অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং জগতের
ইউটিউব তার 'মানিটাইজেশন' বা ভিডিও থেকে নির্মাতাদের অর্থ আয়ের নীতিতে নীতিতে
বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এই পরিবর্তন যেমন নতুন আয়ের
দুয়ার খুলে দিচ্ছে, তেমনি অনেক ছোট ও মাঝারি ক্রিয়েটরদের জন্য এটি নতুন দুশ্চিন্তা
তৈরি করেছে। এর ফলে অন্যদের কনটেন্ট বা আগে ব্যবহার করা ভিডিও পুনরায় ইউটিউবে ছেড়ে আর অর্থ আয় করা যাবে না বলে জানিয়েছে ইউটিউব।
গুগল মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি (ইউটিউব) মূলত প্ল্যাটফর্মের গুণগত মান বজায় রাখতে এবং বিজ্ঞাপন
দাতাদের নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ইউটিউব হতে অর্থ আয় করতে হলে বা মনিটাইজেশন পেতে
চাইলে কনটেন্ট নির্মাতার ভিডিওতে ব্যতিক্রমী বা নতুন কিছু থাকতে হবে। 'অরিজিনাল কন্টেন্ট' অর্থাৎ মৌলিকত্ব রয়েছে এমন কন্টেন্টকে উৎসাহ দিতে এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে ইউটিউব।
ইউটিউবের
নতুন নীতিমালা ঘোষণার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে যারা কন্টেন্ট তৈরি করেন তাদের মধ্যে মিশ্র এক প্রতিক্রিয়ার
সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন উন্নত ফিচারের মাধ্যমে আয়ের নতুন পথ খোলার 'আগ্রহ' কাজ
করছে, অন্যদিকে কঠোর কপিরাইট এবং অ্যালগরিদম পরিবর্তনের ফলে চ্যানেল হারানোর 'উদ্বেগ'
তৈরি হয়েছে। মূলত এখন স্থিতিশীল ক্যারিয়ার গড়ার পথে এই অনিশ্চয়তাই এখন বড়
দুশ্চিন্তা।
কপিরাইট আইন আগের থেকে
এখন অনেক
বেশি সংবেদনশীল। ছোট কোনো মিউজিক ক্লিপ বা মেমে ব্যবহার করলেও চ্যানেলের মনিটাইজেশন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এতে করে নির্মাতাদের মধ্যে এক ধরণের সৃজনশীল ভীতি কাজ করছে, যা তাদের মুক্তভাবে কাজ করার পথে অন্তরায় হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক বিশাল সংকট
তৈরি করেছে সেইসব চ্যানেল, যারা নিজস্ব কোনো সৃজনশীলতা বা শ্রম বিনিয়োগ না করেই
অন্যের তৈরি 'রেডিমেড' কন্টেন্ট ব্যবহার করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে। এই ধরণের
কপি-পেস্ট প্রবণতা শুধু যে আসল নির্মাতাদের মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন করছে তা নয়, বরং
ইউটিউবের সামগ্রিক মানকেও নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। ফলে প্রকৃত প্রতিভাবান ক্রিয়েটররা
আড়ালে পড়ে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে কন্টেন্ট ইকোসিস্টেমের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে
পারে।
আসলে নির্মাতাদের মধ্যে প্রবল আগ্রহের প্রধান কারণ হচ্ছে ইউটিউবের দীর্ঘদিন
ধরেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল যে, অরিজিনাল কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা পদক্ষেপ নেবে।
প্ল্যাটফর্মটি বারবার আশ্বস্ত করে আসছিল যে, যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সম্পূর্ণ
নিজস্ব চিন্তা-ভাবনায় ‘অরিজিনাল কন্টেন্ট’ তৈরি করেন, তাদের মেধা ও শ্রমের সঠিক
মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। নতুন এই পদক্ষেপের ফলে চুরিকৃত কপি কন্টেন্টের
দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত সৃজনশীল ব্যক্তিরা অধিকতর সুরক্ষা ও আয়ের ন্যায্য অংশ
পাবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন কমিউনিটির বড় চালিকাশক্তি।
২০২৫
সালের ১৫ই
জুলাই থেকে ইউটিউবের বহুল আলোচিত এই নতুন নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
যেসব নীতির মূল পরিবর্তন হয়েছে:
ইউটিউবের নতুন নীতিমালায় মূলত
তিনটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে। কন্টেন্টের মৌলিকত্ব, দর্শকদের সাথে সম্পৃক্ততা
(Engagement) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ব্যবহার।
১. মৌলিকত্বের কঠোর পরীক্ষা:
আগে অন্যের ভিডিও বা ক্লিপ ব্যবহার করে অনেকেই অর্থ আয় করতে পারতেন। কিন্তু এখন ইউটিউবের
অ্যালগরিদম এতটাই উন্নত করা হয়েছে যে, সামান্যতম 'রি-ইউজড কন্টেন্ট' থাকলে সেই চ্যানেল
সরাসরি ডিমনিটাইজড হয়ে যাবে।
২. এআই কন্টেন্টের লেবেলিং:
বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভিডিওর আধিক্য বাড়ছে। ইউটিউব স্পষ্ট জানিয়ে
দিয়েছে, যদি কোনো ভিডিওতে এআই-জেনারেটেড কণ্ঠ বা দৃশ্য থাকে এবং সেটি বাস্তবসম্মত মনে
হয়, তবে নির্মাতা সেটি প্রকাশ করার সময় অবশ্যই 'এআই লেবেল' ব্যবহার করতে হবে। এটি না
করলে চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩. শর্টস (Shorts) থেকে আয়ের
নতুন শর্ত: ইউটিউব শর্টস এখন আয়ের বড় একটি মাধ্যম। তবে শর্টসে মিউজিক কপিরাইট এবং
ভিউ কাউন্টিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন কিছু গাণিতিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা সরাসরি ক্রিয়েটরদের
পকেটে প্রভাব ফেলবে।
এই সকল নতুন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে নির্মাতাদের কিছু বিশেষ কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে:
নিজস্ব ব্র্যান্ডিং: অন্যের কন্টেন্ট রি-এডিট না করে নিজস্ব স্টাইল বা ব্র্যান্ডিং তৈরি করতে হবে।
কমিউনিটি ট্যাবের ব্যবহার: ভিডিওর
পাশাপাশি দর্শকদের সাথে নিয়মিত টেক্সট বা ছবির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতে হবে যাতে 'ফ্যান বেইজ' শক্ত হয়।
এআই ব্যবহারে সতর্কতা: কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করলেও তাতে নিজের সৃজনশীলতা বা ভয়েস ওভার যোগ করতে হবে যাতে সেটি যান্ত্রিক মনে না হয়।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
বিষয় : ইউটিউব মনিটাইজেশন ক্রিয়েটর
.png)
বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং জগতের
ইউটিউব তার 'মানিটাইজেশন' বা ভিডিও থেকে নির্মাতাদের অর্থ আয়ের নীতিতে নীতিতে
বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এই পরিবর্তন যেমন নতুন আয়ের
দুয়ার খুলে দিচ্ছে, তেমনি অনেক ছোট ও মাঝারি ক্রিয়েটরদের জন্য এটি নতুন দুশ্চিন্তা
তৈরি করেছে। এর ফলে অন্যদের কনটেন্ট বা আগে ব্যবহার করা ভিডিও পুনরায় ইউটিউবে ছেড়ে আর অর্থ আয় করা যাবে না বলে জানিয়েছে ইউটিউব।
গুগল মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি (ইউটিউব) মূলত প্ল্যাটফর্মের গুণগত মান বজায় রাখতে এবং বিজ্ঞাপন
দাতাদের নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ইউটিউব হতে অর্থ আয় করতে হলে বা মনিটাইজেশন পেতে
চাইলে কনটেন্ট নির্মাতার ভিডিওতে ব্যতিক্রমী বা নতুন কিছু থাকতে হবে। 'অরিজিনাল কন্টেন্ট' অর্থাৎ মৌলিকত্ব রয়েছে এমন কন্টেন্টকে উৎসাহ দিতে এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে ইউটিউব।
ইউটিউবের
নতুন নীতিমালা ঘোষণার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে যারা কন্টেন্ট তৈরি করেন তাদের মধ্যে মিশ্র এক প্রতিক্রিয়ার
সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন উন্নত ফিচারের মাধ্যমে আয়ের নতুন পথ খোলার 'আগ্রহ' কাজ
করছে, অন্যদিকে কঠোর কপিরাইট এবং অ্যালগরিদম পরিবর্তনের ফলে চ্যানেল হারানোর 'উদ্বেগ'
তৈরি হয়েছে। মূলত এখন স্থিতিশীল ক্যারিয়ার গড়ার পথে এই অনিশ্চয়তাই এখন বড়
দুশ্চিন্তা।
কপিরাইট আইন আগের থেকে
এখন অনেক
বেশি সংবেদনশীল। ছোট কোনো মিউজিক ক্লিপ বা মেমে ব্যবহার করলেও চ্যানেলের মনিটাইজেশন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এতে করে নির্মাতাদের মধ্যে এক ধরণের সৃজনশীল ভীতি কাজ করছে, যা তাদের মুক্তভাবে কাজ করার পথে অন্তরায় হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক বিশাল সংকট
তৈরি করেছে সেইসব চ্যানেল, যারা নিজস্ব কোনো সৃজনশীলতা বা শ্রম বিনিয়োগ না করেই
অন্যের তৈরি 'রেডিমেড' কন্টেন্ট ব্যবহার করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে। এই ধরণের
কপি-পেস্ট প্রবণতা শুধু যে আসল নির্মাতাদের মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন করছে তা নয়, বরং
ইউটিউবের সামগ্রিক মানকেও নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। ফলে প্রকৃত প্রতিভাবান ক্রিয়েটররা
আড়ালে পড়ে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে কন্টেন্ট ইকোসিস্টেমের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে
পারে।
আসলে নির্মাতাদের মধ্যে প্রবল আগ্রহের প্রধান কারণ হচ্ছে ইউটিউবের দীর্ঘদিন
ধরেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল যে, অরিজিনাল কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা পদক্ষেপ নেবে।
প্ল্যাটফর্মটি বারবার আশ্বস্ত করে আসছিল যে, যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সম্পূর্ণ
নিজস্ব চিন্তা-ভাবনায় ‘অরিজিনাল কন্টেন্ট’ তৈরি করেন, তাদের মেধা ও শ্রমের সঠিক
মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। নতুন এই পদক্ষেপের ফলে চুরিকৃত কপি কন্টেন্টের
দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত সৃজনশীল ব্যক্তিরা অধিকতর সুরক্ষা ও আয়ের ন্যায্য অংশ
পাবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন কমিউনিটির বড় চালিকাশক্তি।
২০২৫
সালের ১৫ই
জুলাই থেকে ইউটিউবের বহুল আলোচিত এই নতুন নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
যেসব নীতির মূল পরিবর্তন হয়েছে:
ইউটিউবের নতুন নীতিমালায় মূলত
তিনটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে। কন্টেন্টের মৌলিকত্ব, দর্শকদের সাথে সম্পৃক্ততা
(Engagement) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ব্যবহার।
১. মৌলিকত্বের কঠোর পরীক্ষা:
আগে অন্যের ভিডিও বা ক্লিপ ব্যবহার করে অনেকেই অর্থ আয় করতে পারতেন। কিন্তু এখন ইউটিউবের
অ্যালগরিদম এতটাই উন্নত করা হয়েছে যে, সামান্যতম 'রি-ইউজড কন্টেন্ট' থাকলে সেই চ্যানেল
সরাসরি ডিমনিটাইজড হয়ে যাবে।
২. এআই কন্টেন্টের লেবেলিং:
বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভিডিওর আধিক্য বাড়ছে। ইউটিউব স্পষ্ট জানিয়ে
দিয়েছে, যদি কোনো ভিডিওতে এআই-জেনারেটেড কণ্ঠ বা দৃশ্য থাকে এবং সেটি বাস্তবসম্মত মনে
হয়, তবে নির্মাতা সেটি প্রকাশ করার সময় অবশ্যই 'এআই লেবেল' ব্যবহার করতে হবে। এটি না
করলে চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩. শর্টস (Shorts) থেকে আয়ের
নতুন শর্ত: ইউটিউব শর্টস এখন আয়ের বড় একটি মাধ্যম। তবে শর্টসে মিউজিক কপিরাইট এবং
ভিউ কাউন্টিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন কিছু গাণিতিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা সরাসরি ক্রিয়েটরদের
পকেটে প্রভাব ফেলবে।
এই সকল নতুন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে নির্মাতাদের কিছু বিশেষ কৌশলী পদক্ষেপ নিতে হবে:
নিজস্ব ব্র্যান্ডিং: অন্যের কন্টেন্ট রি-এডিট না করে নিজস্ব স্টাইল বা ব্র্যান্ডিং তৈরি করতে হবে।
কমিউনিটি ট্যাবের ব্যবহার: ভিডিওর
পাশাপাশি দর্শকদের সাথে নিয়মিত টেক্সট বা ছবির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতে হবে যাতে 'ফ্যান বেইজ' শক্ত হয়।
এআই ব্যবহারে সতর্কতা: কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করলেও তাতে নিজের সৃজনশীলতা বা ভয়েস ওভার যোগ করতে হবে যাতে সেটি যান্ত্রিক মনে না হয়।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন