সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল বলেছেন, “আমি ক্ষমতার এমপি নই, আমি জনতার এমপি হতে চাই। এলাকার দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ‘সেফ সুনামগঞ্জ, সেভ সুনামগঞ্জ’ গড়তে চাই।”
আজ বৃহস্পতিবার
(৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সুনামগঞ্জ শহিদ জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নুরুল ইসলাম নুরুল।
নির্বাচনী
ইশতেহারে নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় উন্নয়ন সমতায় পিছিয়ে রয়েছে সুনামগঞ্জ, উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। আমি
নির্বাচিত হলে অবহেলিত এই এলাকাকে একটি নিরাপদ ও মর্যাদাশীল এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে কর্মসংস্থানমুখী জনপদে রূপান্তর করব’।
নির্বাচনী জনসভায় তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে ১১ দফার এক সাহসী ইশতেহার ঘোষণা করেন। তাঁর প্রধান অঙ্গীকার
গুলোর মধ্যে
রয়েছে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ জনপদ গড়ে তোলা; যেখানে নারী, শিশু ও প্রবীণসহ সর্বস্তরের মানুষ সুরক্ষিত থাকবেন। হাওর অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় তিনি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ এবং বজ্রপাত থেকে জানমাল রক্ষায় নিরোধক দণ্ড নির্মাণের আশ্বাস দেন। এছাড়া ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি রোধ, কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে সার-বীজ সরবরাহ এবং একটি জবাবদিহিমূলক জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকারও ফুটে ওঠে তাঁর এই ইশতেহারে।
নির্বাচনী
ইশতেহারে কৃষকের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এই প্রার্থী। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া হাওর অঞ্চলে মাছ ও হাঁস পালনে বিশেষ সরকারি সহায়তা প্রদান এবং কৃষিপণ্য বিক্রিতে দালাল ও ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে সরাসরি বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার আশ্বাস দেন নুরুল।
অঞ্চলের যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি উত্তর সুরমা সেতু ও পৈন্দা নদীতে সেতু নির্মাণ এবং ফতেপুরের সাথে বিশ্বম্ভরপুরের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো দুর্যোগে দ্রুত উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলেন তিনি।
তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়তে নুরুল তাঁর ইশতেহারে কর্মমুখী কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ করার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভার বিকাশে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়কে জেলা ক্রীড়া উন্নয়নের সাথে সমন্বিত করার এক আধুনিক রূপরেখা তুলে ধরেন এই এমপি প্রার্থী।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার হাওর ভিত্তিক শিল্প উন্নয়ন, যুবকদের জন্য কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সহযোগিতা, প্রবাসীদের অধিকার ও পুনর্বাসনে সহায়তা করা হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন, সরকারি কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর; মা ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়ন; সদর ও বিশ্বম্ভরপুর হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা যুগোপযোগীকরণ, প্রত্যন্ত এলাকায় মোবাইল ও নৌ অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুর্নীতি ও সেবা বিষয়ে হয়রানি বন্ধ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা, জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাগ্রহণের অঙ্গীকার করেন তিনি। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনয়নসহ সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন।
পরিবেশ
রক্ষা করে ব্যবসা বান্ধব পর্যটনের উদ্যোগ গ্রহণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার, ইকোট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা গ্রহণসহ বালু মহালে পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। এ ছাড়াও তরুণ, নারীদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নেও কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
এসময়
জেলা বিএনপি নেতা আতম সালেহ, অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, অ্যাডভোকেট শেরেনূর আলী, পৌর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ, কাজী নাসিম উদ্দিন লালা, শোয়েব আহমদ, সোহেল আহমদ, ফারুক আহমদ লিলু, মোনাজ্জির হোসেন সুজন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৪ আসন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ নানা দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজপথের একজন কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত
তিনি।
বিষয় : এমপি নুরুল ইসলাম জনতা
.png)
বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল বলেছেন, “আমি ক্ষমতার এমপি নই, আমি জনতার এমপি হতে চাই। এলাকার দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ‘সেফ সুনামগঞ্জ, সেভ সুনামগঞ্জ’ গড়তে চাই।”
আজ বৃহস্পতিবার
(৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সুনামগঞ্জ শহিদ জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নুরুল ইসলাম নুরুল।
নির্বাচনী
ইশতেহারে নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় উন্নয়ন সমতায় পিছিয়ে রয়েছে সুনামগঞ্জ, উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। আমি
নির্বাচিত হলে অবহেলিত এই এলাকাকে একটি নিরাপদ ও মর্যাদাশীল এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে কর্মসংস্থানমুখী জনপদে রূপান্তর করব’।
নির্বাচনী জনসভায় তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে ১১ দফার এক সাহসী ইশতেহার ঘোষণা করেন। তাঁর প্রধান অঙ্গীকার
গুলোর মধ্যে
রয়েছে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ জনপদ গড়ে তোলা; যেখানে নারী, শিশু ও প্রবীণসহ সর্বস্তরের মানুষ সুরক্ষিত থাকবেন। হাওর অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় তিনি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ এবং বজ্রপাত থেকে জানমাল রক্ষায় নিরোধক দণ্ড নির্মাণের আশ্বাস দেন। এছাড়া ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি রোধ, কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে সার-বীজ সরবরাহ এবং একটি জবাবদিহিমূলক জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকারও ফুটে ওঠে তাঁর এই ইশতেহারে।
নির্বাচনী
ইশতেহারে কৃষকের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এই প্রার্থী। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া হাওর অঞ্চলে মাছ ও হাঁস পালনে বিশেষ সরকারি সহায়তা প্রদান এবং কৃষিপণ্য বিক্রিতে দালাল ও ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে সরাসরি বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলার আশ্বাস দেন নুরুল।
অঞ্চলের যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি উত্তর সুরমা সেতু ও পৈন্দা নদীতে সেতু নির্মাণ এবং ফতেপুরের সাথে বিশ্বম্ভরপুরের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো দুর্যোগে দ্রুত উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলেন তিনি।
তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়তে নুরুল তাঁর ইশতেহারে কর্মমুখী কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ করার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভার বিকাশে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়কে জেলা ক্রীড়া উন্নয়নের সাথে সমন্বিত করার এক আধুনিক রূপরেখা তুলে ধরেন এই এমপি প্রার্থী।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার হাওর ভিত্তিক শিল্প উন্নয়ন, যুবকদের জন্য কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ সহযোগিতা, প্রবাসীদের অধিকার ও পুনর্বাসনে সহায়তা করা হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন, সরকারি কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর; মা ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়ন; সদর ও বিশ্বম্ভরপুর হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা যুগোপযোগীকরণ, প্রত্যন্ত এলাকায় মোবাইল ও নৌ অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুর্নীতি ও সেবা বিষয়ে হয়রানি বন্ধ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, দলীয় প্রভাবমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করা, জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাগ্রহণের অঙ্গীকার করেন তিনি। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনয়নসহ সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন।
পরিবেশ
রক্ষা করে ব্যবসা বান্ধব পর্যটনের উদ্যোগ গ্রহণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সদ্ব্যবহার, ইকোট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা গ্রহণসহ বালু মহালে পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। এ ছাড়াও তরুণ, নারীদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নেও কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
এসময়
জেলা বিএনপি নেতা আতম সালেহ, অ্যাডভোকেট মাসুক আলম, অ্যাডভোকেট শেরেনূর আলী, পৌর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ, কাজী নাসিম উদ্দিন লালা, শোয়েব আহমদ, সোহেল আহমদ, ফারুক আহমদ লিলু, মোনাজ্জির হোসেন সুজন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৪ আসন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ নানা দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজপথের একজন কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত
তিনি।
.png)
আপনার মতামত লিখুন