২০২৬ সালে এসে আমরা দেখতে পারছি যে প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। এই উদ্ভাবনী যুগে প্রথাগত ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বড় কোনো পরিবর্তনের ঝুঁকি নেওয়া এখনকার সময়ের দাবি।
বর্তমানে বিনোদনের একমাত্র প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে একটি অ্যাপ্লিকেশান যার নাম ইউটিউব। কনটেন্ট ক্রিয়েটররা কেবল বিনোদন দিচ্ছেন না, বরং তাঁরাই হয়ে উঠছেন আগামীর প্রভাবশালী ‘মিডিয়া হাউজ’। এই বদলে যাওয়া সময়ে আমাদের মূল লক্ষ্য হবে আগামীর এই ডিজিটাল বিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।
২০২৬ সালে কোন কোন বিষয়গুলো আমাদের কাছে এখন অগ্রাধিকার পাবে, আজকের এই প্রতিবেদনে চলুন জানা যাক।
বদলে যাওয়া বিনোদন
দর্শক ইউটিউবে আসেন তাদের বড় সাংস্কৃতিক মুহূর্তগুলো কাছ থেকে উপভোগ করতে। তাঁরা চান জেসার বা কে অ্যাডামসের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে সামনের সারি থেকে সুপার বোলের খেলা উপভোগ করতে; অস্কারের লালগালিচায় কী হচ্ছে, তা দেখতে; টেইলর সুইফট বা বিটিএসের অ্যালবাম প্রকাশ ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনায় ডুবে যেতে। ইউটিউবে এই সবকিছুই পাওয়া যায়।
ইউটিউবাররা এখন বিশ্বজুড়ে এক বিশাল স্টুডিও গড়ে তুলছেন, যা হলিউডের বড় প্রযোজনাকেও আজ টেক্কা দিচ্ছে। তাঁদের তৈরি কাজগুলো এখন আর কেবল সাধারণ ভিডিও নয়, বরং উচ্চমানের প্রফেশনাল ‘মাস্ট সি’ শো। জুলিয়ান শাপিরোর 'আউটসাইড টুনাইট'-এর মতো আয়োজনগুলো ডিজিটাল পর্দায় লেট-নাইট শোর নতুন সংজ্ঞা দিচ্ছে। যখন কনটেন্টের পুরো নিয়ন্ত্রণ নির্মাতার হাতে থাকে, তখন তাঁদের সৃজনশীলতা আর কোনো সীমানায় আটকে থাকে না; এটিই এখনকার আসল মিডিয়া বিপ্লব।
হাতে ধরা ছোট স্ক্রিনে (স্মার্ট ফোন) হোক কিংবা ঘরের সবচেয়ে বড় টিভি, দর্শক ইউটিউব বেছে নিচ্ছেন বর্তমানের কনটেন্টের বৈচিত্র্যের কারণে। লম্বা দৈর্ঘ্যের ভিডিও, শর্টস, মিউজিক ভিডিও, সরাসরি সম্প্রচার, পডকাস্ট—সব আছে।
ব্যক্তিগত পছন্দ থেকে শুরু করে বৈশ্বিক ট্রেন্ড এখন সবকিছুরই সহজ সমাধান হচ্ছে ইউটিউব শর্টস। প্রতিদিন গড়ে ২০০ বিলিয়ন অর্থাৎ ২০ হাজার কোটি ভিউ প্রমাণ করে দেয় যে দর্শকরা এখন ছোট ফরম্যাটের কনটেন্টের প্রতি কতটা আগ্রহ। এ বছর আমরা শর্টসে বড় ধরনের বৈচিত্র্য আনছি। শুধু ভিডিও নয়, ছবিসহ বিভিন্ন নতুন ফরম্যাট সরাসরি ফিডে যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে করে নির্মাতা ও দর্শকদের মধ্যকার সম্পর্ক আরও নিবিড় ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়ে ওঠে।
আমরা গানেও বিনিয়োগ করছি। নতুন প্রিয় শিল্পী খুঁজে পাওয়া, গানগুলোর পেছনের গল্প জানা, নতুন মুক্তি পাওয়া গান আবিষ্কার কিংবা উপভোগ, সবকিছুকেই আরও সহজ করে তুলছি। খুব শিগগিরই আমরা বিশেষায়িত ‘মাল্টিভিউ’ চালু করব। ইউটিউবে খেলাধুলা, বিনোদন ও খবর—এই তিন বিভাগে ১০টির বেশি বিশেষায়িত টিভি প্ল্যান আসবে। সাবস্ক্রাইবারদের হাতে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতেই এসব প্রচেষ্টা।
শিশু-কিশোরদের জন্য উপযোগী
শ্রেণীকক্ষ থেকে বাস্তব জীবন বর্তমানে শিশু-কিশোরদের জন্য ইউটিউব এখন জ্ঞান অর্জনের প্রধান মাধ্যম। ২০২৫ সালের অক্সফোর্ড ইকোনমিকস জরিপ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সিংহভাগ তরুণ নতুন দক্ষতা শিখতে এবং শিক্ষকরা পাঠদানকে সহজ করতে ইউটিউবকে বেছে নিচ্ছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো, ইউটিউবকে বিশ্বস্ত এক শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় মা-বাবার নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করাকেই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে কিশোর-কিশোরীরা নিরাপদ পরিবেশে শিখতে পারে।
বাবা-মা যেন তাঁদের সন্তানদের জন্য আরও সহজে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, অ্যাকাউন্ট বদল করতে পারেন, সেসব উদ্যোগ আমরা চলতি বছরেই নেব। সন্তান শর্টস স্ক্রল করার পেছনে কতটুকু সময় ব্যয় করতে পারবে, খুব শিগগির মা-বাবারা সেটিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
প্ল্যাটফর্মে আয়ের পথটা সবচেয়ে স্থিতিশীল
ইউটিউবের আয়ের স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নির্মাতাদের কাছে একে অনন্য করে তুলেছে। গত চার বছরে প্ল্যাটফর্মটি নির্মাতা ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পরিশোধ করেছে। গত বছর ২০২৪ সালেই যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিতে এর অবদান ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, প্রতিটি সৃজনশীল ধারণাকে আয়ের উৎসে রূপান্তর করা এবং দর্শকদের আস্থার সুযোগ নিয়ে ইউটিউবকে কেনাকাটারও একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা।
বিনীত মালহোত্রার মতো নির্মাতারা ২০২৫ সালে ইউটিউব শপিংয়ের মাধ্যমে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছেন। এখন ইউটিউব শপিংয়ে যুক্ত আছেন পাঁচ লাখের বেশি নির্মাতা। তাই ঝামেলাহীন কেনাকাটার ওপর এখন আমরা আরও বেশি জোর দিচ্ছি।
খুব শিগগির আরও নানা সুবিধা আসবে। যেমন কোনো নির্মাতা, ধরা যাক ক্রিস্টেন ডোমিনিক একটা পণ্যের ব্যাপারে সুপারিশ করলেন, আপনি ইউটিউব অ্যাপ ছাড়াও সেটি কিনে ফেলতে পারবেন।
ব্র্যান্ড এবং নির্মাতাদের মধ্যে সেতুবন্ধন আরও মজবুত করতে আমরা নিয়ে আসছি ‘ক্রিয়েটর পার্টনারশিপ হাব’। এর মাধ্যমে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এজেন্সিগুলো সহজেই সঠিক নির্মাতা খুঁজে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে পারবে।
নির্মাতাদের জন্য আমরা যোগ করছি আধুনিক কিছু টুল। এখন থেকে শর্টসে সরাসরি ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইট লিংক যুক্ত করা যাবে। এমনকি কোনো চুক্তি শেষ হয়ে গেলে ভিডিওর নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডেড অংশটি পরিবর্তন করার সুবিধাও থাকছে, যা পুরোনো কনটেন্ট থেকে পুনরায় আয়ের পথ খুলে দেবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী ‘ক্রিয়েটর ইকোনমি’ গড়ে তোলা, যেখানে সৃজনশীলতা আর ব্যবসায়িক সাফল্য হাত ধরাধরি করে চলবে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের এই সমন্বয় নির্মাতাদের পেশাদার জীবনকে আরও গতিশীল ও লাভজনক করে তুলবে।
সৃজনশীলতাকে শক্তিশালী করা ও নিরাপদ রাখা
দীর্ঘ বহু বছর ধরেই এআই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনের নীরব চালিকাশক্তি। পরের কোন ভিডিওটা দেখবেন, সেই পরামর্শ দেওয়া থেকে শুরু করে নীতিমালা ভঙ্গ করা কনটেন্ট সরিয়ে রাখা—সবখানেই এআই সক্রিয়।
এক সময় ছিল যখন সিন্থেসাইজার, ফটোশপ বা সিজিআই যেমন শব্দ আর ছবির দুনিয়া বদলে দিয়েছিল, এআইও তেমনই বড় সুযোগ। এই সুযোগ সেই সব সৃজনশীল মানুষের জন্য, যাঁরা এটাকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত। গত ডিসেম্বরেই প্রতিদিন ১০ লাখের বেশি চ্যানেল আমাদের এআই ক্রিয়েশন টুল ব্যবহার করেছে।
এ বছর আপনি নিজের চেহারা ব্যবহার করে শর্টস বানাতে পারবেন, স্রেফ লিখে লিখেই গেম তৈরি করতে পারবেন, কিংবা নতুনভাবে গান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবেন। একটি বিষয় স্পষ্ট—এই পুরো যাত্রায় এআই হয়ে থাকবে সৃজনশীলতার হাতিয়ার, মানুষের বিকল্প নয়।
দিন দিন বোঝা কঠিন হয়ে যাচ্ছে—কোনটা বাস্তব, আর কোনটা এআই দিয়ে তৈরি। ডিপফেকের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। ইউটিউবের এআই টুল দিয়ে তৈরি কনটেন্ট আমরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দিই। নির্মাতাদের জন্যও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
এআইয়ের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নিম্নমানের কনটেন্ট (যাকে অনেকে ‘এআই স্লপ’ বলেন) নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আমরা নানা ধরনের মতপ্রকাশের সুযোগ দিই। তবে ইউটিউবে সময় কাটিয়ে মানুষ যেন ভালো বোধ করে, এটা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।
গত ২০ বছরে আমরা শিখেছি, ক্রিয়েটর ইকোসিস্টেমে আগে থেকেই কোনো ধারণা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এএসএমআর (ভিডিওতে এমন শব্দের ব্যবহার, যা মস্তিষ্ককে আরাম দেয়) বা অন্যকে গেম খেলতে দেখার ভিডিও একসময় অদ্ভুত মনে হতো। এখন কিন্তু এসবও হয়ে উঠেছে মূল ধারার বিনোদন।
ভবিষ্যতের প্রভাবশালীদের নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন আমার উত্তরটা সবসময় খুব সহজ। আগামী ৫ বা ১০ বছর পর ইউটিউবের শ্রেষ্ঠ ক্রিয়েটর হিসেবে আমরা যাঁকে দেখব, তিনি হয়তো এমন কেউ যাঁর নাম আমরা আজ কল্পনাও করছি না। হতে পারে, অনাগত সেই ক্রিয়েটর আজই কোনো এক নতুন আইডিয়া নিয়ে নিজের যাত্রা শুরু করছেন। আমাদের কাজ হলো সেই সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করা।
ইংরেজি থেকে অনূদিত করা হয়েছে
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
বিষয় : ভবিষ্যত ইউটিউব ডিজিটাল মিডিয়া
.png)
বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৬ সালে এসে আমরা দেখতে পারছি যে প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতা মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। এই উদ্ভাবনী যুগে প্রথাগত ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বড় কোনো পরিবর্তনের ঝুঁকি নেওয়া এখনকার সময়ের দাবি।
বর্তমানে বিনোদনের একমাত্র প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে একটি অ্যাপ্লিকেশান যার নাম ইউটিউব। কনটেন্ট ক্রিয়েটররা কেবল বিনোদন দিচ্ছেন না, বরং তাঁরাই হয়ে উঠছেন আগামীর প্রভাবশালী ‘মিডিয়া হাউজ’। এই বদলে যাওয়া সময়ে আমাদের মূল লক্ষ্য হবে আগামীর এই ডিজিটাল বিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া।
২০২৬ সালে কোন কোন বিষয়গুলো আমাদের কাছে এখন অগ্রাধিকার পাবে, আজকের এই প্রতিবেদনে চলুন জানা যাক।
বদলে যাওয়া বিনোদন
দর্শক ইউটিউবে আসেন তাদের বড় সাংস্কৃতিক মুহূর্তগুলো কাছ থেকে উপভোগ করতে। তাঁরা চান জেসার বা কে অ্যাডামসের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে সামনের সারি থেকে সুপার বোলের খেলা উপভোগ করতে; অস্কারের লালগালিচায় কী হচ্ছে, তা দেখতে; টেইলর সুইফট বা বিটিএসের অ্যালবাম প্রকাশ ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনায় ডুবে যেতে। ইউটিউবে এই সবকিছুই পাওয়া যায়।
ইউটিউবাররা এখন বিশ্বজুড়ে এক বিশাল স্টুডিও গড়ে তুলছেন, যা হলিউডের বড় প্রযোজনাকেও আজ টেক্কা দিচ্ছে। তাঁদের তৈরি কাজগুলো এখন আর কেবল সাধারণ ভিডিও নয়, বরং উচ্চমানের প্রফেশনাল ‘মাস্ট সি’ শো। জুলিয়ান শাপিরোর 'আউটসাইড টুনাইট'-এর মতো আয়োজনগুলো ডিজিটাল পর্দায় লেট-নাইট শোর নতুন সংজ্ঞা দিচ্ছে। যখন কনটেন্টের পুরো নিয়ন্ত্রণ নির্মাতার হাতে থাকে, তখন তাঁদের সৃজনশীলতা আর কোনো সীমানায় আটকে থাকে না; এটিই এখনকার আসল মিডিয়া বিপ্লব।
হাতে ধরা ছোট স্ক্রিনে (স্মার্ট ফোন) হোক কিংবা ঘরের সবচেয়ে বড় টিভি, দর্শক ইউটিউব বেছে নিচ্ছেন বর্তমানের কনটেন্টের বৈচিত্র্যের কারণে। লম্বা দৈর্ঘ্যের ভিডিও, শর্টস, মিউজিক ভিডিও, সরাসরি সম্প্রচার, পডকাস্ট—সব আছে।
ব্যক্তিগত পছন্দ থেকে শুরু করে বৈশ্বিক ট্রেন্ড এখন সবকিছুরই সহজ সমাধান হচ্ছে ইউটিউব শর্টস। প্রতিদিন গড়ে ২০০ বিলিয়ন অর্থাৎ ২০ হাজার কোটি ভিউ প্রমাণ করে দেয় যে দর্শকরা এখন ছোট ফরম্যাটের কনটেন্টের প্রতি কতটা আগ্রহ। এ বছর আমরা শর্টসে বড় ধরনের বৈচিত্র্য আনছি। শুধু ভিডিও নয়, ছবিসহ বিভিন্ন নতুন ফরম্যাট সরাসরি ফিডে যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে করে নির্মাতা ও দর্শকদের মধ্যকার সম্পর্ক আরও নিবিড় ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়ে ওঠে।
আমরা গানেও বিনিয়োগ করছি। নতুন প্রিয় শিল্পী খুঁজে পাওয়া, গানগুলোর পেছনের গল্প জানা, নতুন মুক্তি পাওয়া গান আবিষ্কার কিংবা উপভোগ, সবকিছুকেই আরও সহজ করে তুলছি। খুব শিগগিরই আমরা বিশেষায়িত ‘মাল্টিভিউ’ চালু করব। ইউটিউবে খেলাধুলা, বিনোদন ও খবর—এই তিন বিভাগে ১০টির বেশি বিশেষায়িত টিভি প্ল্যান আসবে। সাবস্ক্রাইবারদের হাতে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতেই এসব প্রচেষ্টা।
শিশু-কিশোরদের জন্য উপযোগী
শ্রেণীকক্ষ থেকে বাস্তব জীবন বর্তমানে শিশু-কিশোরদের জন্য ইউটিউব এখন জ্ঞান অর্জনের প্রধান মাধ্যম। ২০২৫ সালের অক্সফোর্ড ইকোনমিকস জরিপ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সিংহভাগ তরুণ নতুন দক্ষতা শিখতে এবং শিক্ষকরা পাঠদানকে সহজ করতে ইউটিউবকে বেছে নিচ্ছেন। আমাদের লক্ষ্য হলো, ইউটিউবকে বিশ্বস্ত এক শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় মা-বাবার নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করাকেই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে কিশোর-কিশোরীরা নিরাপদ পরিবেশে শিখতে পারে।
বাবা-মা যেন তাঁদের সন্তানদের জন্য আরও সহজে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, অ্যাকাউন্ট বদল করতে পারেন, সেসব উদ্যোগ আমরা চলতি বছরেই নেব। সন্তান শর্টস স্ক্রল করার পেছনে কতটুকু সময় ব্যয় করতে পারবে, খুব শিগগির মা-বাবারা সেটিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
প্ল্যাটফর্মে আয়ের পথটা সবচেয়ে স্থিতিশীল
ইউটিউবের আয়ের স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নির্মাতাদের কাছে একে অনন্য করে তুলেছে। গত চার বছরে প্ল্যাটফর্মটি নির্মাতা ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পরিশোধ করেছে। গত বছর ২০২৪ সালেই যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিতে এর অবদান ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, প্রতিটি সৃজনশীল ধারণাকে আয়ের উৎসে রূপান্তর করা এবং দর্শকদের আস্থার সুযোগ নিয়ে ইউটিউবকে কেনাকাটারও একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা।
বিনীত মালহোত্রার মতো নির্মাতারা ২০২৫ সালে ইউটিউব শপিংয়ের মাধ্যমে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছেন। এখন ইউটিউব শপিংয়ে যুক্ত আছেন পাঁচ লাখের বেশি নির্মাতা। তাই ঝামেলাহীন কেনাকাটার ওপর এখন আমরা আরও বেশি জোর দিচ্ছি।
খুব শিগগির আরও নানা সুবিধা আসবে। যেমন কোনো নির্মাতা, ধরা যাক ক্রিস্টেন ডোমিনিক একটা পণ্যের ব্যাপারে সুপারিশ করলেন, আপনি ইউটিউব অ্যাপ ছাড়াও সেটি কিনে ফেলতে পারবেন।
ব্র্যান্ড এবং নির্মাতাদের মধ্যে সেতুবন্ধন আরও মজবুত করতে আমরা নিয়ে আসছি ‘ক্রিয়েটর পার্টনারশিপ হাব’। এর মাধ্যমে ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং এজেন্সিগুলো সহজেই সঠিক নির্মাতা খুঁজে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে পারবে।
নির্মাতাদের জন্য আমরা যোগ করছি আধুনিক কিছু টুল। এখন থেকে শর্টসে সরাসরি ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইট লিংক যুক্ত করা যাবে। এমনকি কোনো চুক্তি শেষ হয়ে গেলে ভিডিওর নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডেড অংশটি পরিবর্তন করার সুবিধাও থাকছে, যা পুরোনো কনটেন্ট থেকে পুনরায় আয়ের পথ খুলে দেবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী ‘ক্রিয়েটর ইকোনমি’ গড়ে তোলা, যেখানে সৃজনশীলতা আর ব্যবসায়িক সাফল্য হাত ধরাধরি করে চলবে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের এই সমন্বয় নির্মাতাদের পেশাদার জীবনকে আরও গতিশীল ও লাভজনক করে তুলবে।
সৃজনশীলতাকে শক্তিশালী করা ও নিরাপদ রাখা
দীর্ঘ বহু বছর ধরেই এআই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনের নীরব চালিকাশক্তি। পরের কোন ভিডিওটা দেখবেন, সেই পরামর্শ দেওয়া থেকে শুরু করে নীতিমালা ভঙ্গ করা কনটেন্ট সরিয়ে রাখা—সবখানেই এআই সক্রিয়।
এক সময় ছিল যখন সিন্থেসাইজার, ফটোশপ বা সিজিআই যেমন শব্দ আর ছবির দুনিয়া বদলে দিয়েছিল, এআইও তেমনই বড় সুযোগ। এই সুযোগ সেই সব সৃজনশীল মানুষের জন্য, যাঁরা এটাকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত। গত ডিসেম্বরেই প্রতিদিন ১০ লাখের বেশি চ্যানেল আমাদের এআই ক্রিয়েশন টুল ব্যবহার করেছে।
এ বছর আপনি নিজের চেহারা ব্যবহার করে শর্টস বানাতে পারবেন, স্রেফ লিখে লিখেই গেম তৈরি করতে পারবেন, কিংবা নতুনভাবে গান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবেন। একটি বিষয় স্পষ্ট—এই পুরো যাত্রায় এআই হয়ে থাকবে সৃজনশীলতার হাতিয়ার, মানুষের বিকল্প নয়।
দিন দিন বোঝা কঠিন হয়ে যাচ্ছে—কোনটা বাস্তব, আর কোনটা এআই দিয়ে তৈরি। ডিপফেকের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। ইউটিউবের এআই টুল দিয়ে তৈরি কনটেন্ট আমরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দিই। নির্মাতাদের জন্যও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
এআইয়ের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নিম্নমানের কনটেন্ট (যাকে অনেকে ‘এআই স্লপ’ বলেন) নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আমরা নানা ধরনের মতপ্রকাশের সুযোগ দিই। তবে ইউটিউবে সময় কাটিয়ে মানুষ যেন ভালো বোধ করে, এটা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।
গত ২০ বছরে আমরা শিখেছি, ক্রিয়েটর ইকোসিস্টেমে আগে থেকেই কোনো ধারণা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এএসএমআর (ভিডিওতে এমন শব্দের ব্যবহার, যা মস্তিষ্ককে আরাম দেয়) বা অন্যকে গেম খেলতে দেখার ভিডিও একসময় অদ্ভুত মনে হতো। এখন কিন্তু এসবও হয়ে উঠেছে মূল ধারার বিনোদন।
ভবিষ্যতের প্রভাবশালীদের নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন আমার উত্তরটা সবসময় খুব সহজ। আগামী ৫ বা ১০ বছর পর ইউটিউবের শ্রেষ্ঠ ক্রিয়েটর হিসেবে আমরা যাঁকে দেখব, তিনি হয়তো এমন কেউ যাঁর নাম আমরা আজ কল্পনাও করছি না। হতে পারে, অনাগত সেই ক্রিয়েটর আজই কোনো এক নতুন আইডিয়া নিয়ে নিজের যাত্রা শুরু করছেন। আমাদের কাজ হলো সেই সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করা।
ইংরেজি থেকে অনূদিত করা হয়েছে
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন