ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

টানা চতুর্থবার সুপারকোপা ফাইনালে বার্সা-রিয়াল



টানা চতুর্থবার সুপারকোপা ফাইনালে বার্সা-রিয়াল
ছবি: সংগৃহীত

গত রোববার সৌদি আরবে স্প্যানিশ সুপারকোপার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদ। চলতি মৌসুমে এটি তাদের দ্বিতীয় এল ক্লাসিকো, আর সামনে রয়েছে মৌসুমের প্রথম ঘরোয়া শিরোপা।

ফাইনালে ওঠার পথে দুই দলের যাত্রা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বার্সেলোনা বুধবার অ্যাথলেটিক ক্লাবকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কার্যত সেমিফাইনালেই শক্তির বার্তা দিয়েছে। পরদিন রিয়াল মাদ্রিদকে যেতে হয়েছে অনেক বেশি চাপের ভেতর দিয়ে, আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় এসেছে দারুণ টানটান লড়াইয়ের পর। নিয়ে টানা চতুর্থ বছর সুপারকোপার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। লা লিগা বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো টুর্নামেন্টের পাশে সুপারকোপা অগ্রাধিকার তালিকায় নিচে থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ট্রফিই মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধের ইঙ্গিত দিয়ে এসেছে। গত চার আসরের চ্যাম্পিয়ন, রিয়াল (২০২২ ২০২৪) এবং বার্সা (২০২৩ ২০২৫) পরবর্তীতে লা লিগাও জিতেছে।

গত মৌসুমে হান্সি ফ্লিকের অধীনে রিয়াল মাদ্রিদের ওপর একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়েছিল বার্সেলোনা। চার দেখায় চার জয়, সঙ্গে ঘরোয়া ট্রেবল। তবে অক্টোবরের এক ক্লাসিকোতে দৃশ্যপট বদলানোর আভাস দিয়েছিলেন নতুন কোচ জাভি আলোনসো। তার প্রথম এল ক্লাসিকোতেই ২-১ জয়ে লিগ টেবিলে পাঁচ পয়েন্টে এগিয়েছিল মাদ্রিদ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে হিসাব। রিয়াল যেখানে ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলেছে, সেখানে বার্সেলোনা সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচ জিতে লা লিগার শীর্ষে চার পয়েন্টের লিড গড়ে তুলেছে। যদিও ফ্লিক নিজেই স্বীকার করেছেন, দল এখনও সেরা ফুটবল খেলছে না। তবু অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে পাঁচ গোলের ঝড় দেখিয়েছে, ছন্দে থাকলে এই আক্রমণ কতটা ভয়ংকর হতে পারে। বার্সার এই উত্থানের পেছনে বড় কারণ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ফেরা। রাফিনহা আবারও আক্রমণে গতি আগ্রাসন এনেছেন, পেদ্রি মিডফিল্ডে ফিরিয়েছেন নিয়ন্ত্রণ, আর পেছনে জোয়ান গার্সিয়ার কিছু অবিশ্বাস্য সেভ দলকে স্বস্তি দিয়েছে। গাভি আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন ছাড়া বড় কোনো অনুপস্থিতি না থাকায় বহুদিন পর তুলনামূলক সুস্থ স্কোয়াড নিয়েই ফাইনালে নামছে কাতালানরা।

অন্যদিকে, চাপটা স্পষ্টভাবে আলোনসোর ওপর। মৌসুমের প্রথম ট্রফি হওয়ায় সুপারকোপাকে তিনি নিজেই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণবলে আখ্যা দিয়েছেন। ডিসেম্বরের শুরুতে সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে ঘরের মাঠে হার এবং পরের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে পরাজয়ের পর তার চাকরি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। টানা পাঁচ জয়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও পারফরম্যান্স এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত করতে পারেনি।

গত বছরের সুপারকোপা ফাইনালে বার্সার কাছে ৫-২ গোলের হারই কার্লো আনচেলত্তির বিদায়ের শুরু ছিল। সেই ম্যাচে যেভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যে ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছিল, তা ক্লাবের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। রোববার একই ধরনের ভরাডুবি হলে আলোনসোর অবস্থান যে আরও নড়বড়ে হবে, তা বলাই বাহুল্য।

এই টানটান সমীকরণে রিয়ালের জন্য বড় স্বস্তির খবর কিলিয়ান এমবাপ্পে। বৃহস্পতিবার রাতের সংবাদ সম্মেলনে আলোনসো জানালেন, ‘কিলিয়ান ভ্রমণ করছে। অনুভূতি ভালো, স্কোয়াডে থাকলে খেলতেও পারে।বাঁ হাঁটুর চোটে ২০২৬ সালের প্রথম দুই ম্যাচ মিস করা এমবাপ্পে খেলতে পারলে রিয়ালের আক্রমণ যে একেবারেই অন্য মাত্রা পাবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

মৌসুমে তার ২৯ গোলই প্রমাণ করে দেয় তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এল ক্লাসিকোতেও তার রেকর্ড আশাব্যঞ্জক, পাঁচ ম্যাচে ছয় গোল। গত বছরের সুপারকোপা ফাইনালে ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই গোল করে তিনি মুহূর্তের জন্য হলেও ম্যাচকে মাদ্রিদের দিকে হেলিয়ে দিয়েছিলেন।

বার্সেলোনার জন্য সুখবর, ফ্লিকের হাতে এখন বিকল্পের অভাব নেই। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে বেঞ্চ থেকেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন ফারমিন লোপেজ, দানি ওলমো রবার্ট লেভানদোভস্কি।

রিয়ালের চিন্তার জায়গাটা রক্ষণে। আতলেতিকোর বিপক্ষে শেষ ২০ মিনিটে যে ব্যাকলাইনে তারা ম্যাচ বাঁচিয়েছে, তা কাগজে-কলমে খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। চোটের কারণে আন্তোনিও রুডিগার ফাইনাল মিস করতে পারেন, মিলিতাও দীর্ঘদিনের জন্য বাইরে। ফলে রাফিনহা, ইয়ামালদের সামলাতে গিয়ে মাদ্রিদের রক্ষণ যে বড় পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

 

এমএইছ / ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদ

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬


টানা চতুর্থবার সুপারকোপা ফাইনালে বার্সা-রিয়াল

প্রকাশের তারিখ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

গত রোববার সৌদি আরবে স্প্যানিশ সুপারকোপার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদ। চলতি মৌসুমে এটি তাদের দ্বিতীয় এল ক্লাসিকো, আর সামনে রয়েছে মৌসুমের প্রথম ঘরোয়া শিরোপা।

ফাইনালে ওঠার পথে দুই দলের যাত্রা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বার্সেলোনা বুধবার অ্যাথলেটিক ক্লাবকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কার্যত সেমিফাইনালেই শক্তির বার্তা দিয়েছে। পরদিন রিয়াল মাদ্রিদকে যেতে হয়েছে অনেক বেশি চাপের ভেতর দিয়ে, আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় এসেছে দারুণ টানটান লড়াইয়ের পর। নিয়ে টানা চতুর্থ বছর সুপারকোপার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। লা লিগা বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো টুর্নামেন্টের পাশে সুপারকোপা অগ্রাধিকার তালিকায় নিচে থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ট্রফিই মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধের ইঙ্গিত দিয়ে এসেছে। গত চার আসরের চ্যাম্পিয়ন, রিয়াল (২০২২ ২০২৪) এবং বার্সা (২০২৩ ২০২৫) পরবর্তীতে লা লিগাও জিতেছে।

গত মৌসুমে হান্সি ফ্লিকের অধীনে রিয়াল মাদ্রিদের ওপর একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়েছিল বার্সেলোনা। চার দেখায় চার জয়, সঙ্গে ঘরোয়া ট্রেবল। তবে অক্টোবরের এক ক্লাসিকোতে দৃশ্যপট বদলানোর আভাস দিয়েছিলেন নতুন কোচ জাভি আলোনসো। তার প্রথম এল ক্লাসিকোতেই ২-১ জয়ে লিগ টেবিলে পাঁচ পয়েন্টে এগিয়েছিল মাদ্রিদ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে হিসাব। রিয়াল যেখানে ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলেছে, সেখানে বার্সেলোনা সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচ জিতে লা লিগার শীর্ষে চার পয়েন্টের লিড গড়ে তুলেছে। যদিও ফ্লিক নিজেই স্বীকার করেছেন, দল এখনও সেরা ফুটবল খেলছে না। তবু অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে পাঁচ গোলের ঝড় দেখিয়েছে, ছন্দে থাকলে এই আক্রমণ কতটা ভয়ংকর হতে পারে। বার্সার এই উত্থানের পেছনে বড় কারণ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ফেরা। রাফিনহা আবারও আক্রমণে গতি আগ্রাসন এনেছেন, পেদ্রি মিডফিল্ডে ফিরিয়েছেন নিয়ন্ত্রণ, আর পেছনে জোয়ান গার্সিয়ার কিছু অবিশ্বাস্য সেভ দলকে স্বস্তি দিয়েছে। গাভি আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন ছাড়া বড় কোনো অনুপস্থিতি না থাকায় বহুদিন পর তুলনামূলক সুস্থ স্কোয়াড নিয়েই ফাইনালে নামছে কাতালানরা।

অন্যদিকে, চাপটা স্পষ্টভাবে আলোনসোর ওপর। মৌসুমের প্রথম ট্রফি হওয়ায় সুপারকোপাকে তিনি নিজেই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণবলে আখ্যা দিয়েছেন। ডিসেম্বরের শুরুতে সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে ঘরের মাঠে হার এবং পরের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে পরাজয়ের পর তার চাকরি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। টানা পাঁচ জয়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও পারফরম্যান্স এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত করতে পারেনি।

গত বছরের সুপারকোপা ফাইনালে বার্সার কাছে ৫-২ গোলের হারই কার্লো আনচেলত্তির বিদায়ের শুরু ছিল। সেই ম্যাচে যেভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যে ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছিল, তা ক্লাবের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। রোববার একই ধরনের ভরাডুবি হলে আলোনসোর অবস্থান যে আরও নড়বড়ে হবে, তা বলাই বাহুল্য।

এই টানটান সমীকরণে রিয়ালের জন্য বড় স্বস্তির খবর কিলিয়ান এমবাপ্পে। বৃহস্পতিবার রাতের সংবাদ সম্মেলনে আলোনসো জানালেন, ‘কিলিয়ান ভ্রমণ করছে। অনুভূতি ভালো, স্কোয়াডে থাকলে খেলতেও পারে।বাঁ হাঁটুর চোটে ২০২৬ সালের প্রথম দুই ম্যাচ মিস করা এমবাপ্পে খেলতে পারলে রিয়ালের আক্রমণ যে একেবারেই অন্য মাত্রা পাবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

মৌসুমে তার ২৯ গোলই প্রমাণ করে দেয় তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এল ক্লাসিকোতেও তার রেকর্ড আশাব্যঞ্জক, পাঁচ ম্যাচে ছয় গোল। গত বছরের সুপারকোপা ফাইনালে ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই গোল করে তিনি মুহূর্তের জন্য হলেও ম্যাচকে মাদ্রিদের দিকে হেলিয়ে দিয়েছিলেন।

বার্সেলোনার জন্য সুখবর, ফ্লিকের হাতে এখন বিকল্পের অভাব নেই। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে বেঞ্চ থেকেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন ফারমিন লোপেজ, দানি ওলমো রবার্ট লেভানদোভস্কি।

রিয়ালের চিন্তার জায়গাটা রক্ষণে। আতলেতিকোর বিপক্ষে শেষ ২০ মিনিটে যে ব্যাকলাইনে তারা ম্যাচ বাঁচিয়েছে, তা কাগজে-কলমে খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। চোটের কারণে আন্তোনিও রুডিগার ফাইনাল মিস করতে পারেন, মিলিতাও দীর্ঘদিনের জন্য বাইরে। ফলে রাফিনহা, ইয়ামালদের সামলাতে গিয়ে মাদ্রিদের রক্ষণ যে বড় পরীক্ষায় পড়তে যাচ্ছে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

 

এমএইছ / ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত