আইন
বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘দেশে গত ১৫ বছর আমরা
ভোট দিতে পারিনি, তরুণরা ভোট দিতে পারেনি। দেশে সরকারে কে আসবে, সংসদে কারা আসবে তা
একজন খুনি ঠিক করে দিত। তার মতামত চাপিয়ে দেওয়ার জন্য ছাত্র-জনতা, তরুণদের হত্যা করত।
আয়নাঘরে, গুমঘরে, মিথ্যা মামলা দিয়ে বন্দি করে রাখত। এই
জুলুম-নিপীড়ন, হত্যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ রুখে দাঁড়ায়। অনেক
রক্তের বিনিময়ে আজকে আমরা ভোটের ও নতুন করে দেশ গড়ার অধিকার পেয়েছি।’
আজ
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করা, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত এবং গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের পরিবেশ
নিশ্চিত করা এবং গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ সংক্রান্ত মতবিনিময়
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। গাইবান্ধা স্টেডিয়াম
সংলগ্ন ইনডোর স্টেডিয়ামে বিকেলে জেলা প্রশাসন এই সভার আয়োজন করে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আসিফ
নজরুল বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা যে দলকে, যে প্রার্থীকে ইচ্ছা ভোট দেবেন। শেখ
হাসিনা ভোটে বাধার সৃষ্টি করেছিল। আমরা শেখ হাসিনার নীতি অবলস্বন করব না। এবার দুটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নির্বাচন ও গণভোট একই সঙ্গে
অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং প্রবাসী ভাইরা ভোট দিতে পারছেন—এটি অনেক বড় ঘটনা।’
তিনি
আরও বলেন, ‘গণভোট কোনো দলের পক্ষে-বিপক্ষে নয়, এটি নতুন বাংলাদেশের পক্ষে। আমরা
এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে অনিয়ম থাকবে না, অবিচার থাকবে না, শোষণ থাকবে না এবং
বৈষম্য থাকবে না। গণভোটের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের পথ উন্মুক্ত
হবে যেখানে নিপীড়ন, অত্যাচার, নির্যাতন কিংবা কোনো ধরনের বৈষম্যের জায়গা থাকবে না।
সভায় সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন
শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মতবিনিময়সভার
আগে ড. আসিফ নজরুল বেলুন উড়িয়ে পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা ও ভোটার
সচেতনতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এদিকে
ড. আসিফ নজরুলের অনুষ্ঠানস্থলে আসার আগে থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন,
জুলাইযোদ্ধা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা শহীদ হাদির পোস্টার হাতে হত্যাকাণ্ডের বিচারের
দাবিতে ইনডোর স্টেডিয়ামে অবস্থান নেন। উপদেষ্টা
মঞ্চে আসার পর তারা স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় উপদেষ্টা তাদের শান্ত থাকার
আহ্বান জানান। তিনি বাস্তবতা বোঝাতে ছাত্রদের প্রতিনিধিদের তার সঙ্গে আলোচনায় বসার
আহ্বান জানান।
শহীদ
হাদি হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শহীদ হাদি হত্যার বিচার হবেই। বিচারের
দাবিতে যে কণ্ঠ উচ্চারিত হয়েছে তা জাগ্রত রাখতে হবে। যদি পুলিশের তদন্ত বা
চার্জশিট পছন্দ না হয়, তবে নারাজি পিটিশন দেওয়া যায়। ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিটের
ভিত্তিতে বিচার হলে বিচারও ক্রুটিপূর্ণ হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে, আদালত তার
কাজ করেছে, মন্ত্রণালয়ও দ্রুত বিচারকার্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
সঠিক বিচার থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসা হবে না।’
উপদেষ্টা
মঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার পর বক্তব্য বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনে গাইবান্ধার শহীদ সজলের মা
শাহিনা বেগম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দেলনের সদস্যসচিব বায়োজিদ বোস্তামী জিম ও
শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসান তুরাগ।
শহীদ
সজলের মা শাহিনা বেগম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জুলাই শহীদদের হত্যাকারীদের বিচার হয়নি।
নতুন করে হাদি হত্যার ঘটনায় আসামি পালানো ও বিচার না হওয়ায় আইন উপদেষ্টা দায়িত্ব
এড়াতে পারেন না।’
জিম
বলেন, ‘হাদি হত্যায় বিচারহীনতার ৩৮তম দিন আজ। আমরা বিচার চাইতে গেলেই চার্জশিটের
দোহাইসহ নানা দোহাই দেওয়া হয় কিন্তু এসব মুলা ঝোলানো কথায় কাজ হবে না। আমরা আইন
উপদেষ্টাসহ ইন্টেরিমসরকারকে জানাতে চাই বিপ্লবীদের কখনো দমিয়ে রাখা যায় না।’
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
বিষয় : বাংলাদেশে গণভোট আসিফ নজরুল
.png)
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
আইন
বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘দেশে গত ১৫ বছর আমরা
ভোট দিতে পারিনি, তরুণরা ভোট দিতে পারেনি। দেশে সরকারে কে আসবে, সংসদে কারা আসবে তা
একজন খুনি ঠিক করে দিত। তার মতামত চাপিয়ে দেওয়ার জন্য ছাত্র-জনতা, তরুণদের হত্যা করত।
আয়নাঘরে, গুমঘরে, মিথ্যা মামলা দিয়ে বন্দি করে রাখত। এই
জুলুম-নিপীড়ন, হত্যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ রুখে দাঁড়ায়। অনেক
রক্তের বিনিময়ে আজকে আমরা ভোটের ও নতুন করে দেশ গড়ার অধিকার পেয়েছি।’
আজ
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করা, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত এবং গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের পরিবেশ
নিশ্চিত করা এবং গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ সংক্রান্ত মতবিনিময়
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। গাইবান্ধা স্টেডিয়াম
সংলগ্ন ইনডোর স্টেডিয়ামে বিকেলে জেলা প্রশাসন এই সভার আয়োজন করে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আসিফ
নজরুল বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা যে দলকে, যে প্রার্থীকে ইচ্ছা ভোট দেবেন। শেখ
হাসিনা ভোটে বাধার সৃষ্টি করেছিল। আমরা শেখ হাসিনার নীতি অবলস্বন করব না। এবার দুটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নির্বাচন ও গণভোট একই সঙ্গে
অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং প্রবাসী ভাইরা ভোট দিতে পারছেন—এটি অনেক বড় ঘটনা।’
তিনি
আরও বলেন, ‘গণভোট কোনো দলের পক্ষে-বিপক্ষে নয়, এটি নতুন বাংলাদেশের পক্ষে। আমরা
এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে অনিয়ম থাকবে না, অবিচার থাকবে না, শোষণ থাকবে না এবং
বৈষম্য থাকবে না। গণভোটের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের পথ উন্মুক্ত
হবে যেখানে নিপীড়ন, অত্যাচার, নির্যাতন কিংবা কোনো ধরনের বৈষম্যের জায়গা থাকবে না।
সভায় সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন
শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মতবিনিময়সভার
আগে ড. আসিফ নজরুল বেলুন উড়িয়ে পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা ও ভোটার
সচেতনতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এদিকে
ড. আসিফ নজরুলের অনুষ্ঠানস্থলে আসার আগে থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন,
জুলাইযোদ্ধা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা শহীদ হাদির পোস্টার হাতে হত্যাকাণ্ডের বিচারের
দাবিতে ইনডোর স্টেডিয়ামে অবস্থান নেন। উপদেষ্টা
মঞ্চে আসার পর তারা স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় উপদেষ্টা তাদের শান্ত থাকার
আহ্বান জানান। তিনি বাস্তবতা বোঝাতে ছাত্রদের প্রতিনিধিদের তার সঙ্গে আলোচনায় বসার
আহ্বান জানান।
শহীদ
হাদি হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শহীদ হাদি হত্যার বিচার হবেই। বিচারের
দাবিতে যে কণ্ঠ উচ্চারিত হয়েছে তা জাগ্রত রাখতে হবে। যদি পুলিশের তদন্ত বা
চার্জশিট পছন্দ না হয়, তবে নারাজি পিটিশন দেওয়া যায়। ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিটের
ভিত্তিতে বিচার হলে বিচারও ক্রুটিপূর্ণ হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে, আদালত তার
কাজ করেছে, মন্ত্রণালয়ও দ্রুত বিচারকার্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
সঠিক বিচার থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসা হবে না।’
উপদেষ্টা
মঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার পর বক্তব্য বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনে গাইবান্ধার শহীদ সজলের মা
শাহিনা বেগম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দেলনের সদস্যসচিব বায়োজিদ বোস্তামী জিম ও
শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসান তুরাগ।
শহীদ
সজলের মা শাহিনা বেগম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জুলাই শহীদদের হত্যাকারীদের বিচার হয়নি।
নতুন করে হাদি হত্যার ঘটনায় আসামি পালানো ও বিচার না হওয়ায় আইন উপদেষ্টা দায়িত্ব
এড়াতে পারেন না।’
জিম
বলেন, ‘হাদি হত্যায় বিচারহীনতার ৩৮তম দিন আজ। আমরা বিচার চাইতে গেলেই চার্জশিটের
দোহাইসহ নানা দোহাই দেওয়া হয় কিন্তু এসব মুলা ঝোলানো কথায় কাজ হবে না। আমরা আইন
উপদেষ্টাসহ ইন্টেরিমসরকারকে জানাতে চাই বিপ্লবীদের কখনো দমিয়ে রাখা যায় না।’
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন