ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

নতুন কৌশলে অর্থ প্রতারণা, সতর্ক থাকতে বিশেষ পরামর্শ



নতুন কৌশলে অর্থ প্রতারণা, সতর্ক থাকতে বিশেষ পরামর্শ
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে প্রতারকরা এক নতুন কৌশলে অর্থ প্রতারণা করছে। প্রতারকরা প্রথমে আপনার ফোনে একটি এসএমএস পাঠায়। ‘ব্যাংকের কেওয়াইসি আপডেট না করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ’, বাবিদ্যুৎ বিল বকেয়া, সংযোগ কেটে দেওয়া হবে

এসব বার্তাগুলো এতটাই বিশ্বাসযোগ্য যে সন্দেহ করার সুযোগই থাকে না। কিন্তু অজান্তেই ঠিক তখনই আপনার ফোনকে কাছাকাছি থাকা একটি ভুয়া মোবাইল টাওয়ার জোরপূর্বক টু-জি নেটওয়ার্কে নামিয়ে দিয়েছে। আর সেই সুযোগে প্রতারকরা পাঠাচ্ছে ফাঁদ পাতা মেসেজ।

প্রযুক্তির এই নতুন কৌশলে দেশজুড়ে এসএমএস প্রতারণা বাড়ছে। প্রযুক্তিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, বয়স্ক থেকে শুরু করে নিয়মিত স্মার্টফোন ব্যবহারকারী, সবারই এখন বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।

যেভাবে জাল বিছিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়

প্রতারকরা ব্যবহার করছেএসএমএস ব্লাস্টারবাআইএমএসআই ক্যাচারনামে একটি যন্ত্র। ছোট সহজে বহনযোগ্য এই ডিভাইস নিজেকে আসল মোবাইল টাওয়ার হিসেবে পরিচয় দেয়। সাধারণত ফোন আশপাশের বৈধ টাওয়ারে যুক্ত হয়। কিন্তু ব্লাস্টার চালু হলে এটি শক্তিশালী সিগন্যাল ছড়িয়ে প্রায় ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা ফোনগুলোকে নিজের নেটওয়ার্কে টেনে নেয়। ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না, কখন ফোন ফাইভজি বা ফোরজি থেকে টুজি নেটওয়ার্কে নেমে গেছে।

কেন টু-জি?

টু-জি তুলনামূলকভাবে কম সুরক্ষিত। এখানে প্রেরকের পরিচয় জাল করা সহজ। তাইএসবিআই-এসইসি’, ‘এইচডিএফসি-ব্যাংক’, ‘ইনকাম-ট্যাক্সইত্যাদি নামে পাঠানো বার্তাগুলো একেবারে অফিসিয়াল মনে হয়, ফলে অনেকেই সহজে প্রতারিত হন।

কী ধরনের বার্তা আসে?

ভুয়া টাওয়ার থেকে সাধারণত ভয় বা লোভ তৈরি করে এমন মেসেজ পাঠানো হয়, যেমন

·        কেওয়াইসি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধের সতর্কতা

·        বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের হুমকি

·        কুরিয়ার আটকে থাকার দাবি

·        রিওয়ার্ড পয়েন্ট শেষ হওয়ার নোটিশ

·        প্রতিদিন মোটা আয়ের পার্ট-টাইম কাজের প্রলোভন

একবার এসকল লিংকে ক্লিক করলেই বিপদ। ব্যাংক তথ্য, ওটিপি হাতিয়ে নিয়ে মুহূর্তে অ্যাকাউন্ট খালি করে দিতে পারে প্রতারকরা।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন দিল্লি, নয়ডা চণ্ডীগড়ে অভিযান চালিয়ে এমন একটি বড় চক্রকে গ্রেপ্তার করে, যারা প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া বার্তা পাঠাত।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সাইবারাবাদ পুলিশ ২৫ জনকে আটক করে, যারা বিদেশি চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জনবহুল এলাকায় এসএমএস ব্লাস্টার ব্যবহার করছিল। এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে টেলিকমসম্পর্কিত সাইবার প্রতারণা প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই ভারতীয়দের ক্ষতি হয়েছে ৩০ হাজার কোটি রুপির বেশি।

যেভাবে নিরাপদ থাকবেন

·        ফোনের সেটিংসে গিয়ে টু-জি কানেক্টিভিটি বন্ধ রাখুন

·        অচেনা লিংকে ক্লিক করবেন না

·        ব্যাংক বা সরকারি কাজে কেবল অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন

হঠাৎ ফোন ফাইভজি/ফোরজি থেকে টুজি-তে নেমে গেলে সতর্ক হোনএটি বড় সতর্ক সংকেত
প্রতারকরা এখন প্রযুক্তিকেই হাতিয়ার বানাচ্ছে। আপনার ফোনই তাদের লক্ষ্য। তাই সামান্য সচেতনতা ধৈর্যই পারে বড় আর্থিক ক্ষতি থেকে আপনাকে রক্ষা করতে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টিভি

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : প্রতারণা অর্থ বিশেষ পরামর্শ

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


নতুন কৌশলে অর্থ প্রতারণা, সতর্ক থাকতে বিশেষ পরামর্শ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বর্তমানে প্রতারকরা এক নতুন কৌশলে অর্থ প্রতারণা করছে। প্রতারকরা প্রথমে আপনার ফোনে একটি এসএমএস পাঠায়। ‘ব্যাংকের কেওয়াইসি আপডেট না করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ’, বাবিদ্যুৎ বিল বকেয়া, সংযোগ কেটে দেওয়া হবে

এসব বার্তাগুলো এতটাই বিশ্বাসযোগ্য যে সন্দেহ করার সুযোগই থাকে না। কিন্তু অজান্তেই ঠিক তখনই আপনার ফোনকে কাছাকাছি থাকা একটি ভুয়া মোবাইল টাওয়ার জোরপূর্বক টু-জি নেটওয়ার্কে নামিয়ে দিয়েছে। আর সেই সুযোগে প্রতারকরা পাঠাচ্ছে ফাঁদ পাতা মেসেজ।

প্রযুক্তির এই নতুন কৌশলে দেশজুড়ে এসএমএস প্রতারণা বাড়ছে। প্রযুক্তিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, বয়স্ক থেকে শুরু করে নিয়মিত স্মার্টফোন ব্যবহারকারী, সবারই এখন বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি।

যেভাবে জাল বিছিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়

প্রতারকরা ব্যবহার করছেএসএমএস ব্লাস্টারবাআইএমএসআই ক্যাচারনামে একটি যন্ত্র। ছোট সহজে বহনযোগ্য এই ডিভাইস নিজেকে আসল মোবাইল টাওয়ার হিসেবে পরিচয় দেয়। সাধারণত ফোন আশপাশের বৈধ টাওয়ারে যুক্ত হয়। কিন্তু ব্লাস্টার চালু হলে এটি শক্তিশালী সিগন্যাল ছড়িয়ে প্রায় ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা ফোনগুলোকে নিজের নেটওয়ার্কে টেনে নেয়। ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না, কখন ফোন ফাইভজি বা ফোরজি থেকে টুজি নেটওয়ার্কে নেমে গেছে।

কেন টু-জি?

টু-জি তুলনামূলকভাবে কম সুরক্ষিত। এখানে প্রেরকের পরিচয় জাল করা সহজ। তাইএসবিআই-এসইসি’, ‘এইচডিএফসি-ব্যাংক’, ‘ইনকাম-ট্যাক্সইত্যাদি নামে পাঠানো বার্তাগুলো একেবারে অফিসিয়াল মনে হয়, ফলে অনেকেই সহজে প্রতারিত হন।

কী ধরনের বার্তা আসে?

ভুয়া টাওয়ার থেকে সাধারণত ভয় বা লোভ তৈরি করে এমন মেসেজ পাঠানো হয়, যেমন

·        কেওয়াইসি বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধের সতর্কতা

·        বিদ্যুৎ বা গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের হুমকি

·        কুরিয়ার আটকে থাকার দাবি

·        রিওয়ার্ড পয়েন্ট শেষ হওয়ার নোটিশ

·        প্রতিদিন মোটা আয়ের পার্ট-টাইম কাজের প্রলোভন

একবার এসকল লিংকে ক্লিক করলেই বিপদ। ব্যাংক তথ্য, ওটিপি হাতিয়ে নিয়ে মুহূর্তে অ্যাকাউন্ট খালি করে দিতে পারে প্রতারকরা।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন দিল্লি, নয়ডা চণ্ডীগড়ে অভিযান চালিয়ে এমন একটি বড় চক্রকে গ্রেপ্তার করে, যারা প্রতিদিন লাখ লাখ ভুয়া বার্তা পাঠাত।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সাইবারাবাদ পুলিশ ২৫ জনকে আটক করে, যারা বিদেশি চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জনবহুল এলাকায় এসএমএস ব্লাস্টার ব্যবহার করছিল। এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে টেলিকমসম্পর্কিত সাইবার প্রতারণা প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। শুধু ২০২৫ সালেই ভারতীয়দের ক্ষতি হয়েছে ৩০ হাজার কোটি রুপির বেশি।

যেভাবে নিরাপদ থাকবেন

·        ফোনের সেটিংসে গিয়ে টু-জি কানেক্টিভিটি বন্ধ রাখুন

·        অচেনা লিংকে ক্লিক করবেন না

·        ব্যাংক বা সরকারি কাজে কেবল অফিসিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন

হঠাৎ ফোন ফাইভজি/ফোরজি থেকে টুজি-তে নেমে গেলে সতর্ক হোনএটি বড় সতর্ক সংকেত
প্রতারকরা এখন প্রযুক্তিকেই হাতিয়ার বানাচ্ছে। আপনার ফোনই তাদের লক্ষ্য। তাই সামান্য সচেতনতা ধৈর্যই পারে বড় আর্থিক ক্ষতি থেকে আপনাকে রক্ষা করতে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টিভি

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত