ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

যশোরে আফিল ব্রিকসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ধ্বংসস্তূপের মাঝে আহত ৩



যশোরে আফিল ব্রিকসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ধ্বংসস্তূপের মাঝে আহত ৩
ছবি: সংগৃহীত

আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেল সব। চোখের পলকে রূপ নিল ধ্বংসস্তূপে। যশোর সদরের হাটবিলা-জামতলা এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান আফিল গ্রুপের ‘আফিল ব্রিকস-এ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনের তীব্রতা আর শ্রমিকদের আর্তনাদে ওই এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

রমজানের ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে, যখন সবাই ইফতারের অপেক্ষায় ঠিক তখনই ছন্দপতন। কারখানার ২ নম্বর শেডে হঠাৎ আগুনের ফুলকি দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন দানবীয় রূপ ধারণ করে পুরো শেডে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের শিখা এতোটাই উঁচুতে উঠেছিল যে দূর-দূরান্ত থেকেও তা দৃশ্যমান ছিল। প্রাণভয়ে শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন।

খবর পেয়ে একে একে যশোর সদর, বাঘারপাড়া, নওয়াপাড়া ও মনিরামপুর স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দুই ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করেন। এতে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী এবং কারখানার এক শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা নিয়ে যশোর জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইফতারের আগ মুহূর্তে আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।

আফিল গ্রুপের ম্যানেজার আশরাফুল হক জানান, "শেডে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। চোখের সামনে এভাবে সম্পদ ছাই হতে দেখা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।"

আফিল গ্রুপের পরিচালক মাহাবুব আলম লাবলু অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে জানান, অগ্নিকাণ্ডে শুধু শেড নয়, প্রতিষ্ঠানের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কন্ট্রোল রুম এবং প্রোডাকশন রুমও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা বড় এক চ্যালেঞ্জ।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হলেও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরেই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও আর্থিক ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : যশোর আফিল ব্রিকস ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


যশোরে আফিল ব্রিকসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ধ্বংসস্তূপের মাঝে আহত ৩

প্রকাশের তারিখ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেল সব। চোখের পলকে রূপ নিল ধ্বংসস্তূপে। যশোর সদরের হাটবিলা-জামতলা এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান আফিল গ্রুপের ‘আফিল ব্রিকস-এ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনের তীব্রতা আর শ্রমিকদের আর্তনাদে ওই এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

রমজানের ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে, যখন সবাই ইফতারের অপেক্ষায় ঠিক তখনই ছন্দপতন। কারখানার ২ নম্বর শেডে হঠাৎ আগুনের ফুলকি দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন দানবীয় রূপ ধারণ করে পুরো শেডে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের শিখা এতোটাই উঁচুতে উঠেছিল যে দূর-দূরান্ত থেকেও তা দৃশ্যমান ছিল। প্রাণভয়ে শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন।

খবর পেয়ে একে একে যশোর সদর, বাঘারপাড়া, নওয়াপাড়া ও মনিরামপুর স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দুই ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করেন। এতে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী এবং কারখানার এক শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা নিয়ে যশোর জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইফতারের আগ মুহূর্তে আগুনের সূত্রপাত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।

আফিল গ্রুপের ম্যানেজার আশরাফুল হক জানান, "শেডে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। চোখের সামনে এভাবে সম্পদ ছাই হতে দেখা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।"

আফিল গ্রুপের পরিচালক মাহাবুব আলম লাবলু অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে জানান, অগ্নিকাণ্ডে শুধু শেড নয়, প্রতিষ্ঠানের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কন্ট্রোল রুম এবং প্রোডাকশন রুমও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা বড় এক চ্যালেঞ্জ।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হলেও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরেই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও আর্থিক ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত