ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

আগামী ২০ জানুয়ারি শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড চাওয়া আপিলের শুনানি



আগামী ২০ জানুয়ারি শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড চাওয়া আপিলের শুনানি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একটি অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেই সাজার বিরুদ্ধে চিফ প্রসিকিউটর যে আপিল করেছেন, সেই আপিলে আগামী ২০ জানুয়ারি শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আবেদনে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এই আদেশ দেন। চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের এক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের তথ্য জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। পরে নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফও করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

গত বছর ১৪ জুলাই থেকে আগস্ট সময়ের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট পাঁচ অভিযোগেআনুষ্ঠানিক অভিযোগগঠন করে বিচার চলে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির। গত ১৭ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল জানান, অভিযোগ পুনর্বিন্যাস (রিফ্রেম) করা হয়েছে। অর্থাৎ পাঁচটি অভিযোগকে একীভূত করে দুটি অভিযোগ করা হয়েছে।

রায়ে প্রথম অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। আর দ্বিতীয় অভিযোগে শেখ হাসিনা কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই অভিযোগে মামলার অন্য আসামি এবং রাজসাক্ষী সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দেওয়া হয় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১ () ধারায় বলা আছে, ‘খালাস বা যেকোনো দণ্ডের তারিখ থেকে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে এবং ওই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো আপিল দায়ের করা যাবে না।আর ২১ নম্বর ধারার উপধারায় বলা আছে, ‘আপিল করার তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।

আইনের বিধান মেনে গত ১৫ ডিসেম্বর দ্বিতীয় অভিযোগে শেখ হাসিনা আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সেই আপিলটি শুনানি করে নিষ্পত্তি করার জন্য আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়। শুনানির পর আগামী ২০ জানুয়ারি আপিল শুনানির তারিখ দেন চেম্বার বিচারপতি।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে আপিলটি ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এক মাস হয়েছে আপিল দায়ের করেছি। আর ৩০ দিনের মধ্যে আপিলটি নিষ্পত্তি করতে হবে আইনগতভাবে। যে কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির কাছ আমরা আবেদন করেছিলাম, এই আপিলটি যাতে বিশেষ ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়। আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ২০ জানুয়ারি এই আপিলটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আসবে।

এক প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল তাদের আমৃত্যু সাজা দিয়েছেন, আমরা মনে করছি এই সাজা অপর্যাপ্ত হয়েছে। এই অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডই তাদের উপযুক্ত সাজা।

 

এনএন/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : শেখ হাসিনা আপিল মৃত্যুদণ্ড ২০ জানুয়ারি

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬


আগামী ২০ জানুয়ারি শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড চাওয়া আপিলের শুনানি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একটি অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেই সাজার বিরুদ্ধে চিফ প্রসিকিউটর যে আপিল করেছেন, সেই আপিলে আগামী ২০ জানুয়ারি শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আবেদনে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এই আদেশ দেন। চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের এক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের তথ্য জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। পরে নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফও করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

গত বছর ১৪ জুলাই থেকে আগস্ট সময়ের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট পাঁচ অভিযোগেআনুষ্ঠানিক অভিযোগগঠন করে বিচার চলে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির। গত ১৭ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল জানান, অভিযোগ পুনর্বিন্যাস (রিফ্রেম) করা হয়েছে। অর্থাৎ পাঁচটি অভিযোগকে একীভূত করে দুটি অভিযোগ করা হয়েছে।

রায়ে প্রথম অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দোষী সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। আর দ্বিতীয় অভিযোগে শেখ হাসিনা কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই অভিযোগে মামলার অন্য আসামি এবং রাজসাক্ষী সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দেওয়া হয় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১ () ধারায় বলা আছে, ‘খালাস বা যেকোনো দণ্ডের তারিখ থেকে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে এবং ওই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো আপিল দায়ের করা যাবে না।আর ২১ নম্বর ধারার উপধারায় বলা আছে, ‘আপিল করার তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।

আইনের বিধান মেনে গত ১৫ ডিসেম্বর দ্বিতীয় অভিযোগে শেখ হাসিনা আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সেই আপিলটি শুনানি করে নিষ্পত্তি করার জন্য আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়। শুনানির পর আগামী ২০ জানুয়ারি আপিল শুনানির তারিখ দেন চেম্বার বিচারপতি।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে আপিলটি ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এক মাস হয়েছে আপিল দায়ের করেছি। আর ৩০ দিনের মধ্যে আপিলটি নিষ্পত্তি করতে হবে আইনগতভাবে। যে কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির কাছ আমরা আবেদন করেছিলাম, এই আপিলটি যাতে বিশেষ ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়। আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ২০ জানুয়ারি এই আপিলটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আসবে।

এক প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল তাদের আমৃত্যু সাজা দিয়েছেন, আমরা মনে করছি এই সাজা অপর্যাপ্ত হয়েছে। এই অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডই তাদের উপযুক্ত সাজা।

 

এনএন/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত