জুলাই ২৪ আন্দোলনে ছাত্র হত্যার অন্যতম উস্কানি দাতা আওয়ামী লীগ পন্থী শিক্ষক আ ক ম জামাল এর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি জুলাইয়ের ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনকে রাজাকারদের পদক্ষেপ ট্যাগ দিয়ে স্বঘোষিত রাজাকারের বাচ্চাগুলোরে ধইরা ধইরা ব্রাশফায়ার দিতে হবে এমন ঘোষণার অভিযোগে অভিযুক্ত বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় গত ১১ ডিসেম্বর তো উক্ত শিক্ষক ঢাবি ক্যাম্পাসে এক গোপন বৈঠক করতে আসলে ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের তাকে ধাওয়া করে। বিষয়টা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক বিশ্লেষণ হচ্ছে।
মূলত এই ধরনের বক্তব্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তিগোষ্ঠীকে টার্গেট করে এবং তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হিংসা ও হত্যার উস্কানি দেয়। এর ফলে সমাজে এক গভীর বিভেদ সৃষ্টি হয়। মানুষজন 'আমরা' এবং 'ওরা' এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, যা পারস্পরিক ঘৃণা ও অবিশ্বাসকে তীব্র করে তোলে। তাই এমন ঘৃণ্য মন-মানসিকতার শিক্ষককে সমাজ থেকে সম্মিলিতভাবে বর্জন করা এখন সময়ের দাবি।
যখন কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে 'ব্রাশফায়ার' বা হত্যার মতো সহিংসতা প্রয়োগের কথা বলা হয়, তখন সমাজে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। এটি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে, যা সামগ্রিকভাবে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে। সমাজের অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করে এমন কোন শিক্ষককে এ জাতি কখনোই মেনে নেয়নি।
গণতন্ত্রে আইনের শাসনই হলো ভিত্তি। এই ধরনের বক্তব্য বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করে এবং জনগণকে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে উৎসাহিত করে। এটি প্রমাণ করে যে শিক্ষক জামাল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করছেন, যা একটি সভ্য সমাজের জন্য চরমভাবে বিপজ্জনক।
যখন প্রকাশ্যে এমন চরম বক্তব্য দেওয়া হয়, তখন এটি সমাজে ঘৃণাত্মক বক্তব্য (Hate Speech) ও চরমপন্থার ধারণাকে স্বাভাবিক করে তোলে। এর ফলে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ বিনা দ্বিধায় কুরুচিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করতে শুরু করে, যা সামাজিক পরিবেশকে বিষাক্ত করে তোলে।
বক্তব্যের ভাষা যত বেশি উগ্র হয়, বাস্তবে সহিংসতা ঘটার ঝুঁকি তত বেড়ে যায়। "ধইরা ধইরা ব্রাশফায়ার" দেওয়ার মতো শব্দচয়ন কারো উপর আক্রমণ করতে সরাসরি অনুপ্রাণিত করতে পারে।
এই বক্তব্যের টার্গেটে থাকা মানুষজন (তাদের পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা) তীব্র মানসিক চাপ, ট্রমা ও আতঙ্কে ভোগেন। তাদের বাকস্বাধীনতার অধিকার খর্ব হয় এবং তারা সমাজে নিজেদেরকে অরক্ষিত বোধ করেন।
এই ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই সামাজিক সংলাপের অংশ হতে পারে না। এটি একটি সভ্য সমাজে ঘৃণা, সহিংসতা এবং নৈরাজ্যের বীজ বপন করে, যা গণতন্ত্রের মূলনীতির পরিপন্থী। একটি সুস্থ সমাজ গঠনে এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য।
বিষয় : ঢাবি জুলাই আন্দোলন
.png)
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
জুলাই ২৪ আন্দোলনে ছাত্র হত্যার অন্যতম উস্কানি দাতা আওয়ামী লীগ পন্থী শিক্ষক আ ক ম জামাল এর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি জুলাইয়ের ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনকে রাজাকারদের পদক্ষেপ ট্যাগ দিয়ে স্বঘোষিত রাজাকারের বাচ্চাগুলোরে ধইরা ধইরা ব্রাশফায়ার দিতে হবে এমন ঘোষণার অভিযোগে অভিযুক্ত বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় গত ১১ ডিসেম্বর তো উক্ত শিক্ষক ঢাবি ক্যাম্পাসে এক গোপন বৈঠক করতে আসলে ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের তাকে ধাওয়া করে। বিষয়টা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক বিশ্লেষণ হচ্ছে।
মূলত এই ধরনের বক্তব্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তিগোষ্ঠীকে টার্গেট করে এবং তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হিংসা ও হত্যার উস্কানি দেয়। এর ফলে সমাজে এক গভীর বিভেদ সৃষ্টি হয়। মানুষজন 'আমরা' এবং 'ওরা' এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, যা পারস্পরিক ঘৃণা ও অবিশ্বাসকে তীব্র করে তোলে। তাই এমন ঘৃণ্য মন-মানসিকতার শিক্ষককে সমাজ থেকে সম্মিলিতভাবে বর্জন করা এখন সময়ের দাবি।
যখন কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে 'ব্রাশফায়ার' বা হত্যার মতো সহিংসতা প্রয়োগের কথা বলা হয়, তখন সমাজে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। এটি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে, যা সামগ্রিকভাবে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে। সমাজের অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করে এমন কোন শিক্ষককে এ জাতি কখনোই মেনে নেয়নি।
গণতন্ত্রে আইনের শাসনই হলো ভিত্তি। এই ধরনের বক্তব্য বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করে এবং জনগণকে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে উৎসাহিত করে। এটি প্রমাণ করে যে শিক্ষক জামাল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করছেন, যা একটি সভ্য সমাজের জন্য চরমভাবে বিপজ্জনক।
যখন প্রকাশ্যে এমন চরম বক্তব্য দেওয়া হয়, তখন এটি সমাজে ঘৃণাত্মক বক্তব্য (Hate Speech) ও চরমপন্থার ধারণাকে স্বাভাবিক করে তোলে। এর ফলে আরও বেশি সংখ্যক মানুষ বিনা দ্বিধায় কুরুচিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করতে শুরু করে, যা সামাজিক পরিবেশকে বিষাক্ত করে তোলে।
বক্তব্যের ভাষা যত বেশি উগ্র হয়, বাস্তবে সহিংসতা ঘটার ঝুঁকি তত বেড়ে যায়। "ধইরা ধইরা ব্রাশফায়ার" দেওয়ার মতো শব্দচয়ন কারো উপর আক্রমণ করতে সরাসরি অনুপ্রাণিত করতে পারে।
এই বক্তব্যের টার্গেটে থাকা মানুষজন (তাদের পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা) তীব্র মানসিক চাপ, ট্রমা ও আতঙ্কে ভোগেন। তাদের বাকস্বাধীনতার অধিকার খর্ব হয় এবং তারা সমাজে নিজেদেরকে অরক্ষিত বোধ করেন।
এই ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই সামাজিক সংলাপের অংশ হতে পারে না। এটি একটি সভ্য সমাজে ঘৃণা, সহিংসতা এবং নৈরাজ্যের বীজ বপন করে, যা গণতন্ত্রের মূলনীতির পরিপন্থী। একটি সুস্থ সমাজ গঠনে এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য।
.png)
আপনার মতামত লিখুন