মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতির প্রভাব দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহে পড়েছে। ফলে তেলের সংকটে বিপাকে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কৃষকরা। বিশেষ করে ধানের ফুল আসার সময়ে প্রয়োজন মতো তেলের অভাবে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। এমন অবস্থা চলতে থাকলে বড় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকরা জানান, বর্তমানে ধান ক্ষেতে ফুল আসার সময় হয়ে এসেছে। এখন সবসময় জমিতে পানি রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসন খুচরা বিক্রেতাদের তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় কৃষকদের পাম্প থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল নিতে হচ্ছে। সেটি চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
উপজেলার পারদামুড়হুদা গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘স্যালো মেশিন দিয়ে দুই বিঘা ধান ও দুই বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদ করি। এছাড়া আমার দুই ভায়ের একই মেশিনে ৭-৮ বিঘা ধান ও ভুট্টা রয়েছে। ধানে ফুল আসা শুরু হয়েছে ভুট্টার ও মোচা এসে গেছে। এখন ধান ক্ষেতে সবসময় পানি রাখা প্রয়োজন। পানি না থাকলে ধান ঠিকমতো ফুলবে না। প্রতিদিন যেখানে ৬-৭ লিটার তেল প্রয়োজন, সেখানে পাম্প থেকে মাত্র ৩-৪ লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে করে ঠিকমতো সেচ দিতে পারছিনা।’
মেসার্স আলিফ অটো মোবাইল হাউজের প্রোপাইটার আলিফ হোসেন জানান, ‘আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত তেল মজুদ আছে ততক্ষণ পর্যন্ত সবার মাঝে তেল সরবরাহ করব। এজন্য অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিচ্ছেন। গ্রাহকদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করছি।’
দামুড়হুদা দশমী পাড়ার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমর ১০ বিঘা জমির আমবাগানে সেচ দেব পাম্পে তেল নেই। ২দিন ধরে বিভিন্ন দোকানে ঘুরে ডিজেল পায়নি।’
দামুড়হুদা ফিলিং স্টেশনের মালিক শাজাহান আলী বলেন, ‘বর্তমানে সরবরাহ কম থাকায় কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন ‘
শাজাহান আলী আরো জানান, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট চলতে পারে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তেলের সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানান, যাতে কৃষকরা তাদের জমিতে সেচ দিতে পারেন এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত না হয়।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, ‘বর্তমানে ধান গাছে ফুল আসার সময় হওয়ায় ক্ষেতে পানি জমিয়ে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের এই সমস্যা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, যাতে কৃষকরা চাহিদামত জ্বালানি পেয়ে সময় মত সেচ দিতে পারেন এবং ধানের উৎপাদনে কোনো ক্ষতি না হয়।’
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
বিষয় : কৃষক সংকট চুয়াডাঙ্গা জ্বালানি তেল
.png)
শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতির প্রভাব দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহে পড়েছে। ফলে তেলের সংকটে বিপাকে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কৃষকরা। বিশেষ করে ধানের ফুল আসার সময়ে প্রয়োজন মতো তেলের অভাবে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকরা। এমন অবস্থা চলতে থাকলে বড় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকরা জানান, বর্তমানে ধান ক্ষেতে ফুল আসার সময় হয়ে এসেছে। এখন সবসময় জমিতে পানি রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসন খুচরা বিক্রেতাদের তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় কৃষকদের পাম্প থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল নিতে হচ্ছে। সেটি চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
উপজেলার পারদামুড়হুদা গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘স্যালো মেশিন দিয়ে দুই বিঘা ধান ও দুই বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদ করি। এছাড়া আমার দুই ভায়ের একই মেশিনে ৭-৮ বিঘা ধান ও ভুট্টা রয়েছে। ধানে ফুল আসা শুরু হয়েছে ভুট্টার ও মোচা এসে গেছে। এখন ধান ক্ষেতে সবসময় পানি রাখা প্রয়োজন। পানি না থাকলে ধান ঠিকমতো ফুলবে না। প্রতিদিন যেখানে ৬-৭ লিটার তেল প্রয়োজন, সেখানে পাম্প থেকে মাত্র ৩-৪ লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে করে ঠিকমতো সেচ দিতে পারছিনা।’
মেসার্স আলিফ অটো মোবাইল হাউজের প্রোপাইটার আলিফ হোসেন জানান, ‘আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত তেল মজুদ আছে ততক্ষণ পর্যন্ত সবার মাঝে তেল সরবরাহ করব। এজন্য অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিচ্ছেন। গ্রাহকদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করছি।’
দামুড়হুদা দশমী পাড়ার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমর ১০ বিঘা জমির আমবাগানে সেচ দেব পাম্পে তেল নেই। ২দিন ধরে বিভিন্ন দোকানে ঘুরে ডিজেল পায়নি।’
দামুড়হুদা ফিলিং স্টেশনের মালিক শাজাহান আলী বলেন, ‘বর্তমানে সরবরাহ কম থাকায় কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন ‘
শাজাহান আলী আরো জানান, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট চলতে পারে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তেলের সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানান, যাতে কৃষকরা তাদের জমিতে সেচ দিতে পারেন এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত না হয়।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, ‘বর্তমানে ধান গাছে ফুল আসার সময় হওয়ায় ক্ষেতে পানি জমিয়ে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের এই সমস্যা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, যাতে কৃষকরা চাহিদামত জ্বালানি পেয়ে সময় মত সেচ দিতে পারেন এবং ধানের উৎপাদনে কোনো ক্ষতি না হয়।’
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন