রাজশাহীর বাঘা ও পুঠিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলশিক্ষক ও এক উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে রাজশাহীর বাঘা উপজেলায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চণ্ডিপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ (৫৭)। তিনি বাঘা পৌরসভার বানিয়াপাড়া গ্রামের আবদুল গনির ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল থেকে মোটরসাইকেলে চণ্ডিপুর গ্রামে গরুর চিকিৎসা দিতে যান আবদুর রশিদ। সেখান থেকে ফেরার পথে তাঁর সামনে থাকা একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের পেছনের চাকা খুলে গেলে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোভ্যানে ধাক্কা লাগে। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, অফিসকে অবগত করেই তিনি গরুর চিকিৎসায় গিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর পুঠিয়া সদরের ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন স্কুলশিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক (৫০)। তিনি উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে এবং সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় রাজশাহীর দিক থেকে আসা পাথরবোঝাই একটি ড্রাম ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর ট্রাকটি তাঁকে কিছুদূর টেনে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি বেতন ছাড়াই শিক্ষকতা করে আসছিলেন। সম্প্রতি তাঁর বেতনের অনুমোদন হয়।
পবা হাইওয়ে থানার ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে সেটি শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় দুজন দায়িত্বশীল পেশাজীবীর মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
.png)
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজশাহীর বাঘা ও পুঠিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলশিক্ষক ও এক উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে রাজশাহীর বাঘা উপজেলায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চণ্ডিপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন উপজেলা উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ (৫৭)। তিনি বাঘা পৌরসভার বানিয়াপাড়া গ্রামের আবদুল গনির ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল থেকে মোটরসাইকেলে চণ্ডিপুর গ্রামে গরুর চিকিৎসা দিতে যান আবদুর রশিদ। সেখান থেকে ফেরার পথে তাঁর সামনে থাকা একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের পেছনের চাকা খুলে গেলে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোভ্যানে ধাক্কা লাগে। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, অফিসকে অবগত করেই তিনি গরুর চিকিৎসায় গিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর পুঠিয়া সদরের ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন স্কুলশিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক (৫০)। তিনি উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে এবং সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় রাজশাহীর দিক থেকে আসা পাথরবোঝাই একটি ড্রাম ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার পর ট্রাকটি তাঁকে কিছুদূর টেনে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি বেতন ছাড়াই শিক্ষকতা করে আসছিলেন। সম্প্রতি তাঁর বেতনের অনুমোদন হয়।
পবা হাইওয়ে থানার ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে সেটি শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় দুজন দায়িত্বশীল পেশাজীবীর মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন