সাত বছরের অপেক্ষা শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতেছিল পাকিস্তান। একদিন পর লাহোরে জয়ের ধারা ধরে রাখল স্বাগতিকরা।
ব্যাটিংয়ে সালমান আগা ও উসমান খানের হাফ সেঞ্চুরির ওপর ভর করে স্কোরবোর্ডে বড় রান জমা করে পাকিস্তান। দুজনের দায়িত্বশীল ও ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে দলটি শক্ত অবস্থান তৈরি করে।
সালমান আগা ও উসমান খানের হাফ সেঞ্চুরিতে স্কোরবোর্ডে বড় রান জমা করে তারা। তারপর আবরার আহমেদ ও শাদাব খানের বোলিংয়ে একশ পার করে অলআউট অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচের সমাপ্তি আসে এক স্মরণীয় মুহূর্তের মাধ্যমে।
উসমান তারিকের বলে অস্ট্রেলিয়ার শেষ ব্যাটসম্যান ম্যাথু কুনেমান
ক্যাচ দিলেন প্রথম স্লিপে, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা সালমান আগা বল মুঠোয় জমালেন
দেখেশুনে বেশ আয়েশেই। সমাপ্তির এই মুহূর্তটাই যেন পুরো ম্যাচ আর সিরিজের প্রতীকী এক
ছবি।
আজ শনিবার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৯০ রানে জিতেছে পাকিস্তান। আগে ব্যাটিং করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করে তারা। তারপর ১০৮ রানে সফরকারীদের গুটিয়ে দিয়ে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
রান তাড়ায় নামা অস্ট্রেলিয়াকে ১০৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে পাকিস্তান
পেয়েছে ৯০ রানের বড় জয়। এই জয়ে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বড় পুঁজি গড়ে দেওয়ার কাজটি করেছেন
ব্যাটসম্যান সালমান। ম্যাচের সঙ্গে পাকিস্তান জিতেছে সিরিজও। দীর্ঘ ৭ বছর পর
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানকে সিরিজ জেতালেন অধিনায়ক সালমান আগা।
এই সিরিজের প্রথম টি–টুয়েন্টিতে ২২ রানে জেতা পাকিস্তান আজ প্রথমে
ব্যাট করে তোলে ৫ উইকেটে ১৯৮। শুরুতে সাহিবজাদা ফারহানের উইকেট হারিয়ে ফেললেও সাইম
আইয়ুবকে নিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেন সালমান।
সালমান ৪০ বলে করেন ৭৬ রান। উসমানের ব্যাটে আসে ৩৬ বলে ৫৩ রান। দুজনের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে
৫০ রান যোগ হয় মাত্র ২১ বলে। সাইম ৪ চারে ১১ বলে ২৩ রান করে আউট হওয়ার পরও সালমান
ঝোড়ো ব্যাটিং চালিয়ে যান। ২৫ বলে ফিফটিও স্পর্শ করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ১৩তম
ওভারে শন অ্যাবোটের বলে ক্যাচ দিয়ে সালমান যখন ফেরেন, নামের পাশে ৪০ বলে ৭৬ রান,
৮টি চার ৪টি ছয়।
দলীয় ১২৫ রানে সালমানকে হারানোর পর পাকিস্তানকে বাকি পথে এগিয়ে দেন
উসমান খান। তাঁর ৩৬ বলে ৫৩ ও শাদাব খানের ২০ বলে ২৮ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে
দুই শর কাছাকাছি পৌঁছে যায় পাকিস্তানের রান। ৫ উইকেট হারিয়ে প্রায় দুইশ রান তোলে পাকিস্তান।
রান তাড়ায় নেমে অস্ট্রেলিয়া স্বস্তিতে ছিল না কখনোই। ট্রাভিস হেড ও
মিচেল মার্শের উদ্বোধনী জুটি ২২ রান তোলার পর দুজনই ফেরেন টানা দুই বলে।
এরপর তিনে নামা ক্যামেরন গ্রিন আর সাতে নামা ম্যাথু শর্ট ছাড়া অন্য
কেউ দশ বলও টিকতে পারেননি। গ্রিন ২০ বলে ৩৫ আর শর্ট ২৩ বলে ২৭ রান করেন।
পাকিস্তানের হয়ে দুই লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ ও শাদাব নেন ৩টি করে উইকেট, দুটি নেন
উসমান তারিক, একটি করে মোহাম্মদ নেওয়াজ ও সাইম। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে এই
প্রথম পাকিস্তানের স্পিনাররা ম্যাচে সব কটি উইকেট নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়ে যায় ১৫.৪ ওভারে ১০৮ রানে। ফলে ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে যায় পাকিস্তান। সেই সাথে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজও জিতল পাকিস্তান।
পাকিস্তান এবারের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল ২০১৮
সালের অক্টোবরে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়া সিরিজটিতে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব
দিয়েছিলেন সরফরাজ আহমেদ। মাঝে তিনটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছিল দুই দল।
বাংলাদেশ
সময় বিকেল ৫টায় শুরু হয়েছে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে লাহোরের ঐতিহ্যবাহী গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ এবং দর্শকদের মধ্যে ছিল বাড়তি উত্তেজনা। তবে ম্যাচের আগে যে বিশেষ অনুষ্ঠানের কথা ছিল, সেটি আর আয়োজন করা হয়নি।
টসের পর পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দলের নতুন জার্সি উন্মোচনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আজ পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি শুরুর কিছুক্ষণ আগেই পাকিস্তানের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ার খবর প্রকাশ পায়।
সূত্রের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে এই অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। সূত্র আরও জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র না পাওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এই বিষয়টিকেই পাকিস্তানের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিষয় : ক্রিকেট টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
.png)
বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
সাত বছরের অপেক্ষা শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতেছিল পাকিস্তান। একদিন পর লাহোরে জয়ের ধারা ধরে রাখল স্বাগতিকরা।
ব্যাটিংয়ে সালমান আগা ও উসমান খানের হাফ সেঞ্চুরির ওপর ভর করে স্কোরবোর্ডে বড় রান জমা করে পাকিস্তান। দুজনের দায়িত্বশীল ও ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ে দলটি শক্ত অবস্থান তৈরি করে।
সালমান আগা ও উসমান খানের হাফ সেঞ্চুরিতে স্কোরবোর্ডে বড় রান জমা করে তারা। তারপর আবরার আহমেদ ও শাদাব খানের বোলিংয়ে একশ পার করে অলআউট অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচের সমাপ্তি আসে এক স্মরণীয় মুহূর্তের মাধ্যমে।
উসমান তারিকের বলে অস্ট্রেলিয়ার শেষ ব্যাটসম্যান ম্যাথু কুনেমান
ক্যাচ দিলেন প্রথম স্লিপে, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা সালমান আগা বল মুঠোয় জমালেন
দেখেশুনে বেশ আয়েশেই। সমাপ্তির এই মুহূর্তটাই যেন পুরো ম্যাচ আর সিরিজের প্রতীকী এক
ছবি।
আজ শনিবার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৯০ রানে জিতেছে পাকিস্তান। আগে ব্যাটিং করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করে তারা। তারপর ১০৮ রানে সফরকারীদের গুটিয়ে দিয়ে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
রান তাড়ায় নামা অস্ট্রেলিয়াকে ১০৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে পাকিস্তান
পেয়েছে ৯০ রানের বড় জয়। এই জয়ে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বড় পুঁজি গড়ে দেওয়ার কাজটি করেছেন
ব্যাটসম্যান সালমান। ম্যাচের সঙ্গে পাকিস্তান জিতেছে সিরিজও। দীর্ঘ ৭ বছর পর
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানকে সিরিজ জেতালেন অধিনায়ক সালমান আগা।
এই সিরিজের প্রথম টি–টুয়েন্টিতে ২২ রানে জেতা পাকিস্তান আজ প্রথমে
ব্যাট করে তোলে ৫ উইকেটে ১৯৮। শুরুতে সাহিবজাদা ফারহানের উইকেট হারিয়ে ফেললেও সাইম
আইয়ুবকে নিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেন সালমান।
সালমান ৪০ বলে করেন ৭৬ রান। উসমানের ব্যাটে আসে ৩৬ বলে ৫৩ রান। দুজনের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে
৫০ রান যোগ হয় মাত্র ২১ বলে। সাইম ৪ চারে ১১ বলে ২৩ রান করে আউট হওয়ার পরও সালমান
ঝোড়ো ব্যাটিং চালিয়ে যান। ২৫ বলে ফিফটিও স্পর্শ করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। ১৩তম
ওভারে শন অ্যাবোটের বলে ক্যাচ দিয়ে সালমান যখন ফেরেন, নামের পাশে ৪০ বলে ৭৬ রান,
৮টি চার ৪টি ছয়।
দলীয় ১২৫ রানে সালমানকে হারানোর পর পাকিস্তানকে বাকি পথে এগিয়ে দেন
উসমান খান। তাঁর ৩৬ বলে ৫৩ ও শাদাব খানের ২০ বলে ২৮ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে
দুই শর কাছাকাছি পৌঁছে যায় পাকিস্তানের রান। ৫ উইকেট হারিয়ে প্রায় দুইশ রান তোলে পাকিস্তান।
রান তাড়ায় নেমে অস্ট্রেলিয়া স্বস্তিতে ছিল না কখনোই। ট্রাভিস হেড ও
মিচেল মার্শের উদ্বোধনী জুটি ২২ রান তোলার পর দুজনই ফেরেন টানা দুই বলে।
এরপর তিনে নামা ক্যামেরন গ্রিন আর সাতে নামা ম্যাথু শর্ট ছাড়া অন্য
কেউ দশ বলও টিকতে পারেননি। গ্রিন ২০ বলে ৩৫ আর শর্ট ২৩ বলে ২৭ রান করেন।
পাকিস্তানের হয়ে দুই লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ ও শাদাব নেন ৩টি করে উইকেট, দুটি নেন
উসমান তারিক, একটি করে মোহাম্মদ নেওয়াজ ও সাইম। আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে এই
প্রথম পাকিস্তানের স্পিনাররা ম্যাচে সব কটি উইকেট নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়ে যায় ১৫.৪ ওভারে ১০৮ রানে। ফলে ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে যায় পাকিস্তান। সেই সাথে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজও জিতল পাকিস্তান।
পাকিস্তান এবারের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল ২০১৮
সালের অক্টোবরে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়া সিরিজটিতে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব
দিয়েছিলেন সরফরাজ আহমেদ। মাঝে তিনটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছিল দুই দল।
বাংলাদেশ
সময় বিকেল ৫টায় শুরু হয়েছে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে লাহোরের ঐতিহ্যবাহী গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ এবং দর্শকদের মধ্যে ছিল বাড়তি উত্তেজনা। তবে ম্যাচের আগে যে বিশেষ অনুষ্ঠানের কথা ছিল, সেটি আর আয়োজন করা হয়নি।
টসের পর পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দলের নতুন জার্সি উন্মোচনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আজ পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি শুরুর কিছুক্ষণ আগেই পাকিস্তানের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ার খবর প্রকাশ পায়।
সূত্রের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে এই অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। সূত্র আরও জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র না পাওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এই বিষয়টিকেই পাকিস্তানের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন