্রুত স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক অথবা হাসপাতালে যোগাযোগ
করতে বলা হচ্ছে।
সৈয়দপুর
বিমানবন্দর আবহাওয়া কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, শুক্রবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯
দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ও সর্বোচ্চ ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ
ও গতিবেগ পশ্চিমদিক দিক থেকে ঘণ্টায়
৯০০ মিটার। অপরদিকে, দৃষ্টিসীমা ছিল ২০০ মিটার।
সময়ের
আলো
.png)
আপনার মতামত লিখুন