ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

এক প্রতিজ্ঞায় ১১ বছর: নিজাম উদ্দিনের বিদায়



এক প্রতিজ্ঞায় ১১ বছর: নিজাম উদ্দিনের বিদায়
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত খাবেন না নিজাম উদ্দিন (৬৫) ১১ বছর পাঁচ মাস সে প্রতিজ্ঞায় অটুটও ছিলেন তিনি। তবে আজ শুক্রবার ভোরে চিরবিদায় নিয়েছেন তিনি। নিজাম উদ্দিন ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত নুর আলী বক্সের ছেলে।

নিজাম উদ্দিন বলতেন, ‘আমি প্রতিজ্ঞা করেছিতারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরবেন এবং বিএনপি যেদিন ক্ষমতায় আসবেসেদিনই আমি ভাত খাব। তার আগে না। এতে আমার জীবন চলে গেলেও কোনো আফসোস নেই।’ কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হলোতারেক রহমান দেশে ফিরলেও বিএনপি এখনো ক্ষমতায় আসেনি। আর সেই অপেক্ষার মধ্যেই নিভে গেল নিজাম উদ্দিনের জীবনপ্রদীপ। প্রিয় নেতার সঙ্গে একবার দেখা করা  ভাত খাওয়ার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না তাঁর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়২০১৪ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মহেশপুরে বিএনপির একটি দোয়া মাহফিলে রান্নার দায়িত্বে ছিলেন নিজাম উদ্দিন। সে সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সেখানে এসে রান্না করা খিচুড়ির হাঁড়ি ফেলে দেন। সে ঘটনায় চরমভাবে অপমানিত হয়ে সেদিনই নিজাম উদ্দিন প্রতিজ্ঞা করেন। বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি আর ভাত খাবেন না। এরপর থেকে তিনি ভাত ছুঁয়েও দেখেননি। অনেকে তাঁকে ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করেছেনঅনুরোধ করেছেনঅর্থ দিতে চেয়েছেন। কিন্তু কোনো কিছুর কাছেই তিনি নতিস্বীকার করেননি।

পেশায় কাঠমিস্ত্রি নিজাম উদ্দিন নিজের আয়েই চলতেন। স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ে নিয়মিত যেতেন। শহীদ জিয়াউর রহমান  তারেক রহমানের ছবি পরিষ্কার করতেন। তাঁর ভাষায়দলই আমার পরিবারজিয়া পরিবারই আমার প্রেরণা। টাকায় আমাকে কেনা যাবে না। তাঁর স্বপ্ন ছিলবিএনপি ক্ষমতায় এলে ছাগল জবাই করে গ্রামবাসীকে ভাত খাওয়াবেন এবং তারেক রহমানের সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাবেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে আসে। তাঁর নির্দেশনায় নিজাম উদ্দিনকে ফরিদপুর  ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিছুটা সুস্থ হয়ে গ্রামে ফিরলেও পুরোপুরি আর সেরে উঠতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার ভোরে তিনি মারা যান।

নিজাম উদ্দিনের ছেলে শাহ আলম বলেন, ‘বাবাকে ভাত খাওয়ানোর জন্য পরিবার থেকে বহুবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি বলতেনপ্রতিজ্ঞা ভাঙলে আমি নিজের কাছে ছোট হয়ে যাব। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।’  বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ‘নিজাম উদ্দিনের এই আত্মত্যাগ দলীয় ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা সব সময় তাঁর পরিবারের পাশে থাকব।

 

এমএইছ / ধ্রুবকণ্ঠ

বিষয় : ঝিনাইদহ বিএনপি

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬


এক প্রতিজ্ঞায় ১১ বছর: নিজাম উদ্দিনের বিদায়

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত খাবেন না নিজাম উদ্দিন (৬৫) ১১ বছর পাঁচ মাস সে প্রতিজ্ঞায় অটুটও ছিলেন তিনি। তবে আজ শুক্রবার ভোরে চিরবিদায় নিয়েছেন তিনি। নিজাম উদ্দিন ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত নুর আলী বক্সের ছেলে।

নিজাম উদ্দিন বলতেন, ‘আমি প্রতিজ্ঞা করেছিতারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরবেন এবং বিএনপি যেদিন ক্ষমতায় আসবেসেদিনই আমি ভাত খাব। তার আগে না। এতে আমার জীবন চলে গেলেও কোনো আফসোস নেই।’ কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হলোতারেক রহমান দেশে ফিরলেও বিএনপি এখনো ক্ষমতায় আসেনি। আর সেই অপেক্ষার মধ্যেই নিভে গেল নিজাম উদ্দিনের জীবনপ্রদীপ। প্রিয় নেতার সঙ্গে একবার দেখা করা  ভাত খাওয়ার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না তাঁর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়২০১৪ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মহেশপুরে বিএনপির একটি দোয়া মাহফিলে রান্নার দায়িত্বে ছিলেন নিজাম উদ্দিন। সে সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সেখানে এসে রান্না করা খিচুড়ির হাঁড়ি ফেলে দেন। সে ঘটনায় চরমভাবে অপমানিত হয়ে সেদিনই নিজাম উদ্দিন প্রতিজ্ঞা করেন। বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি আর ভাত খাবেন না। এরপর থেকে তিনি ভাত ছুঁয়েও দেখেননি। অনেকে তাঁকে ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা করেছেনঅনুরোধ করেছেনঅর্থ দিতে চেয়েছেন। কিন্তু কোনো কিছুর কাছেই তিনি নতিস্বীকার করেননি।

পেশায় কাঠমিস্ত্রি নিজাম উদ্দিন নিজের আয়েই চলতেন। স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ে নিয়মিত যেতেন। শহীদ জিয়াউর রহমান  তারেক রহমানের ছবি পরিষ্কার করতেন। তাঁর ভাষায়দলই আমার পরিবারজিয়া পরিবারই আমার প্রেরণা। টাকায় আমাকে কেনা যাবে না। তাঁর স্বপ্ন ছিলবিএনপি ক্ষমতায় এলে ছাগল জবাই করে গ্রামবাসীকে ভাত খাওয়াবেন এবং তারেক রহমানের সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাবেন। গত বছরের অক্টোবর মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে আসে। তাঁর নির্দেশনায় নিজাম উদ্দিনকে ফরিদপুর  ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিছুটা সুস্থ হয়ে গ্রামে ফিরলেও পুরোপুরি আর সেরে উঠতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার ভোরে তিনি মারা যান।

নিজাম উদ্দিনের ছেলে শাহ আলম বলেন, ‘বাবাকে ভাত খাওয়ানোর জন্য পরিবার থেকে বহুবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি বলতেনপ্রতিজ্ঞা ভাঙলে আমি নিজের কাছে ছোট হয়ে যাব। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।’  বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, ‘নিজাম উদ্দিনের এই আত্মত্যাগ দলীয় ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা সব সময় তাঁর পরিবারের পাশে থাকব।

 

এমএইছ / ধ্রুবকণ্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত