ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

দেশের স্বার্থে চুক্তি সম্পন্ন হবে : নৌ উপদেষ্টা



দেশের স্বার্থে চুক্তি সম্পন্ন হবে : নৌ উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের মুখে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) . এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘দেশের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করেই এই চুক্তি সম্পন্ন করা হবে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দমনে সরকার আপসহীন থাকবে’।

আজ বৃহস্পতিবার ( ফেব্রুয়ারি) সকালে নৌপরিবহন উপদেষ্টা চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করার পরপরই বন্দর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাঁর বন্দরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।

সকাল পৌনে ১১টার দিকে উপদেষ্টার গাড়ি বহর বন্দর ভবনের প্রবেশমুখে পৌঁছালে কয়েকশ আন্দোলনকারী সেটিকে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। সময় বিক্ষোভকারীরা উপদেষ্টার আগমন ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর সাথে চুক্তির বিরোধিতায় উত্তাল স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উপদেষ্টার যাত্রাপথ সুগম করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে বেশ বেগ পেতে হয়।

নৌ উপদেষ্টার গাড়ি বহর প্রায় ১৫ মিনিট বন্দর চত্বরে অবরুদ্ধ হয়ে থাকে। একপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনী পুলিশের কঠোর বেষ্টনী পার হয়ে তিনি বন্দর ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে উপদেষ্টা গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি হন এবং তাদের কথা শোনেন।

সেখানে উপস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ তোলেন যে, বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান বিগত দেড় বছরে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর বিভিন্নভাবে হয়রানি দমন-পীড়ন চালিয়েছেন। উপদেষ্টার সাথে শ্রমিক নেতাদের এই কথোপকথনের সময় পুরো এলাকা স্লোগানে প্রকম্পিত ছিল।

শ্রমিকরা অবিলম্বে চেয়ারম্যানের অপসারণ এবং এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবি জানান। এর জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আপনাদের সাথে ওয়ান-টু-ওয়ান কথা বলব। আপনাদের কথা শোনা হবে, তবে আপনাদেরও আমার কথা শুনতে হবে’।

এরপরে উপদেষ্টার আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা শান্ত হন এবং তিনি বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন।

বৈঠক শেষে নৌপরিবহন উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে জানান, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে বিদেশি বিনিয়োগ চুক্তি প্রয়োজনীয়। তিনি ইঙ্গিত দেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী চুক্তি সম্পন্ন হবে এবং এক্ষেত্রে কোনো ধরনের নাশকতা বা অহেতুক বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। সরকার বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে চলমান অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি আগামীকাল শুক্রবার শনিবার স্থগিত করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

নৌপরিবহন উপদেষ্টার সাথে আলোচনার পর দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে আপাতত দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মূল দাবিবর্তমান চেয়ারম্যানের অপসারণ এবং এনসিটি ইজারা বাতিল করা না হলে, ফের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামসহ লাগাতার কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে জানান, উপদেষ্টার আশ্বাসে তারা সম্মান দেখিয়ে আগামী শুক্রবার শনিবারের আন্দোলন স্থগিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রশাসনকে দুই দিন সময় দিয়েছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ না হয়, তবে পুনরায় কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।

গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। দেশের মোট রপ্তানির ৯১ শতাংশ এই বন্দর দিয়ে হয়, যা এখন বন্ধ। বহির্নোঙরে জাহাজ আটকে আছে, জেটিতে পণ্য খালাস হচ্ছে না। ১৯টি অফডক থেকে কনটেইনার পরিবহনও বন্ধ। 

বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী এবং বিজিএমইএ-এর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামনে রমজান শবে বরাত থাকায় নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ সতর্ক করেছেন যে, এই অচলাবস্থা জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

বর্তমানে বন্দর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ধীরগতিতে কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।



এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : চুক্তি নৌ উপদেষ্টা চট্টগ্রাম বন্দর

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


দেশের স্বার্থে চুক্তি সম্পন্ন হবে : নৌ উপদেষ্টা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের মুখে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) . এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘দেশের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করেই এই চুক্তি সম্পন্ন করা হবে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দমনে সরকার আপসহীন থাকবে’।

আজ বৃহস্পতিবার ( ফেব্রুয়ারি) সকালে নৌপরিবহন উপদেষ্টা চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করার পরপরই বন্দর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাঁর বন্দরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।

সকাল পৌনে ১১টার দিকে উপদেষ্টার গাড়ি বহর বন্দর ভবনের প্রবেশমুখে পৌঁছালে কয়েকশ আন্দোলনকারী সেটিকে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। সময় বিক্ষোভকারীরা উপদেষ্টার আগমন ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর সাথে চুক্তির বিরোধিতায় উত্তাল স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উপদেষ্টার যাত্রাপথ সুগম করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে বেশ বেগ পেতে হয়।

নৌ উপদেষ্টার গাড়ি বহর প্রায় ১৫ মিনিট বন্দর চত্বরে অবরুদ্ধ হয়ে থাকে। একপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনী পুলিশের কঠোর বেষ্টনী পার হয়ে তিনি বন্দর ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে উপদেষ্টা গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি হন এবং তাদের কথা শোনেন।

সেখানে উপস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ তোলেন যে, বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান বিগত দেড় বছরে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর বিভিন্নভাবে হয়রানি দমন-পীড়ন চালিয়েছেন। উপদেষ্টার সাথে শ্রমিক নেতাদের এই কথোপকথনের সময় পুরো এলাকা স্লোগানে প্রকম্পিত ছিল।

শ্রমিকরা অবিলম্বে চেয়ারম্যানের অপসারণ এবং এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবি জানান। এর জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আপনাদের সাথে ওয়ান-টু-ওয়ান কথা বলব। আপনাদের কথা শোনা হবে, তবে আপনাদেরও আমার কথা শুনতে হবে’।

এরপরে উপদেষ্টার আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা শান্ত হন এবং তিনি বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন।

বৈঠক শেষে নৌপরিবহন উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে জানান, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে বিদেশি বিনিয়োগ চুক্তি প্রয়োজনীয়। তিনি ইঙ্গিত দেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী চুক্তি সম্পন্ন হবে এবং এক্ষেত্রে কোনো ধরনের নাশকতা বা অহেতুক বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। সরকার বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে চলমান অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি আগামীকাল শুক্রবার শনিবার স্থগিত করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

নৌপরিবহন উপদেষ্টার সাথে আলোচনার পর দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে আপাতত দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মূল দাবিবর্তমান চেয়ারম্যানের অপসারণ এবং এনসিটি ইজারা বাতিল করা না হলে, ফের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামসহ লাগাতার কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে জানান, উপদেষ্টার আশ্বাসে তারা সম্মান দেখিয়ে আগামী শুক্রবার শনিবারের আন্দোলন স্থগিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রশাসনকে দুই দিন সময় দিয়েছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ না হয়, তবে পুনরায় কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।

গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। দেশের মোট রপ্তানির ৯১ শতাংশ এই বন্দর দিয়ে হয়, যা এখন বন্ধ। বহির্নোঙরে জাহাজ আটকে আছে, জেটিতে পণ্য খালাস হচ্ছে না। ১৯টি অফডক থেকে কনটেইনার পরিবহনও বন্ধ। 

বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী এবং বিজিএমইএ-এর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামনে রমজান শবে বরাত থাকায় নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ সতর্ক করেছেন যে, এই অচলাবস্থা জাতীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

বর্তমানে বন্দর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ধীরগতিতে কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।



এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত